রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

মাহিদুরের আপিল, আফসার করেননি

প্রকাশিত : ১৭ জুন ২০১৫, ০৪:১১ পি. এম.

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করেছেন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের মাহিদুর রহমান। তিনি একটি মামলায় আফসার হোসেন চুটুর সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর রায়ে এ দণ্ড পেয়েছিলেন।

বুধবার মাহিদুর রহমানের আইনজীবী আব্দুস সাত্তার খান জানান, ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে খালাস চেয়ে মঙ্গলবার (১৬ জুন) আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল আবেদনটি জমা দিয়েছেন তিনি। তবে মাহিদুর রহমানের পক্ষে আপিল করা হয়েছে। অপর দণ্ডপ্রাপ্ত আফসার হোসেন চুটু এখনো আপিল করেননি।

৬০ পৃষ্ঠার মূল আপিলের সঙ্গে ৫০০ পৃষ্ঠার দলিলপত্র জমা দিয়েছেন আসামিপক্ষ।

গত ২০ মে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে শিবগঞ্জ উপজেলায় মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনকারী মাহিদুর- আফসারকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, বিচারপতি মো. মুজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি শাহীনুর ইসলামের সমন্বয়ে ৩ সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২। তাদের বিরুদ্ধে আনা মোট ২৮ জনকে হত্যা-গণহত্যা, আরো ১৫ জনকে আটক, অপহরণ ও নির্যাতন এবং শতাধিক বাড়িতে লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগের তিনটির মধ্যে দু’টি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।

অভিযোগ তিনটির মধ্যে এক ও দুই নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এবং তিন নম্বর অভিযোগ গ্রহণ করা হয়নি বলে রায়ে উল্লেখ করেছেন ট্রাইব্যুনাল। একই অভিযোগে দুই আসামি স্বাধীনতার পরেই দালাল আইনে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তারা দণ্ড ভোগ করায় তিন নম্বর অভিযোগটি গ্রহণ করেননি ট্রাইব্যুনাল।

এক নম্বর অভিযোগে শিবগঞ্জের বিভিন্ন গ্রামের ৩৯ জনকে আটক ও অপহরণ করে ২৪ জনকে গণহত্যার দায়ে সর্বসম্মতভাবে আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন বিচারপতিরা। দুই নম্বর অভিযোগে দুই গ্রামের ৭০টি বাড়িতে লুণ্ঠনের পর অগ্নিসংযোগের দায়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে আরও পাঁচ বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন তারা। গ্রহণ না করা তিন নম্বর অভিযোগটি ছিল চারজনকে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা এবং বিভিন্ন বাড়ি-ঘরে লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ করা সংক্রান্ত।

রায়ে বলা হয়েছে, শিবগঞ্জ উপজেলার দুর্লভপুর ইউনিয়নের দাদনচক গ্রামের মাহিদুর রহমান ও বিনোদপুর ইউনিয়নের সাতরশিয়া গ্রামের আফসার হোসেন চুটু একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামকে অস্বীকার করে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীকে সহযোগিতা করার জন্য সশস্ত্র রাজাকার বাহিনীতে যোগদান করেন। রাজাকার বাহিনীর প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর তারা চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানার আদিনা ফজলুল হক ডিগ্রি কলেজ দখল করে সেখানে রাজাকার ক্যাম্প স্থাপন করেন। এরপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থেকে ওই এলাকায় নানা মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেন।

দুই ট্রাইব্যুনাল থেকে রায় ঘোষিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ১৯ মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত ২১ আসামির মধ্যে এটি আপিল বিভাগে করা ১৫তম মামলা। এর মধ্যে একটি মামলায় পলাতক জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল জব্বারের আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ দণ্ডের আরজিতে আপিল করেছেন রাষ্ট্রপক্ষ, বাকিগুলো হয়েছে আসামিপক্ষ থেকে।

১৫ মামলার মধ্যে ৯০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের সাবেক আমির প্রয়াত গোলাম আযম ও আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপির সাবেক নেতা সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত আব্দুল আলীম দণ্ড ভোগরত অবস্থায় স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করায় এ দু’জনের আপিল অকার্যকর হয়ে গেছে।

আপিল মামলাগুলোর মধ্যে চারটির চূড়ান্ত রায় ইতোমধ্যেই ঘোষিত হয়ে বর্তমানে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের সাকা চৌধুরীর ৫মটির আপিল শুনানি চলছে। চূড়ান্ত রায়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল থাকা তিনজনের মধ্যে দু’জনের দণ্ডও কার্যকর হয়ে গেছে। তারা হচ্ছেন- জামায়াতের দুই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লা ও মোহাম্মদ কামারুজ্জামান। অন্যজন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের রায় মঙ্গলবার (১৬ জুন) সংক্ষিপ্তাকারে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। অন্যদিকে জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে ট্রাইব্যুনাল ফাঁসির আদেশ দিলেও সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। এটির পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হলে মৃত্যুদণ্ডাদেশ পুনর্বহালে রিভিউ করবেন রাষ্ট্রপক্ষ।

জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী, নায়েবে আমির আবদুস সুবহান, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলাম, কর্মপরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা ও জামায়াতের সাবেক রোকন মোবারক হোসেন এবং জাতীয় পার্টির সাবেক প্রতিমন্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সার বাকি ছয়টি আপিল মামলারও শুনানি শুরুর অপেক্ষায় রয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কিশোরগঞ্জের তাড়াইল থানার রাজাকার কমান্ডার পলাতক সৈয়দ মো. হাসান আলী ওরফে হাছেন আলী রায় ঘোষণার একমাসের মধ্যে আপিল করার সুযোগ পাবেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বাকি তিন মামলার পলাতক চার আসামি জামায়াত নেতা বুদ্ধিজীবী হত্যার দুই ঘাতক আশরাফুজ্জামান খান ও চৌধুরী মাঈনুদ্দিন, জামায়াতের সাবেক রোকন (সদস্য) আবুল কালাম আজাদ বাচ্চু রাজাকার এবং ফরিদপুরের নগরকান্দা পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর বিএনপির সহ সভাপতি পলাতক জাহিদ হোসেন খোকন রাজাকার আপিল করেননি।

প্রকাশিত : ১৭ জুন ২০১৫, ০৪:১১ পি. এম.

১৭/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: