মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

আফ্রিকার দলগুলোকে হারানো কঠিন ॥ ওকোচা

প্রকাশিত : ১৭ জুন ২০১৫

বিউটি পারভীন ॥ আবারও ফুটবলে ফিরলেন অগাস্টিন আজুকা ওকোচা! ফুটবল বিশ্বে ‘জে জে’ ওকোচা নামে পরিচিত ৪১ বছর বয়সী এ মাঝমাঠের খেলোয়াড় সব ধরনের ফুটবল থেকে অবসর নিয়েছেন ২০১১ সালেই। তাই আবার খেলায় ফেরার ঘটনাটা চমকে ওঠার মতোই। তবে ফিরেছেন মানবতার কল্যাণে চ্যারিটি ম্যাচে। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত হওয়া ম্যাচটি খেলতে পেরে দারুণ উপভোগ করেছেন ওকোচা। পর্তুগীজ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো ও ফরাসী তারকা জিনেদিন জিদানের আহ্ববানে সাড়া দিয়ে সাবেক এ নাইজিরিয়ান গ্রেট চ্যারিটি ম্যাচটি খেলেন। ওকোচা খেলতে নেমে প্রমাণ করেছেন তার অবিস্মরণীয় দক্ষতা, জাদুকরী যোগ্যতা একটুও হারাননি। বিশ্বের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবন বাঁচানোর জন্য এবং ফুটবলের জন্য সব সময়ই ভালবাসা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তার সময়ে নাইজিরিয়ার সেরা ফুটবলার ছিলেন মিডফিল্ডার জে জে ওকোচা। তিনটি ফুটবল বিশ্বকাপ খেলেছেন, আফ্রিকান নেশন্স কাপ জিতেছেন ১৯৯৪ সালে এবং আটলান্টায় অলিম্পিক স্বর্ণ জিতেছেন। দীর্ঘদিন পর চ্যারিটি ম্যাচের মাধ্যমে ফুটবলে ফেরার পর এক দীর্ঘ সাক্ষাতকার দিয়েছেন ওকোচা। সেখান থেকে বিশেষ কিছু অংশ তুলে দেয়া হলোÑ

প্রশ্ন ॥ এ ধরনের চ্যারিটি ম্যাচে খেলাটা আপনার কাছে কেমন অনুভূতির?

ওকোচা ॥ এ ধরনের ইভেন্ট আমার কাছে অনেক বড় কিছু। আমরা যারা ফুটবলার তাদের জন্য এটা খুব ভাল সুযোগ মানুষকে কিছু ফিরিয়ে দেয়ার। আজীবন সাধারণ মানুষ আমাদের ভালবাসা দিয়েছেন, সমর্থন করেছেন। কাজেই জীবনকে আনন্দময় করার জন্য আমাদের মধ্যেও কিছু দেয়ার সুযোগ রয়েছে। এটা সত্যি খুব বড় এবং অপূর্ব পদক্ষেপ।

প্রশ্ন ॥ বিপুল দর্শকের সামনে খেলতে নেমে কতটা আনন্দ পেয়েছেন?

ওকোচা ॥ প্রচুর! এটা বিশেষ এক অনুভূতি এবং এটা এমন একটা জিনিস যা সবসময়ই মিস করি। খুবই চমৎকার ব্যাপার যে আবার আমি দৌড়াতে পারলাম এবং খেললাম এবং সুযোগ পেলাম জীবন সুন্দর সেটা উপভোগের মাধ্যমে টের পাওয়ার।

প্রশ্ন ॥ খেলোয়াড়ি জীবনে সবচেয়ে সুখকর স্মৃতি কি?

ওকোচা ॥ আমি আসলে খুব কমই পেয়েছি এবং সে কারণে তেমন কিছু নির্দিষ্টভাবে বের করে আনা অসম্ভব। মাঠে কাটানো প্রতিটি সেকেন্ডই আমার কাছে ভাল স্মৃতি। বল নিয়ে যখনই নিজেকে ভালভাবে মেলে ধরতে পেরেছি সেই সব মুহূর্তগুলো দারুণ। ফুটবল ক্যারিয়ারের প্রতিটা মুহূর্তই আমি উপভোগ করেছি। যতগুলো ক্লাবের হয়ে খেলেছি ভাল স্মৃতি ছাড়া কিছুই পাইনি।

প্রশ্ন ॥ অনেক ক্লাবের হয়ে খেলেছেন। নির্দিষ্ট কোন ক্লাব আছে যাদের হৃদয়ে রেখে দিয়েছেন?

ওকোচা ॥ হ্যাঁ, একটা ক্লাব আছে নির্দিষ্টভাবে যেটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সেটা কোন ক্লাব তা শোনার প্রত্যাশা করবেন না। আমি অন্য কোন ক্লাবকে হতাশ করতে চাই না। কারণ সবই আমার জন্য অনেক বড় কিছু। এ বিষয়ে এ কারণে আমি গোপনীয়তাই রাখছি।

প্রশ্ন ॥ যতগুলো গোল করেছেন নিজের কাছে কোনটি সবচেয়ে প্রিয় মনে হয়?

ওকোচা ॥ ১৯৯৩ সালে ফ্রাঙ্কফুর্টের হয়ে করা একটি গোল। আমি খুব তরুণ ছিলাম এবং তখন কোচ হিসেবে থাকা ক্লস টপমোলার কার্লসরুহের বিরুদ্ধে ম্যাচেও বেঞ্চে বসিয়ে রেখেছিলেন। আমি তাতেই খুশি ছিলাম। আমরা ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর আমাকে তিনি সুযোগ দেন নামার এবং আমার দায়িত্ব ছিল যতক্ষণ সম্ভব বল ধরে রাখা। পরে আমিই গোল পেয়ে যাই। ৪-৫ জন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গোলটি করেছিলাম এবং যার বিরুদ্ধে সেটা করেছি তা আজীবন মনে রাখার মতো। কারণ গোলরক্ষক হিসেবে ছিলেন অলিভার কান!

প্রশ্ন ॥ আপনার কি মনে হয় আফ্রিকার দেশগুলো ফুটবলে ইউরোপীয় এবং লাতিন আমেরিকার সঙ্গে ব্যবধানটা কমিয়ে আনছে?

ওকোচা ॥ আমার তাই মনে হয়। কিন্তু বড় সমস্যা হচ্ছে আমরা এখনও দীর্ঘ সময়ের জন্য নিজেদের ভাল অবস্থান ধরে রাখার ক্ষেত্রে খুবই কম পারদর্শী। আমরা বিশ্বকাপর কোয়ার্টার খেলেছি যেটা কোনভাবেই যথেষ্ট নয়। আরও অনেকদূর যেতে হবে। ইতোমধ্যেই পার্থক্যটা অনেক কমে গেছে। আফ্রিকান দলগুলোকে হারিয়ে দেয়া ক্রমেই আরও কঠিন হয়ে উঠছে।

প্রকাশিত : ১৭ জুন ২০১৫

১৭/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: