মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ড্রই হলো ফতুল্লা টেস্ট

প্রকাশিত : ১৫ জুন ২০১৫

মিথুন আশরাফ ॥ ফতুল্লা টেস্ট শেষে দুই দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম ও বিরাট কোহলি শিরোপা হাতে ছবি তুলছেন। দুইজনই এ শিরোপা নিজেদের করে নিলেন। শেষপর্যন্ত বৃষ্টিতে টেস্ট যে ড্র হয়েছে। শিরোপা জয়ের সুখ তাই ভাগাভাগি হলো। শিরোপা হাতে দুইজনের মুখেই হাসি দেখা গেল। ভারতের প্রথম ইনিংসে করা ৪৬২ রানের জবাবে প্রথম ইনিংসে ২৫৬ রান করে ফলোঅনে পড়ল বাংলাদেশ, দুইদিন খেলা হলে বাংলাদেশ শিবিরে অস্বস্তিই ধরতে পারত। তাই মুশফিক স্বস্তির হাসি দিচ্ছেন, তা বোঝাই যাচ্ছে। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ২৩ রান করতেই যে খেলা ড্রতে শেষ হলো, তাতে কোহলি কী মন থেকে হাসতে পারলেন? বৃষ্টিতে টেস্ট ড্র হওয়াতে যে ক্ষতি ভারতেরই হলো।

এ ড্রতে কার লাভ হলো? এ প্রশ্ন উঠতেই, বাংলাদেশের দিকেই নজর যাচ্ছে। সবদিক দিয়েই লাভ হয়েছে বাংলাদেশের। এ টেস্টেই তামিম ইকবাল দেশের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ব্যাটসম্যান হয়েছেন। দেশের মাটিতে প্রথম বাংলাদেশী ক্রিকেটার হিসেবে ১০০ উইকেট ও ২০০০ রান করার ক্ষমতা দেখিয়েছেন সাকিব। টেস্টে শেষদিন পর্যন্ত ভারত যে দাপট দেখিয়েছে, তাতে বৃষ্টি না হলে ম্যাচটিতে মুশফিকরা হারতেও পারত। সেই হার থেকে রক্ষা মিলল। সঙ্গে রেটিংও বাড়ল। ভারতের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে খেলতে নামার আগে কোন হার হলো না। তাতে আত্মবিশ্বাস বজায় থাকল। বাংলাদেশেরই লাভ হলো।

ভারতের এ ম্যাচ ড্র হওয়াতে ক্ষতিই হলো। এখন যে র‌্যাঙ্কিংয়ের ৩ নম্বরে আছে, তা থেকে একধাপ নিচে নেমে গেল। ৪ নম্বরে নামল। সঙ্গে ওয়ানডে সিরিজ শুরুর আগে কোন জয় নিয়ে মাঠে নামতে পারবে না। এ টেস্ট ড্রটি ভারতকে চিন্তায়ও ফেলতে পারে। ক্রিকেটাররা আফসোসে পুড়তে পারে। সেই চিন্তা মনে গেঁথে গেলেই এর প্রভাব ওয়ানডে সিরিজেও পড়তে পারে। তাতে ওয়ানডেতে ভারতের ক্ষতিও হতে পারে।

ভারত ইনিংসে সবচেয়ে বেশি ১৭৩ রান করা শিখর ধাওয়ান ম্যাচসেরা হয়েছেন। তিনি অবশ্য ম্যাচ শেষে বৃষ্টি নিয়ে ভাবনা না হওয়ার কথাই জানিয়েছেন। তাতে যে খেলায় প্রভাব পড়তে পারে, তা নিজের ব্যাটিংয়ের সময়ের ভাবনা দিয়েই বুঝিয়ে দিয়েছেন। বলেছেন, ‘আমি ব্যাটিং উপভোগ করেছি। (মুরলি) বিজয়ও (১৫০ রান) দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছে। সঙ্গে আমাদের পর (আজিঙ্কেয়া) রাহানেও (৯৮ রান) অসাধারণ ব্যাটিং করেছে। যখন বৃষ্টি হয়েছে, তখন শুধু মাঠ থেকে বের হয়েছি। বৃষ্টি নিয়ে একদম ভাবিনি। তা নিয়ে ভাবলে ব্যাটিংয়ে প্রভাব পড়বে।’ ধাওয়ান বুঝিয়ে দিলেন, বৃষ্টি নিয়ে ভেবে লাভ নেই। যা হওয়ার তাই হবে।

তবে ভারত টেস্ট দলের অধিনায়ক বিরাট কোহলির কণ্ঠে কিন্তু ঠিকই বৃষ্টি নিয়ে হতাশা ঝড়েছে। যদিও একটু ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে হতাশার কথা বলেছেন, ‘দুই দলের জন্যই হতাশার (বৃষ্টি পড়া)। আমরা ৫ দিন খেলতেই ভালবাসী। রবীচন্দ্রন অশ্বিন (৫/৮৭) ও হরভজন সিং (৩/৬৪) ব্যাটসম্যানদের চাপে রেখেছেন। অধিনায়ক হিসেবে অনেক সন্তুষ্ট আমি। যদি বৃষ্টি না আসত তাহলে হয়ত পেসারদের কাজে লাগাতাম। স্পিনারদের একটু বিশ্রাম দিতাম। কিন্তু কন্ডিশন কারও নিয়ন্ত্রণে থাকে না।’ হতাশা ঝড়েছে কোহলির কণ্ঠে।

মুশফিক কী বলছেন? ‘এত বেশি বৃষ্টি হওয়ার পর আসলে কোন কিছুই নিয়ন্ত্রণে থাকে না। আমাদের বোলাররা এমন ফ্ল্যাট উইকেটে ভাল বল করেছে (সাকিব-৪ উইকেট, জুবায়ের ২ উইকেট নিয়েছে)। বিতর্ক হতে পারে। কিন্তু কোনভাবেই এমন বিষয় ছিল না ব্যাটসম্যানরা দ্রুত রান তুলবে। ফলোঅন এড়ানেই সবার আগে লক্ষ্য ছিল।’

সেই ফলোঅন কোথায় এড়ানো গেল। ব্যাটসম্যানরা এত বেশি তাড়াহুড়ো করলেন, এত বেশি ভুল শট খেললেন যে ফলোঅনেই পড়তে হলো। আগেরদিন ৩ উইকেটে ১১১ রান করেছিল বাংলাদেশ। পঞ্চমদিনে এসে দুই সেশনের শুরু ভালভাবে হতেই ৭ উইকেটে আরও ১৪৫ রান করতে পারল। ইমরুল কায়েস (৭২) শতক করার স্বপ্ন দেখিয়েও পারলেন না। সাকিব করলেন ৯ রান। তাতে দেশের মাটিতে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ২০০০ রান ঠিকই করলেন, কিন্তু যেভাবে ভুল শটে আউট হলেন, দলকে বিপাকেই ফেলে দিলেন। সৌম্য সরকার ৩৭ রানেই আউট হয়ে গেলেন। ঝলক যা একটু দেখালেন অভিষেক টেস্ট খেলা লিটন কুমার দাস (৪৪)। ভবিষ্যত তারকা ক্রিকেটার হওয়ার ইঙ্গিত দিলেন। কিন্তু তাতে বাংলাদেশ ফলোঅন এড়াতে পারল না।

বাংলাদেশের ব্যাটিং দেখে বোঝা গেল, যদি ভারত দুইদিন পেত; অঘটন ঘটিয়ে দিত। সেই অঘটনে বাংলাদেশের হার হতো। দ্বিতীয় ইনিংসে যখন বাংলাদেশ খেলতে নামল, তখন ম্যাচের ৩০ ওভার বাকি। ১৫ ওভারে ২৩ রান করতেই সমঝোতায় ম্যাচ শেষ হয়ে গেল।

ভারত যে সময়টুকু পেল, তাতেই বাংলাদেশকে বিপাকে ফেলল। পাঁচদিনে ১৫ সেশনের মধ্যে সাড়ে ৮ সেশনই খেলা হলো না। পঞ্চমদিনেও বৃষ্টিতে এক সেশন পুরো খেলা গেল না। যদি এ সাড়ে ৮ সেশন খেলা হতো, তাহলে বাংলাদেশই বিপদে পড়তে পারত। তা হয়নি। এখন যে ফল নিয়ে থাকতে হচ্ছে, সেটি হচ্ছে যেভাবেই হোক ফতুল্লা টেস্ট ড্র হয়েছে। বাংলাদেশ এর আগে ৯০ টেস্ট খেলে ১২ টেস্টে ড্র করেছিল। এর মধ্যে জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে দুটি, ভারত, নিউজিল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে একটি করে ম্যাচ বৃষ্টির জন্য ড্র করেছে। ৯১ টেস্টে এসে ফতুল্লা টেস্টও ড্র করল বাংলাদেশ।

প্রকাশিত : ১৫ জুন ২০১৫

১৫/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: