কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির সমীকরণে প্রভাব ফেলবে মোদির সফর

প্রকাশিত : ১৭ জুন ২০১৫
  • একে মোহাম্মদ আলী শিকদার

গত ৬-৭ জুন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের মানুষের ভেতর যে রকম আগ্রহ ও উৎসাহ দেখা গেছে, তেমনটি অন্য কোন প্রধানমন্ত্রীর সফরের বেলায় আর কখনও দেখা যায়নি। তাই সঙ্গত কারণেই এই সফরের অর্জন ও ফলাফল নিয়ে এখন চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ এবং হিসাব-কিতাব। এই হিসাব-নিকাশের বাস্তবসম্মত চিত্র পাওয়ার জন্য ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের গোড়াপত্তনের প্রেক্ষাপট, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, পঁচাত্তরের আগ পর্যন্ত দু’দেশের সম্পর্কের উচ্চতা এবং পঁচাত্তরের পর আজ অবধি সম্পর্কে যে উত্থান-পতন ঘটেছে তার দিকে যদি দৃষ্টি দেয়া যায়, তাহলে দেখা যাবে মোদির সফরের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো প্রায় ৪০ বছর পর দু’দেশের সম্পর্ক আবার একাত্তর-বাহাত্তর এবং মুক্তিযুদ্ধের উচ্চতায় ওঠার দরজা উন্মোচিত হয়েছে। তাই এই সফরের প্রভাব শুধু বাংলাদেশ-ভারত নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়ার গেম চেঞ্জার বা পরিস্থিতি বদলে দিতে এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক সহযোগিতার অন্তরায়গুলো দূরীকরণে অনুঘটকের কাজ করবে। দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতার পথে মূল অন্তরায় ভারত-পাকিস্তানের তিক্ত সম্পর্ক এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সব অর্জনের বিরুদ্ধে এখনও পাকিস্তানের দৃঢ় অবস্থান। মুক্তিযুদ্ধের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ বাংলাদেশকে পাকিস্তান এখনও মেনে নিতে পারেনি। যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লাকে পাকিস্তানের একজন শহীদ হিসেবে ঘোষণা দেয়ায় বোঝা যায় তারা এখনও পূর্ব পাকিস্তান উদ্ধারের অলীক আস্ফালনে উন্মত্ত।

সাতচল্লিশের চেতনায় আবদ্ধ পাকিস্তান ভারতকে এক নম্বর শত্রু হিসেবে গণ্য করে এবং বাংলাদেশ ও ভারত উভয়ের বিরুদ্ধে একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধ নেয়ার আস্ফালনে অন্ধ। পাকিস্তান তাদের এই প্রতিশোধপরায়ণ স্ট্র্যাটেজির অংশ হিসেবে ১৯৭৫ থেকে ১৯৯৬ এবং ২০০১-০৬ মেয়াদে বাংলাদেশে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিতদের সহযোগিতায় ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সব রকম সহযোগিতা দিয়ে ভারতের ভূখ-গত নিরাপত্তাকে ভয়ানক ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেয়। আর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের অবনতি হয় বাংলাদেশের স্বার্থে নয়, পাকিস্তানের স্বার্থে। একই সময়ে বাংলাদেশের ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকা গোষ্ঠী শুধু মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির ক্ষমতায় আসা ঠেকিয়ে রাখার জন্য পাকিস্তানী কায়দায় সাম্প্রদায়িক উগ্র ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টি করে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাঙালীর ২৩ বছরের সংগ্রামের ঔজ্জ্বল্য এবং মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাথাকে শুধু উপেক্ষা নয়, তার সর্বক্ষেত্রে কালিমা লেপনের সব প্রচেষ্টা চালায়। এর ফলে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের প্রতিশোধপরায়ণের লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথ সুগম হয়।

অনেক উত্থান-পতনের পর ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লী সফরের ভেতর দিয়ে দু’দেশের সম্পর্ক আবার মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর ফিরে আসার পথ সুগম হয়। সীমান্ত চুক্তি ভারতের পার্লামেন্টে অনুমোদিত হওয়ার অভাবনীয় পরিবেশ ও মোদির উৎফুল্লপূর্ণ সফরের মধ্য দিয়ে এই পথের যাত্রায় নতুন মাইলফলক স্থাপিত হলো। সব ধরনের জঙ্গী, সন্ত্রাস ও বিচ্ছিন্নতাবাদের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার জিরো টলারেন্সের কারণে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো আজ প্রায় সম্পূর্ণ উপদ্রবমুক্ত। উগ্র ধর্মান্ধ জঙ্গী সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলো বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এখন আর সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। যার ফলে বাংলাদেশে যেমন জঙ্গীরা কোন এ্যাকশনে যেতে পারছে না, ঠিক তেমনি পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গী সংগঠনগুলো বাংলাদেশে জায়গা না পাওয়ায় ভারতের অভ্যন্তরেও কোন তৎপরতা চালাতে পারছে না। এই ধারা অব্যাহত থাকলে প্রতিরক্ষা স্ট্র্যাটেজির শক্তি বিন্যাসে ভারত তার পশ্চিম সীমান্তে আরও অধিকতর মনোযোগী হওয়ার সুযোগ পাবে। তারপর পাকিস্তানের পশ্চাদভূমি আফগানিস্তান ও ইরানে ভারতের প্রভাব অনেক পুরনো। এখন সেটি আরও শক্তিশালী। কিছুদিন আগে পাকিস্তান হয়ে ভারত-আফগানিস্তান সড়ক যোগাযোগের প্রস্তাব পাকিস্তান প্রত্যাখ্যান করায় আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি বলেছেন, সেক্ষেত্রে মধ্য এশিয়ায় যোগাযোগের জন্য পাকিস্তানকে আফগানিস্তানের সড়ক ব্যবহার করতে দেয়া হবে না। চীন কর্তৃক পাকিস্তানের বেলুচিস্তানের আরব সাগরের কূলে গোয়াদার বন্দর নির্মাণের পাল্টা হিসেবে ইরানের দক্ষিণ প্রান্তে ওমান উপসাগরের কূলে সাবাহার বন্দর নির্মাণের কাজ হাতে নিয়েছে ভারত। সুতরাং বাংলাদেশ-ভারতের সুসম্পর্কের জের ধরে আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে পাকিস্তান ক্রমশ ভারত কর্তৃক বেষ্টিত হয়ে পড়বে এবং বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। বাংলাদেশ, চীন, ইন্ডিয়া, মিয়ানমার নিয়ে গঠিত ইঈওগ- ঊপড়হড়সরপ পড়ৎৎরফড়ৎ-এর মতো ভাইব্রান্ট আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থায় পাকিস্তান নেই। তারপর বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি সেক্টরাল টেকনিক্যাল এ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের (ইওগঝঞঊঈ) মতো বিশাল সম্ভাবনাময় ফোরামেও পাকিস্তান নেই। এই রকম আঞ্চলিক বাস্তবতায় কৃত্রিম সাম্প্রদায়িক সাতচল্লিশের উন্মাদনা সৃষ্টিকারী মোল্লা ও মিলিটারির কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের গণতন্ত্রমনা জনগণের একটা উত্থানের সুযোগ আসতে পারে। সে রকম হলে সার্ক কার্যকর হবে, উপমহাদেশের আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্কের চিত্র পাল্টে যাবে। বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক উন্নয়নের দ্বারও খুলে যাবে। দক্ষিণ এশিয়ার সব সচেতন মানুষের তাই বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ককে মুক্তিযুদ্ধের জেতনায় এবং একাত্তর-বাহাত্তরের উচ্চতায় নেয়ার প্রচেষ্টায় অংশ নেয়া উচিত।

বাংলাদেশ যখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর প্রতিষ্ঠিত থেকেছে, তখন বাংলাদেশের স্বার্থ কখনও ক্ষুণœ হয়নি। কারণ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার যে সহজাত শক্তি রয়েছে তার ক্ষমতা অসীম, কারও কাছে মাথা নোয়াতে শেখায়নি। এটাই মুক্তিযুদ্ধের সবচেয়ে বড় প্রেরণা। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধারা অকাতরে প্রাণ দিয়েছে; কিন্তু আটক হওয়ার পর পাকিস্তানী সেনাদের কাছে কখনও জীবন ভিক্ষা চায়নি। মৃত্যুর সময় জয় বাংলা বলে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। বিপরীতে পাকিস্তানী সেনারা আটক হলেই মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে প্রাণ ভিক্ষা চেয়েছে। বাংলাদেশে যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে না, তারা পূর্বে যেমন করেছে, তেমনি আজও কথায় কথায় ভারতের সবকিছুতে ভূত দেখছে। আবার পাকিস্তানী সেনাদের মতো নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য ভারতের কৃপালাভের আশায় নতজানু হয়ে চারদিকে ছোটাছুটি করছে। মৃদুস্বরে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাচ্ছে। যেসব চুক্তিকে এতদিন গোলামীর চুক্তি বলতে বলতে মুখে ফেনা তুলে ফেলেছে, আজ আবার সেগুলোকে স্বাগত জানাচ্ছে। শুধু ক্ষমতার লোভে নীতি-আদর্শ ত্যাগ করলে যা হয় আর কী। কোন বিদেশী শক্তির পক্ষে বা বিপক্ষে নয়, মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশের পক্ষে থাকলে কাউকে কখনও নতজানু হতে হয় না। এ কারণেই বঙ্গবন্ধুর মেয়ে শেখ হাসিনা ক্ষমতার প্রথম মেয়াদে (১৯৯৬-২০০১) ঢাকায় আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের পাশে দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যে বলতে পেরেছেন, ৫০ বছরের রিজার্ভ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের গ্যাস কাউকে দেয়া হবে না।

বাহাত্তর থেকে পঁচাত্তর পর্যন্ত রক্তের বন্ধনে আবদ্ধ ভারতের সঙ্গে একান্ত বন্ধুত্বকে বজায় রেখে বঙ্গবন্ধু প্রমাণ করেছেন কিভাবে নিজ দেশের স্বার্থ অক্ষুণœ রাখতে হয়। মুক্তিযুদ্ধ শেষ হওয়ার মাত্র তিন মাসের মাথায় মিত্রবাহিনী হিসেবে বাংলাদেশে অবস্থানকারী প্রায় লক্ষাধিক ভারতীয় সেনা দেশে ফিরে যায়। যুদ্ধের ইতিহাসে এমন ঘটনা বিরল। বাহাত্তরের শুরুতে বিরাজমান পরিস্থিতিতে অনেক অজুহাত ছিল, যা দেখিয়ে ভারতীয় সৈন্য বাংলাদেশে থেকে গেলে তখন সেটিকে কেউ অযৌক্তিক বলতে পারত না। কিন্তু সেদিন বঙ্গবন্ধু যেমনটি চেয়েছেন তেমনটিই হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর সময় স্বাক্ষরিত ২৫ বছর মেয়াদী মৈত্রী চুক্তি, মুজিব-ইন্দিরা সীমান্ত চুক্তি, গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি- এগুলোর প্রতিটি ধারা-উপধারা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সবক্ষেত্রে সবকিছুতে সমানভাবে উভয় দেশের জন্য প্রযোজ্য রেখে সদ্য স্বাধীন দেশের মর্যাদা বঙ্গবন্ধু কিভাবে রক্ষা করেছিলেন। নেতার ব্যক্তিত্বগুণে প্রতিকূল অবস্থা অনুকূলে আসে আর নেতার ব্যক্তিত্ব না থাকলে অনুকূল অবস্থা প্রতিকূলে চলে যায়। সাতচল্লিশের দ্বিজাতিতত্ত্বে বিশ্বাসী ও মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী গোষ্ঠীর অপপ্রচার সঠিক হলে ইন্দিরা গান্ধী আগ বাড়িয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের জন্য সারাবিশ্বের নেতৃবৃন্দের কাছে এত তদ্বির করতেন না এবং যে কোন অজুহাতে তখন ভারতীয় সৈন্য বাংলাদেশে রেখে দিতেন। মোদির সফরের সময় দু’দেশের মধ্যে ২২টি চুক্তি, সমঝোতা স্মারক ও প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়েছে। এত চুক্তির প্রতিটির ধারা-উপধারা নিয়ে একটি লেখায় আলোচনা-পর্যালোচনা করা সম্ভব নয়। তবে দুই দেশের বিশ্লেষকগণ যারাই বিচার-বিশ্লেষণ করছেন তারা যদি নিজ দেশ কী পেল সেটা বের করার চেষ্টা করেন, তাহলে অনেক ইতিবাচক দিক পাবেন আর শুধু যদি দৃষ্টি নিবন্ধ রাখেন যে, অন্য দেশ কী আদায় করে নিল তাহলে কোন কোন ক্ষেত্রে ঈর্ষাপরায়ণতা এসে মনে দানা বাঁধতে পারে। বাংলাদেশ তো বটেই, উপমহাদেশের জন্য এটাই প্রথম ঘটনা যে, ভারত দ্বিপাক্ষিকতার বাইরে এসে আঞ্চলিক ফোরামে বহুপক্ষীয় কানেকটিভিটি চুক্তি স্বাক্ষরে রাজি হয়েছে। এই কানেকটিভিটির বা মূল কেন্দ্র হবে বাংলাদেশ। অর্থাৎ এই কানেকটিভিটির সুফল পেতে হলে হাব সব দেশকে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে যাতায়াত করতে হবে। এতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিশাল কর্মযজ্ঞের সৃষ্টি হবে। পরিবহন বাণিজ্য থেকে শুরু করে পর্যটন, হোটেল ব্যবসা ইত্যাদি ক্ষেত্রে ব্যাপকহারে কর্মসংস্থান হবে। এই কানেকটিভিটি শুধুমাত্র বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটানের মধ্যে সীমাবন্ধ থাকবে না। ইঈওগ এবং ইওগঝঞঊঈ-এর মাধ্যমে এটি চীন ও মিয়ানমার হয়ে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত হবে। তখন পূর্ব এশিয়ার উদীয়মান অর্থনৈতিক দেশগুলোর ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের অন্যতম স্থানে পরিণত হবে ভারতের ১২৫ কোটি ও বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষের বাজার। আর ল্যান্ড ও রেল রুটে ভারতের সঙ্গে পূর্ব এশিয়ার দেশসমূহের যোগাযোগের প্রত্যক্ষ সুবিধা পাবে বাংলাদেশ। অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের নদীগুলো নিয়মিত ড্রেজিং হয়ে নাব্য রক্ষা পেলে ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে প্রকৃতি ও জলবায়ুর ওপর। ভারত থেকে যে বিশাল পরিমাণ আমদানি হয় তার বৃহৎ একটি অংশ যদি কোস্টাল, শিপিং চুক্তির ফলে খুলে যাওয়া উপকূলীয় সমুদ্রপথে হয়, তাহলে ভারত থেকে আমদানিকৃত দ্রব্যের দাম অনেক কমে যাবে। সরাসরি সুফল পাবে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ। তিস্তা চুক্তি এ সফরে হবে না, সেটি তিন দিন আগেই ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছিলেন। তবে নরেন্দ্র মোদি যে পরিবেশ ও প্রক্রিয়ায় সীমান্ত চুক্তি সম্পন্ন করেছেন এবং বাংলাদেশের মানুষের কাছে যেভাবে কথা দিয়েছেন, তাতে নিরাশ হওয়ার মতো কোন কারণ নেই। আর মোদি শুধু আঞ্চলিক নেতা নন, তিনি বিশ্ব দরবারে নিজেকে এবং ভারতকে যেখানে নিতে চান তাতে ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী বাংলাদেশের মানুষের কাছে দেয়া অঙ্গীকার ভুলে যাবেন- তেমনটি মনে করার মতো যৌক্তিকতা খুঁজে পাওয়া যায় না। ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় দুই দেশের মানুষের ভাগ্য একসঙ্গে জড়িত। একজনকে উপেক্ষা করে আরেকজন প্রত্যাশিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে না। ভারত উদীয়মান শক্তি, তার পুরো সুবিধা বাংলাদেশকে নিতে হবে। আর ভারতকে মনে রাখতে হবে- একটি শক্তিশালী, উদার গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ ভারতের নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য।

লেখক : মেজর জেনারেল পিএসসি (অব:),

ভূ-রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক

sikder52@gmail.com

প্রকাশিত : ১৭ জুন ২০১৫

১৭/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: