রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ব্যাটিং ব্যর্থতা-টেস্টে সেই পুরনো চিত্র

প্রকাশিত : ১৭ জুন ২০১৫
  • রোকসানা বেগম

যত শক্তিশালী দলই হোক বাংলাদেশের, সেই যে ২০০০ সাল থেকে ব্যাটিং দুর্দশা দেখা গেছে, তা অব্যাহতই রয়েছে। ভারতের বিপক্ষে বৃষ্টি বিঘিœত একমাত্র ড্র টেস্টে বাংলাদেশের ফলোঅনে পড়া, সেই চিত্রই ফুটিয়ে তুলেছে। যাচ্ছেতাই ব্যাটিং করেছে বাংলাদেশ দল। এমন ব্যাটিংই হয়েছে, বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের সময় দুই দিন পুরো খেলা হলে, এতটা করুণ অবস্থাই হয়েছিল ফতুল্লা টেস্টে বাংলাদেশের যে হেরেও যেত!

যে ড্রটা পেয়েছে বাংলাদেশ তা বৃষ্টির আশীর্বাদেই বলতে হয়। ড্রতেও কেঁপেছে মুশফিকবাহিনী। ভারত প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেটে ৪৬২ রান করে ইনিংস ঘোষণা করে। এর জবাবে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ব্যাটসম্যানদের একের পর এক ভুল শটে ২৫৬ করে। ৭ রানের জন্য ফলোঅনে পড়ল বাংলাদেশ। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে খেলতে নেমে কোন উইকেট না হারিয়ে ২৩ রান করতেই দুই দলের সমঝোতায় টেস্ট ড্র হয়।

বাংলাদেশের দুই ইনিংস ব্যাটিং দেখে কী মনে হয়েছে? ম্যাচটিতে বৃষ্টির বাধা না থাকলে ভারতই জিতত। আরেকটি দিন পেলে বাংলাদেশকে হারিয়েও দিতে পারত ভারত। তবে বৃষ্টির বাধায় যেটুকু খেলা হয়েছে, তাতে ভারত যে বাংলাদেশকে হারাতে পারত, সেই প্রমাণ দিতে চেয়েছে; তা দিয়েছেও। বাংলাদেশকে মাত্র দুই সেশনের কিছু সময়ের মধ্যেই ফলোঅনে ফেলেছে, তাতে আসলে এ টেস্ট ড্র হলেও, ভারত জয়ের দাবি করতেও পারে।

ফতুল্লা টেস্ট শেষে দুই দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম ও বিরাট কোহলি শিরোপা হাতে ছবি তুললেন। শিরোপা হাতে দুইজনের মুখেও হাসি দেখা গেল। যে অবস্থা হয়েছিল, দুই দিন পুরো খেলা হলে বাংলাদেশ শিবিরে অস্বস্তিই ধরতে পারত। তাই মুশফিক স্বস্তির হাসি দিচ্ছেন, তা বোঝাই গেছে। কিন্তু কোহলি কী স্বস্তির হাসি দিতে পেরেছেন? তা না দেয়ারই কথা। প্রথমবারের মতো পূর্ণমেয়াদে টেস্টে নেতৃত্ব দিলেন। প্রথম টেস্ট শেষেই দেখলেন পতন। ৩ নম্বর র‌্যাঙ্কিং থেকে ৪ নম্বরে নেমে গেছে ভারত। কোহলি তাই আফসোস করতেই পারেন। ১৭৩ রান করে ম্যাচ সেরা হওয়া শিখর ধাওয়ান বলেছেন, ‘আমি ব্যাটিং উপভোগ করেছি। (মুরলি) বিজয়ও (১৫০ রান) দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছে। সঙ্গে আমাদের পর (আজিঙ্কেয়া) রাহানেও (৯৮ রান) অসাধারণ ব্যাটিং করেছে। যখন বৃষ্টি হয়েছে, তখন শুধু মাঠ থেকে বের হয়েছি। বৃষ্টি নিয়ে একদম ভাবিনি। তা নিয়ে ভাবলে ব্যাটিংয়ে প্রভাব পড়বে।’ ধাওয়ান বুঝিয়ে দিলেন, বৃষ্টি নিয়ে ভেবে লাভ নেই। যা হওয়ার তাই হবে।

মুশফিক কী বলছেন? ‘এত বেশি বৃষ্টি হওয়ার পর আসলে কোন কিছুই নিয়ন্ত্রণে থাকে না। আমাদের বোলাররা এমন ফ্ল্যাট উইকেটে ভাল বল করেছে (সাকিব ৪ উইকেট, জুবায়ের ২ উইকেট নিয়েছে)। বিতর্ক হতে পারে। কিন্তু কোনভাবেই এমন বিষয় ছিল না ব্যাটসম্যানরা দ্রুত রান তুলবে। ফলোঅন এড়ানোই সবার আগে লক্ষ্য ছিল।’ কিন্তু মুশফিকের কথার সঙ্গে কাজের কোন মিল খুঁজে পাওয়া গেল না।

ভারত টেস্ট দলের অধিনায়ক বিরাট কোহলির কণ্ঠে কিন্তু ঠিকই বৃষ্টি নিয়ে হতাশা ঝড়েছে। বলেছেন, ‘দুই দলের জন্যই হতাশার (বৃষ্টি পড়া)। আমরা পাঁচদিন খেলতেই ভালবাসী। রবীচন্দ্রন অশ্বিন (৫/৮৭) ও হরভজন সিং (৩/৬৪) ব্যাটসম্যানদের চাপে রেখেছেন। অধিনায়ক হিসেবে অনেক সন্তুষ্ট আমি। যদি বৃষ্টি না আসত তাহলে হয়ত পেসারদের কাজে লাগাতাম। স্পিনারদের একটু বিশ্রাম দিতাম। কিন্তু কন্ডিশন কারও নিয়ন্ত্রণে থাকে না।’ হতাশা ঝড়েছে কোহলির কণ্ঠে। পাঁচদিনে ১৫ সেশনের মধ্যে সাড়ে ৮ সেশনই খেলা হলো না। বাংলাদেশ ৯১ টেস্ট খেলে ১৩ টেস্টে ড্র করেছে। এর মধ্যে জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে দুটি, ভারত, নিউজিল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে একটি করে ম্যাচ বৃষ্টির জন্য ড্র করেছে। ৯১ টেস্টে এসে ফতুল্লা টেস্টও বৃষ্টির জন্যই ড্র করল বাংলাদেশ।

মুশফিকুর রহীম অবশ্য ব্যাটিং নিয়ে চরম হতাশাই প্রকাশ করেছেন। বলেছেন, ‘প্রথম লক্ষ্য তো অবশ্যই ছিল আমরা যেন ২৬৩ রানটা পার করতে পারি। চতুর্থ বা পঞ্চম দিনের উইকেটে রক্ষণাত্মক মানসিকতা নিয়ে খেললে ভিন্ন হয়। এটা আসলে সমন্বয় থাকতে হয়। কখন আপনি আক্রমণ করবেন কখন রক্ষণাত্মক থাকবেন। কখন রান করবেন, কোন শট আপনার স্ট্রেংথ, কোন শটে আপনার আউট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, এগিয়ে এসে খেলতে ঝুঁঁকি হবে কী না, সুইপ খেললে ঝুঁকি হবে কি না, এগুলো আসলে সিলেক্ট করতে হয়। এক ব্যাটসম্যান যখন বেশিক্ষণ ব্যাট করবেন তখন তিনি এগুলো বুঝতে পারবেন। হয় তো আমি খেলতে পারিনি। কিন্তু যারা সেট হয়েছিল ওদের আরেকটু বোঝা দরকার ছিল। শেষ টেস্টটা ছাড়া গত কয়েকটা টেস্টে আমাদের ব্যাটিংয়ের দিক থেকে ভাল করেছি।’

মুশফিক আরও বলেন, ‘এত সহজে যদি সাড়ে ৪৫০/৫০০ রান হয়ে যায়, যে কোন দলের সঙ্গে যদি প্রথমদিন বা দ্বিতীয় দিনে এই রান দিয়ে দেন তাহলে ফেরা কঠিন হবে। এক দিনে যদি ৩০০ থেকে ৪০০ রান করে ফেলে প্রতিপক্ষ তাহলে ওই টেস্ট ম্যাচ সব সময় আপনাকে পেছনে থাকবে। আমরা এখনও দাঁড়াতে পারছি না টেস্ট ক্রিকেটে। যে ভাল খেলবে না সে থাকবে না।’

মুশফিক যদিও ওয়ানডে অধিনায়ক নন, এরপরও ওয়ানডেতে ভাল করার প্রত্যাশার কথাই জানিয়েছেন। টেস্ট শেষ। তা নিয়ে ভেবে লাভ নেই। তাই ওয়ানডে নিয়েই ভাবছেন মুশফিক। বলেছেন, ‘আমাদের হোম কন্ডিশনে আমরা খুবই ভাল ক্রিকেট খেলছি। বিশ্বকাপের বাইরেও খুব ভাল খেলেছি। তার একটাই কারণ, আমাদের ব্যাটসম্যান-বোলাররা দারুণ ফর্মে আছে। তারা যদি তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারে তাহলে আমার মনে হয়, ভারত যতই শক্তিশালী হোক, তারপরও তাদের সঙ্গে এশিয়া কাপে তাদের বিপক্ষে ২৯০ তাড়া করে জিতেছি। সেদিক থেকে বলব যে আমাদের আত্মবিশ্বাস আছে। বাকিটা তো আবহাওয়ার উপর। এখন যদি কার্টেল ওভার হয় তো আমাদের ওইভাবে মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। ২০ ওভার বা আরও কম ওভার যদি খেলা হয় বা রিজার্ভ ডে যদি খেলা হয়, আমাদের সবকিছু ওইভাবে প্ল্যান করা থাকবে এবং আশা করছি উত্তেজনাপূর্ণ একটা ওয়ানডে সিরিজ হবে।’

প্রকাশিত : ১৭ জুন ২০১৫

১৭/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: