আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ঘুম হোক শান্তিতে

প্রকাশিত : ১৫ জুন ২০১৫
  • পান্থ আফজাল

‘আয় আয় চঁাঁদ মামা টিপ দিয়ে যা...’-ছোটবেলায় এমন ঘুমপাড়ানি গান গেয়ে মমতাময়ী মা আমাদের ঘুম পাড়াত নিজে নির্ঘুম থেকে। সুন্দর জীবনযাপনে ঘুমের প্রয়োজনীয়তা বলে শেষ করা যাবে না। দিন কি রাত, কাজের পর ক্লান্তিতে শরীর অবসন্ন হয়ে যায়; শরীর তখন চায় আরাম, চায় ঘুম। ঘুম আপনার, আমার সবার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি জিনিস। সারা দিনের কাজের শেষে রাতে বিছানায় গা এলিয়ে দেয়ার মধ্যে যে প্রশান্তি, তা হয়ত অন্যকিছুতে পাওয়া কষ্টকর! মানুষের শরীরের বৃদ্ধি, হজমক্রিয়া ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কার্যকলাপ ঘুমের মধ্যেই বেশি হয়। একটি ভাল ঘুম আপনাকে করে তুলবে সজীব ও দুশ্চিন্তাহীন।

বিছানা ও শোবার ঘরের

উপযুক্ত পরিবেশ

ভাল ঘুমের জন্য সব থেকে বেশি দরকার নিজের ক্ষেত্রগুলোতে উপযুক্ত পরিবেশ। সেজন্য সর্বপ্রথম বিরক্তিকর ক্রিয়াকর্ম অর্থাৎ, বেশি টিভি দেখা, অতিরিক্ত ফোনে কথা বলা, বেশি খাওয়া, অসময়ে ব্যায়াম করা, অতিরিক্ত কম্পিউটারের ব্যবহার বন্ধ রাখুন ঘুমানোর আধা ঘণ্টা আগে।

ঘুমানোর আগে বেশি

খাবার গ্রহণে সতর্কতা

ঘুমানোর আগে যতটুকু প্রয়োজন, তার বাইরে বেশি খাবার গ্রহণ আপনাকে অসুস্থ করে ফেলতে পারে। বেশি ঝাল মসলাযুক্ত খাবার না খাওয়ার চেষ্টা করুন। অনেকেই মসলাযুক্ত খাবার বেশি পছন্দ করেন। এ ধরনের খাবারে প্রচুর গ্যাস সৃষ্টি হয়, যা এ্যাসিডিটি জাতীয় অসুস্থতার জন্ম দিতে পারে।

ঘুমের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করুন

রাতে ভাল ঘুমানোর জন্য শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি নেয়াটা অত্যন্ত জরুরী। রাতে ঘুমানোর আগে শাওয়ার নিতে পারেন। এতে শরীর ফ্রেশ থাকবে। এছাড়া শাওয়ারের পর বিছানায় শুলে স্বাভাবিকভাবেই একজন মানুষের ঘুম আসে। রাতে ঘুমানোর জন্য ঢিলেঢালা পোশাক ব্যবহার বাঞ্ছনীয়। উজ্জ্বল আলো আপনার শরীরকে বিভ্রান্ত করে।

ঘুমানোর সময় পজিশন ঠিক রাখুন

ঘুমানোর জন্য সঠিক পজিশন বেছে নেয়া জরুরী। ঘুমানোর জন্য আপনার শরীরকে সোজা রাখুন। ঘাড় এবং মাথা যাতে উঁচু-নিচু না থাকে। রাতে ঘুমানোর জন্য কোলবালিশ খুবই উপকারী। উপুড় হয়ে ঘুমানোর অভ্যাস পরিহার করুন। কারণ বুকে ভর দিয়ে ঘুমালে ব্যথা হতে পারে। যদি সেভাবে ঘুমানোর অভ্যাস থেকেই থাকে, তাহলে নিচে একটি বালিশ রাখুন। এতে বুকের পেশিতে চাপ কম পড়বে।

ভাল অভ্যাস, ভাল ঘুম

প্রতিদিন একইভাবে এই নিয়ম অনুসরণ করলে ভাল ঘুমের অভ্যাস গড়ে উঠবে সহজেই! তবে এখানে কিছু ব্যাপার আছে। আপনার যদি ঘুমাতে ৩০ মিনিটের বেশি সময় লাগে, কিংবা মাঝরাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে যায়, তাহলে বুঝতে হবে আপনি স্বাভাবিকের চাইতে বেশি ঘুমাচ্ছেন। সেটা পরিহার করার চেষ্টা করবেন। প্রতিদিন শরীরকে ৮ ঘণ্টা ঘুমানোর জন্য তৈরি করুন। এছাড়া নিয়মিত ব্যায়াম করুন। শরীরে জমা হওয়া শক্তি খরচ হতে দিন। সাঁতার কাটুন, দৌড়ান, সাইক্লিং করুন।

সবসময় মনে রাখবেন, শরীরকে পরবর্তী কাজে পরিচালিত করতে ঘুম অত্যন্ত মূল্যবান। আর ভাল ঘুমের ফলাফল আগামীর নতুন সম্ভাবনা। তাই, ভাল ঘুম দিন, ভাল অভ্যাস গড়ে তুলুন।

ছবি : ওয়ারেসুল সামী

মডেল : রানী আহাদ

প্রকাশিত : ১৫ জুন ২০১৫

১৫/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: