কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

রেকর্ডে সাকিব-তামিম

প্রকাশিত : ১৭ জুন ২০১৫
  • মোঃ মামুন রশীদ

নিজেদের উদ্ভাসিত নৈপুণ্যের কারণে বারবারই আলোচনায় এসেছেন দু’জন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও অভিষেক প্রায় একই সময়ে হয়েছে বাংলাদেশের পক্ষে। বিশ্বসেরা টেস্ট অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের চেয়ে বয়সে ১ বছর ৩৬১ দিনের ছোট তামিম ইকবাল। কিন্তু বন্ধুত্বের সম্পর্ক দু’জনের। এ দুই বন্ধু বাংলাদেশের ক্রিকেটকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছেন ক্রমেই স্বীয় নৈপুণ্যে উজ্জ্বলতা ছড়িয়ে। ফতুল্লায় সফরকারী ভারতের বিরুদ্ধে একমাত্র টেস্টে দলগতভাবে আহামরি কিছুই করতে পারেন বাংলাদেশ দল। প্রকৃতি বৈরী হলেও তা আশীর্বাদ হিসেবে বাংলাদেশকে উপহার দিয়েছে আরেকটি ড্র। তবে সাকিব-তামিম এর মধ্যেই নিজেদের নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। সাকিব প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে বাংলাদেশের মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে একাধারে ১০০ উইকেট ও ২০০০ রানের মালিক হয়ে গেছেন। আর তামিম টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বাধিক রানের গর্বিত ব্যাটসম্যান হয়ে গেছেন। যদিও অনেকে বলছেন তামিম টেস্ট ক্রিকেটে ১০ হাজার রান করে ফেলবেন। কিন্তু তিনি নিজেই সে বিষয়ে সন্দিহান। কারণ ২৬ বছর পার করে ফেলেছেন, টেস্ট ক্রিকেটে কাটিয়েছেন ৭ বছর। কিন্তু মাত্র ৪০ টেস্ট খেলতে পেরেছেন। আরও ৮/৯ বছর এই হারে বাংলাদেশ টেস্ট খেললে বড়জোর ৪০/৪৫ টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। সে ক্ষেত্রে ৮ হাজারের বেশি রান হওয়ার তেমন সম্ভাবনা নেই তামিমের। এর সঙ্গে আছে ফর্ম ও ফিটনেসের ব্যাপারও। তবে ইতোমধ্যেই সাকিব-তামিম যা করেছেন সেটা তাঁদের অন্য অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

২০০৭ সালের মে মাসে ভারতের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে টেস্ট যাত্রা শুরু করেন ২৮ বছর বয়সী সাকিব। আর পরের বছর জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ডানেডিনে অভিষেক হয় তামিমের। তারপর থেকেই দলের অপরিহার্য সদস্যে পরিণত হয়েছেন এ দুই ক্রিকেটার। ক্রমেই নিজেদের মেলে ধরে নিজেদের যোগ্যতা ও সামর্থ্য প্রমাণ করেছেন। একের পর এক রেকর্ড গড়ে চলেছেন সাকিব। জন্ম দিচ্ছেন বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের পক্ষে নতুন কোন ঘটনার। বিশ্বসেরা এ টেস্ট অলরাউন্ডার বল হাতে দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়ে ফতুল্লা টেস্টে বাংলাদেশের পক্ষে সফলতম বোলার হিসেবে ৪ উইকেট শিকার করেন। এর মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের মাটিতে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে একশ’ উইকেট শিকারীর মর্যাদা লাভ করেন। ব্যাটে-বলে অভিষেকের পর থেকেই দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখানোর সুবাদে অনেক আগেই সাকিব হয়ে গেছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। দেশের জন্য অনেক রেকর্ডই তাঁর মাধ্যমেই জন্ম নিয়েছে। ফতুল্লা টেস্টের তৃতীয় দিনই তিনি নতুন এক রেকর্ড গড়ে ফেলেন। ব্যাট হাতে ব্যর্থ হয়েছেন মাত্র ৯ রান করেই সাজঘরে ফিরে। কিন্তু এর মধ্যেই নতুন এক রেকর্ডের জন্ম দিয়ে ফেলেন সাকিব। বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে দেশের মাটিতে দুই হাজার রানের মাইলফলক ছাড়িয়ে যান। এখন বাংলাদেশের মাটিতে ২৮ টেস্টে ৪২.৬৩ গড়ে ২ সেঞ্চুরি ও ১৪ হাফসেঞ্চুরিসহ তাঁর সংগ্রহ ২০০৪ রান।

সাকিবের পেছনেই আছেন তামিম। তিনি এখন পর্যন্ত দেশের মাটিতে ২৬ টেস্টে করেছেন ১৯১৩ রান। তিন নম্বরে থাকা মুশফিকুর রহীমের রান ২৭ টেস্টে ১৪৫৪। দেশের মাটিতে ১০০ উইকেট ও ২০০০ রানের ঘটনা বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম হলেও টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে আছে আরও। ১২৮ বছরের টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে এমন কীর্তি নিজ দেশের পক্ষে বিশ্ব ক্রিকেটে করে দেখাতে পেরেছেন মাত্র ৬ ক্রিকেটার। সেদিক থেকে টেস্ট ইতিহাসে এ ঘটনার জন্ম দেয়া সপ্তম ক্রিকেটার সাকিব। এমন কীর্তির প্রথম নজির সৃষ্টি করেছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক অলরাউন্ডার স্যার গ্যারি সোবার্স। তাঁর অবশ্য ৪৪ টেস্ট খেলতে হয়েছে সেজন্য। ৪৪ টেস্টে তিনি করেছিলেন ৪০৭৫ রান ও শিকার করেছিলেন ১০৭ উইকেট। পরবর্তীতে একে একে এমন কীর্তি গড়েন ইংল্যান্ডের পক্ষে স্যার ইয়ান বোথাম, ভারতের কপিল দেব, দক্ষিণ আফ্রিকার জ্যাক ক্যালিস, ইংল্যান্ডের এ্যান্ড্রু ফ্লিন্টফ ও নিউজিল্যান্ডের ড্যানিয়েল ভেট্টরি। রান করার দিক থেকে ক্যালিস এবং উইকেট নেয়ার ক্ষেত্রে বোথাম সবচেয়ে এগিয়ে। মাত্র ২৮ টেস্টেই এমন কীর্তি গড়া ২৮ বছর বয়সী সাকিবের অবশ্য এখনও অনেক সময় আছে সবাইকে ছাড়িয়ে যাওয়ার। ফতুল্লায় সবার দৃষ্টি ছিল তামিমের দিকে। কারণ মাত্র ৭ রান প্রয়োজন ছিল তাঁর দেশসেরা টেস্ট ব্যাটসম্যান হওয়ার জন্য। সুযোগটা ছিল পাকিস্তানের বিরুদ্ধে গত মাসের প্রথমদিকে হওয়া দ্বিতীয় টেস্টেই। কিন্তু প্রয়োজনীয় ৫৩ রান করতে পারেননি দুই ইনিংসে। মাত্র ৪৬ রান করেছিলেন বলে এক মাস অপেক্ষা করতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত শীর্ষে উঠেছেন। শনিবার ফতুল্লা টেস্টের চতুর্থ দিনের শুরুতেই তিনি বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে সর্বকালের সেরা ব্যাটসম্যান হয়ে ওঠেন। ফতুল্লা টেস্ট শেষে এখন তিনি হাবিবুলের চেয়ে ২৯ রান এগিয়ে। ৪০ টেস্টে ৩০৫৫ রান করেছেন তামিম ৭টি সেঞ্চুরি ও ১৭টি হাফসেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ৩৯.৬৭ গড়ে। সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল অবশ্য অনেক বেশি ম্যাচ খেলে প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে ৩ হাজার রান করেছেন। ‘মিস্টার ফিফটি’ পরিচিত হওয়া এ ক্রিকেটার ৫০ টেস্টে ৩ সেঞ্চুরি ও ২৪ হাফসেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ৩০.৮৭ গড়ে করেছিলেন ৩০২৬ রান নিয়ে। ৮ বছর ৩ মাসের কিছু বেশি সময় তিনি শীর্ষে ছিলেন। দ্বিতীয় বাংলাদেশী হিসেবে ৩ হাজার রান করা তামিমের চেয়ে অনেক পিছিয়ে আছেন বর্তমানে খেলা চালিয়ে যাওয়া সাকিব। তিনি ৪০ টেস্টে করেছেন ৪০.১৭ গড়ে ২৭৩২ রান। তবে এখনও ফেরার অপেক্ষায় প্রহর কাটানো আরেক ওপেনার মোহাম্মদ আশরাফুল আরেকটু এগিয়ে আছেন। আশরাফুল ৬১ টেস্টে করেছেন ২৭৩৭ রান।

তামিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টেই ক্যারিয়ারসেরা ২০৬ রানের ইনিংস খেলেন। এখন পর্যন্ত টেস্ট ক্রিকেটে কোন বাংলাদেশী ক্রিকেটারের সেটাই সর্বাধিক ব্যক্তিগত ইনিংস। একাধারে ওয়ানডে (১৫৪), টি২০ (৮৮) ও টেস্ট এ তিন ফরমেটের ক্রিকেটেই তাঁর বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস রয়েছে। টেস্টে সর্বাধিক ৭টি এবং ওয়ানডেতে সর্বাধিক ৬টি করে সেঞ্চুরি রয়েছে তাঁর। কীর্তির দিক দিয়ে তামিমের সবচেয়ে কাছাকাছি আছেন শচীন ও পন্টিং। দু’জনই নিজ নিজ দলের টেস্ট এবং ওয়ানডের সর্বোচ্চ রান ও সেঞ্চুরির মালিক। তবে এ দুই ফরমেটে এ দু’জন নিজ দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস খেলতে পারেননি। এখন শুধু বাকি থাকল একটিই ফরমেট। টি২০ ক্রিকেট। এ ফরমেটে তাঁর চেয়ে এগিয়ে আছেন সাকিব। দুই বন্ধুর রেকর্ড গড়ার লড়াইটা চলছে আর বাংলাদেশ দলও সেই সুবাদে বিশ্ব ক্রিকেটে ধীরে ধীরে পরাশক্তি হিসেবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।

প্রকাশিত : ১৭ জুন ২০১৫

১৭/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: