কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া মুজাহিদের আপীলের রায় আজ

প্রকাশিত : ১৬ জুন ২০১৫
ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া মুজাহিদের আপীলের রায় আজ
  • দণ্ড বহাল থাকবে-জাতির প্রত্যাশা

বিকাশ দত্ত ॥ একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলবদর কমান্ডার বুদ্ধিজীবী হত্যার মাস্টার মাইন্ড আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের আপীলের রায় আজ ঘোষণা করা হবে। জাতির প্রত্যাশা একাত্তরের বুদ্ধিজীবী হত্যার মাস্টার মাইন্ড, হত্যার ছক প্রণয়নকারী, টর্চার ও খুনের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত মুজাহিদের ট্রাইব্যুনালের দেয়া দণ্ডের আদেশ বহাল থাকবে। এদিকে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা মাহবুবে আলম, বুদ্ধিজীবী ড. মুনতাসীর মামুনসহ সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দও আলবদর কমান্ডার মুজাহিদের আপীলে চ’ড়ান্ত রায়ে চরম দ- অর্থাৎ মৃত্যুদ- বহাল থাকবে আশা করছেন। এ রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘ ৪৫ বছর পর হলেও জাতি কলঙ্ক মোচনে আরেক ধাপ এগিয়ে যাবে। যদি চরম দ- না হয় তাহলে তাদের আত্মা শান্তি পাবে না। এদিকে রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সুপ্রীমকোর্ট অঙ্গনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

আপীল বিভাগে মোট নয় দিন এ মামলার শুনানি শেষে ২৭ মে রায় ঘোষণার জন্য এ দিন (১৬ জুন) নির্ধারণ করা হয়। আজ প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিন্হার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপীল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করবেন। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন- বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। আজ আপীল বিভাগের কার্যতালিকায় মুজাহিদের মামলাটি এক নম্বর রাখা হয়েছে। অন্যদিকে ট্রাইব্যুনালের দেয়া মুত্যুদ-প্রাপ্ত আসামি সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর মামলাটি শুনানির জন্য আজকের কার্যতালিকার ৬ নম্বরে রাখা হয়েছে।

রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা মাহবুবে আলম বলেছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের আপীলের চূড়ান্ত রায়ে ‘মৃত্যুদ-’ আশা করেছেন। আজ যে রায় ঘোষণা করা হবে, তাতে তিনি মুজাহিদের চরম দ- অর্থাৎ মৃত্যুদ- আশা করেছেন। সোমবার দুপুরে তার দফতরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ সব কথা বলেন। তিনি বলেন, বুদ্ধিজীবী হত্যার ব্যথা দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে বয়ে আসছি। এখানে যদি চরম দ- না হয়, তাহলে তাদের আত্মা শান্তি পাবে না। তার বিরুদ্ধে আমরা অভিযোগ প্রমাণ করতে সমর্থ হয়েছি বলে মন্তব্য করেন এ্যাটর্র্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তিনি বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায় হলে খুশি হবো। আর সংক্ষিপ্ত হলে আশা করবো অল্প কিছুদিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ রায় পাব।

এর আগে ২৭ মে এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছিলেন, বুদ্ধিজীবী হত্যার পেছনে আলবদরের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। এ মামলায় দেখানোর চেষ্টা করেছি ছাত্র সংঘের সভাপতি হিসেবে মুজাহিদ আলবদরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। পাকিস্তানী এক লেখকের ‘আল বদর’ নামক বই আদালতে হাজির করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে মুজাহিদ ছাত্র সংঘের নাজেম। নাজেম মানে প্রধান। এছাড়াও ১৬ ডিসেম্বর আলবদরের লোকজন পাকিস্তানী বাহিনীর সঙ্গে সাক্ষাত করে। সেখানে মুজাহিদ ছিলেন। অন্যদিকে আলী আহাসান মুহাম্মদ মুজাহিদের আইনজীবী শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আদালতে মুজাহিদের পক্ষে যে যুক্তি উপস্থাপন করেছি সেগুলো বিবেচনায় নিয়ে আপীল বিভাগ মুজাহিদকে বেকসুর খালাস দিবেন’।

দেশের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন জনকণ্ঠকে বলেছেন, আশা করছি ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদ-াদেশ আপীল বিভাগেও বহাল থাকবে। তার (মুজাহিদ) অপরাধের মাত্রা বেশি। আলবদর প্রধান হিসেবে সদর দফতর মোহাম্মদপুর ফিজিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারে হত্যাকা- চালিয়েছে, তিনি বুদ্ধিজীবী হত্যার মাস্টার মাইন্ড, প্যানেল তৈরি, টর্চার ও খুনের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জাড়িত। তার দ- হ্রাসের সুযোগ কম। কিন্তু সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগ যা বিবেচনা করেন। তিনি আরও বলেন, আমার শিক্ষকদের হত্যার অপরাধে তার সর্বোচ্চ দ- চাইবো।

অন্যদিকে, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির জনকণ্ঠকে বলেছেন, আমার একমাত্র প্রত্যাশা তার মৃত্যুদ-। মুজাহিদের বিরুদ্ধে আমি সাক্ষী দিয়েছি। সেখানে আমি সব বিষয় তুলে ধরেছি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ বলেছেন, আমি আশাবাদী ট্রাইব্যুনালের দেয়া মুত্যুদ-ই বহাল রাখবেন আপীল বিভাগ। বুদ্ধিজীবী হত্যার সঙ্গে তার সম্পৃক্তা, বকচর গণ হত্যার সঙ্গে তার যে সম্পৃক্ততা রয়েছে, সে কারণেই তার মৃত্যুদ-ই বহাল থাকবে বলে মনে করছি।

২৭ জুন আপীল বিভাগে রাষ্ট্র ও আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে রায় ঘোষণার জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়। ওই দিন রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আদালতে আসামি পক্ষে শুনানি করেন এ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন ও এ্যাডভোকেট এস এম শাজাহান। মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারে এটি হবে আপীল বিভাগের চতুর্থ রায়। এর আগে আরও তিনটি মামলার আপীল নিষ্পত্তি হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লা (মৃত্যুদ- কার্যকর), নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী (আমৃত্যু কারাদ-) ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামান (মৃত্যুদ- কার্যকর)। জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদ- প্রদান করা হয়েছে। তবে সেই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত না হওয়ায় রিভিউ নিষ্পত্তি হয়নি। আর আপীলে থাকা অবস্থাতেই জামায়াত সাবেক আমির গোলাম আযম ও বিএনপির সাবেক মন্ত্রী আবদুল আলীমের মৃত্যু হওয়ায় তাদের আপীলের নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। বর্তমানে জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী, জামায়াতের নির্বাহী কমিটির সদস্য মীর কাশেম আলীসহ আরও ৭টি মামলা আপীল নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

১৮ মে রাষ্ট্রপক্ষে আংশিক যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। এর আগে গত ২৯ এপ্রিল এবং ৪, ৫, ৬, ১৭ ও ১৮ মে আপিলে পেপারবুক পড়া শেষ করেন মুজাহিদের আইনজীবী। গত ১৫ এপ্রিল আপীল বিভাগ আপীলের ওপর শুনানির জন্য ২৮ এপ্রিল দিন ধার্য করে। তবে ওইদিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে সাধারণ ছুটি থাকায় শুনানি হয়নি। প্রায় ২১ মাস পর ২৯ এপ্রিল আপীলের ওপর শুনানি শুরু হয়। এরপর ৪, ৫, ৬, ১৭, ১৮, ২৫, ২৬ ও ২৭ মে শুনানি গ্রহণ করে আদালত। ২৭ মে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে রায় ঘোষণার জন্য ১৬ জুন দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

২০১৩ সালের ১৭ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মুজাহিদকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ- প্রদান করেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ১১ আগস্ট খালাস চেয়ে সুপ্রীমকোর্টে আপীল করেন মুজাহিদ। তবে সর্বোচ্চ সাজা হওয়ায় আপীল করেননি রাষ্ট্রপক্ষ। ট্রাইব্যুনালের পুরো রায়ের বিরুদ্ধে ১১৫টি যুক্তি নিয়ে আপীল করেন মুজাহিদ।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তার রায়ে ৭টি অভিযোগে মধ্যে ৫টি অভিযোগ প্রসিকিউশন সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পেরেছেন। মুজাহিদের বিরুদ্ধে আনা ৭টি অভিযোগের মধ্যে ৫টি প্রমাণিত হয়েছে এবং ২টি প্রসিকিউশন প্রমাণ করতে পারেননি বলে ট্রাইব্যুনালের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১, ৩, ৫, ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এবং ২ ও ৪ নম্বর অভিযোগ প্রসিকিউশন প্রমাণ করতে পারেননি। প্রমাণিত ১ নম্বর অভিযোগকে ৬-এর সঙ্গে সংযুক্ত করে এ দু’টি অভিযোগে সমন্বিতভাবে ও ৭ নম্বর অভিযোগে মুজাহিদকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ-, ৫ নম্বর অভিযোগে যাবজ্জীবন এবং ৩ নম্বর অভিযোগে ৫ বছরের কারাদ-াদেশ দেয়া হয়েছে। প্রমাণিত না হওয়া ২ ও ৪ নম্বর অভিযোগে খালাস পেয়েছেন মুজাহিদ।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আলী আহাসান মুহাম্মদ মুজাহিদের বিরুদ্ধে ১ নম্বর অভিযোগকে ৬ নম্বর অভিযোগের সঙ্গে একীভূত করে ৬ ও ৭ অভিযোগের একসঙ্গে রায় দেয়া হয়েছে। ১ নম্বর অভিযোগে ছিল, শহীদ সাংবাদিক সিরাজ উদ্দিন হোসেন হত্যা ও ৬ নম্বর অভিযোগে ছিল সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটিতে থাকা নেতা হিসেবে গণহত্যা সংঘটিত করা, পাকিস্তানী সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করা, হত্যা, নির্যাতন, বিতাড়নের ঘটনা। প্রথম অভিযোগে শহীদ সাংবাদিক সিরাজ উদ্দিন হোসেন হত্যার ঘটনায়ও তার সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি (উর্ধতন নেতৃত্ব) দায় ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অভিযোগ প্রসিকিউশন সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করতে পেরেছেন বলে ট্রাইব্যুনালের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রমাণিত প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, একাত্তরের ১০ ডিসেম্বর চামেলীবাগ থেকে ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদক সিরাজ উদ্দিন হোসেনকে অপহরণ করা হয়। মুজাহিদের পরিচালনাধীন ও নিযন্ত্রণাধীন ৭Ñ৮ জন যুবক তাকে ধরে মিনিবাসে তুলে নেয়। আজ পর্যন্ত তার কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি।

৬ নম্বর অভিযোগে বলা হয়েছে, একাত্তরের ২৭ মার্চের পর ঢাকার মোহাম্মদপুর ফিজিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে দখলদার পাকিস্তান সেনাবাহিনী ক্যাম্প তৈরি করে। পরবর্তীতে রাজাকার ও আলবদর বাহিনী প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর তারাও ওই স্থানে ক্যাম্প করে প্রশিক্ষণ গ্রহণসহ অপরাধজনক নানা কার্যক্রম চালায়। আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ইসলামী ছাত্রসংঘের সেক্রেটারি হওয়ার সুবাদে আর্মি ক্যাম্পে গিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করতেন। ছাত্রসংঘের ও আলবদর বাহিনীর সুপিরিয়র নেতা হিসেবে আর্মি ক্যাম্পে উপস্থিত উর্ধতন সেনা অফিসারের সঙ্গে স্বাধীনতাবিরোধী নানা অপরাধের পরামর্শ ও ষড়যন্ত্র করতেন। এ ধরনের পরামর্শ ও ষড়যন্ত্র মাধ্যমে আসামি আলী আহসান মোহামদ মুজাহিদ ১০ ডিসেম্বর থেকে পরিচালিত বুদ্ধিজীবী নিধন অভিযানসহ সারা বাংলাদেশের দখলদার পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সহযোগী বাহিনীসহ হত্যা, নির্যাতন, বিতাড়নে ইত্যাদিসহ যাবতীয় মানবতবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা সংঘটিত করেন।

৭ নম্বর অভিযোগে বলা হয়েছে, একাত্তরের ১৩ মে আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের নির্দেশে রাজাকার বাহিনী ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার বকচর গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ করে। শান্তি কমিটির বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বকচর গ্রামের হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় হামালা চালিয়ে বীরেন্দ্র সাহা, উপেন সাহা, জগবন্ধু মিস্ত্রি, সত্যরঞ্জন দাশ, নিরদবন্ধু মিত্র, প্রফুল্ল মিত্র, উপেন সাহাকে আটক করা হয়। উপেন সাহার স্ত্রী রাজাকারদের স্বর্ণ ও টাকা দিয়ে তার স্বামীর মুক্তি চান। রাজাকাররা সুনীল কুমার সাহার কন্যা ঝুমা রানীকে ধর্ষণ করে। পরে আটক হিন্দু নাগরিকদের গণহত্যা করে। এ দুই অভিযোগ মুজাহিদকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ- প্রদান করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ ৫ এ কারাদ- প্রদান করা হয়েছে। ঢাকার নাখালপাডায় পুরনো এমপি হোস্টেলে শহীদ সুরকার আলতাফ মাহমুদসহ কয়েকজনকে হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদ-াদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। আলী আহাসান মুহাম্মদ মুজাহিদের বিরুদ্ধে প্রমাণিত অন্য আটক-নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয় ফরিদপুর জেলার কোতোয়ালি থানার গোয়ালচামট (রথখোলার) মৃত রমেশচন্দ্র নাথের পুত্র রণজিত নাথ ওরফে বাবু নাথকে আটক ও নির্যাতনের ঘটনায়। এটি ছিল ৩ নম্বর অভিযোগে। এ অভিযোগে ৫ বছরের কারাদ-াদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। ২ ও ৪ নম্বর অভিযোগ প্রসিকিউশন প্রমাণ না করতে পারায় সেই অভিযোগ থেকে মুজাহিদকে খালাস দেয়া হয়েছে।

প্রকাশিত : ১৬ জুন ২০১৫

১৬/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: