কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ব্লাটার-ফিফা সম্রাটের নাটক!

প্রকাশিত : ১৭ জুন ২০১৫
  • অতশী রহমান

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থায় (ফিফা) এখন হ-য-ব-র-ল অবস্থা। দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে সংস্থাটিতে চলছে অরাজক অবস্থা। পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পরও সেপ ব্লাটার পদত্যাগ করেছেন। এখন শোনা যাচ্ছে, পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করতে পারেন তিনি। পাশাপাশি পরবর্তী সভাপতি কে হতে পারেন সেটা নিয়েও চলছে গুঞ্জন। সবমিলিয়ে ফিফায় এখন টালমাটাল অবস্থা।

ব্লাটার তার পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করে ফের স্বপদে বহাল থাকার ঘোষণা দিতে পারেন বলে সম্প্রতি জানিয়েছে সুইজারল্যান্ডের একটি পত্রিকা। ব্লাটারের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে ‘স্কেউইজ এ্যাম সানটাগ’ পত্রিকা জানিয়েছে, আফ্রিকা ও এশিয়ান ফুটবল সংগঠনগুলোর কাছ থেকে স্বপদে বহাল থাকার জন্য অনুরোধ পেয়েছেন ব্লাটার। আফ্রিকা ও এশিয়ার সমর্থন পেয়ে ব্লাটার নিজেকে গর্বিত মনে করছেন এবং তাদের অনুরোধ রাখার বিষয়টি নাকচ করে দেননি। এ ব্যাপারে ফিফাকে ইমেইল করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোন জবাব পাওয়া যায়নি। চলতি মাসের শুরুতেই ফিফার সাবেক পরামর্শক মাইকেল হার্শম্যান আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, ব্লাটার শেষ পর্যন্ত থেকেও যেতে পারেন। কিছুদিন আগে ফিফার গণসংযোগ বিভাগের পরিচালক ওয়াল্টার ডি গ্রিগরিও পদত্যাগ করেছেন। সুইস পত্রিকাটির দাবি, ডি গ্রিগরিও চেয়েছিলেন ফিফায় পুরোপুরিই নতুন একটা সূচনা হোক এবং ব্লাটার যত দ্রুত সম্ভব পদ ছেড়ে দিন। সেটি নিয়েই মতবিরোধের জের ধরে ফিফাতে নেই ডি গ্রিগরিও।

তবে ফিফার নিরীক্ষা কমিটির প্রধান ডমিনিক স্কালা এসব গুঞ্জন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। নতুন সভাপতি নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া তত্ত্বাবধান করছেন স্কালা। তাঁর মতে, ফিফা পুনর্গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর একটি ব্লাটারের পদত্যাগ। কিন্তু সুইস পত্রিকাটির খবরে আবারও আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। গত ২ জুন বিশ্ব ফুটবল থেকে ব্লাটার যুগের অবসান হয়। আকস্মিকভাবে ফিফা সভাপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। কিন্তু সত্যিই কি ব্লাটারের শাসনামল শেষ হয়েছে? এমন প্রশ্ন এখন সবার কাছে। তবে বাস্তবিক দিক দিয়ে এখনও ফিফা প্রধান পদে বহাল আছেন সুইস এই ফুটবল বোদ্ধা। নতুন সভাপতি না হওয়া পর্যন্ত ফিফা প্রধানের দায়িত্ব পালন করে যাবেন ব্লাটার। আর সেটা হতে পারে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। কেননা এর আগে বিশেষ কংগ্রেসের মাধ্যমে নতুন সভাপতি হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। যে কারণে এখনও ফিফা প্রধান হিসেবে বহাল আছেন ব্লাটার।

ব্লাটার মসনদ ছাড়লেও ফিফার নিয়মানুযায়ী নতুন কংগ্রেস না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন হওয়া সম্ভব নয়। আর পরের ফিফার সাধারণ কংগ্রেস হবে মেক্সিকো সিটিতে ২০১৬ সালের ১৩ মে। এ কারণে ফিফার নির্বাহী কমিটিকে যত দ্রুত সম্ভব বিশেষ কংগ্রেস ডাকার অনুরোধ জানিয়েছেন ব্লাটার। বিশেষ এই কংগ্রেস বসতে পারে আগামী ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের মার্চের মধ্যে। আর এই সময় পর্যন্ত মসনদে থাকছেন ব্লাটারই। এমন বাস্তবতার মধ্যে আবার নতুন করে চাউর হয়েছে, সভাপতি হিসেবে বহাল থাকতে ভেতরে ভেতরে চেষ্টা করে চলেছেন ব্লাটার। যে কারণে দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত নাটকীয়তা কোন পর্যায়ে যায়।

ফিফার একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, নির্বাচনের মাধ্যমে পরবর্তী সভাপতি না হওয়া পর্যন্ত ব্লাটারই ফিফার সভাপতি থাকছেন। ফিফার ওই মুখপাত্র বলেছেন, সবকিছু আগের মতোই চলছে। যতক্ষণ নির্বাচনের মাধ্যমে তার (ব্লাটার) উত্তরসূরি না আসেন, ততদিন তিনিই ফিফা প্রেসিডেন্ট। রেকর্ড টানা পঞ্চমবার ফিফা সভাপতি হওয়ার মাত্র চারদিনের মধ্যে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ব্লাটার। এর কারণ হিসেবে তিনি জানান, সবাই সমর্থন না করায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এরপরও দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন তিনি। ফিফার সীমাহীন দুর্নীতি নিয়ে যে তোলপাড় হচ্ছে তার শীর্ষে আছে ভেন্যু নির্বাচন। এ নিয়ে বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার। এই বিতর্কে সবচেয়ে এগিয়ে আছে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ। তবে এবার বেরিয়ে আসছে ভেন্যু নির্ধারণে দুর্নীতির আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। ১৯৯৮ সালে ফ্রান্স ও ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় ভেন্যু নির্ধারণেও হয়েছে দুর্নীতি। যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে এ কথা স্বীকার করেছেন ফিফার সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা চাক ব্ল্যাজার। ফিফার এই কর্মকর্তার জবানবন্দির তথ্যকে সূত্র ধরেই যুক্তরাষ্ট্র অন্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে। তবে ঘটনা যাই হোক, ফিফায় ব্লাটারের প্রায় দেড় যুগের (১৭ বছর) রাজত্ব শেষ হওয়ার পর এখন আলোচনা পরবর্তী সভাপতি কে হচ্ছেন এটা নিয়ে। নতুন সভাপতি হওয়ার ক্ষেত্রে শীর্ষ নাম মিশেল প্লতিনি। ফরাসি গ্রেট ছাড়াও নাম শোনা যাচ্ছে জর্দানের প্রিন্স আলী বিন আল-হুসেইন, ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার জিকো, এমনকি আর্জেন্টাইন ফুটবল ঈশ্বর দিয়াগো ম্যারাডোনার। ফিফার ১১১ বছরের ইতিহাসে ব্লাটার হচ্ছেন সংস্থাটির অষ্টম সভাপতি। তাঁর আগে আরও সাতজন এই পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই আটজনের মধ্যে মাত্র তিনজন গত ৫৪ বছরে দায়িত্ব পালন করেছেন। ব্লাটারের ১৭ বছরের রাজত্বকালের চেয়েও দীর্ঘ ছিল ব্রাজিলীয় সভাপতি জোয়াও হ্যাভেলাঞ্জের দায়িত্বকাল। হ্যাভেলাঞ্জ ১৯৭৪ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত ফিফা প্রধান ছিলেন। হ্যাভেলাঞ্জের পর ১৯৯৮ সালে ফিফার অষ্টম সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব হাতে নেন ব্লাটার। কিন্তু তার বিদায়টা হলো বিতর্কের মধ্য দিয়ে। এই মুহূর্তে ব্লাটারের উত্তরসূরি হিসেবে প্লাতিনির নামই বেশি উচ্চারিত হচ্ছে। ফরাসি এই কিংবদন্তি ফুটবলার উয়েফার সভাপতি পদে অনেক দিন ধরেই সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। প্লাতিনির সঙ্গে আলোচনায় আছেন ব্রাজিলীয় ফুটবল গ্রেট জিকোর নাম। ব্লাটার পদত্যাগ করার পরপরই তিনি সভাপতি পদে লড়াই করার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। তিনটি বিশ্বকাপ খেলা এই কিংবদন্তি ক্রীড়ামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন নিজ দেশ ব্রাজিলেও। প্লাতিনি ও জিকোর পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকটি নাম শোনা যাচ্ছে। এই মিছিলে আছেন এবারের ফিফা সভাপতি নির্বাচনে ব্লাটারের একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী জর্দানের প্রিন্স আলী। আছে দুই ফরাসি জেরোমে শ্যাম্পেইন ও জেরোমে ভালকের নামও। এছাড়া জার্মানির উলফগ্যাং নিয়েরশব্যাচ ও ইতালির ডোমেনিকো স্কালাও লড়াই করতে পারেন ফিফার নতুন সভাপতি পদে। তবে সবচেয়ে আলোচিত নাম দিয়াগো ম্যারাডোনা। ব্লাটারর ঘোর বিরোধী আর্জেন্টাইন কিংবদন্তিও ফিফা সভাপতি পদে নির্বাচন করতে পারেন বলে চাউর হয়েছে। শুধু বিশ্ব ফুটবলেই নয়, বলা হয় গোটা বিশ্বের মধ্যেই ফিফা সবচেয়ে সুসংগঠিত ও প্রভাবশালী সংস্থা। কিন্তু এই সংস্থাতে দীর্ঘদিন ধরেই অনিয়মের অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। কিন্তু এর কোন প্রমাণ মিলছিল না। অবশেষে দুর্নীতির মহোৎসবের খবর উদঘাটন হয়েছে। বোমা ফাটানো সব খবর বের হয়েছে। এখন দেখার শেষ পর্যন্ত কি হয়।

প্রকাশিত : ১৭ জুন ২০১৫

১৭/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: