মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

উচ্চশিক্ষার মান!

প্রকাশিত : ১৪ জুন ২০১৫

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রসমূহ প্রায়শ সংবাদ শিরোনাম হয়। সুযোগের অপ্রতুলতা নয়, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই গুণগতমান বজায় রাখতে না পারার কারণে। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে শুক্রবারও হতাশাজনক খবর প্রকাশিত হয়েছে সহযোগী একটি দৈনিকে। খবরটি হলো চলতি বছর এশিয়ার মর্যাদাপূর্ণ ১০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় স্থান পায়নি বাংলাদেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষার মান, গবেষণাসহ কিছু মানদণ্ডের বিচারে যুক্তরাজ্যের লন্ডনভিত্তিক সাপ্তাহিক টাইমস হায়ার এডুকেশন (টিএইচই) ২০১৫ সালে এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থানভিত্তিক এ তালিকা তৈরি করে। এই ক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশ ভারতের নয়টি বিশ্ববিদ্যালয় তালিকায় ঠাঁই পেয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় পাকিস্তানের অবস্থানও বাংলাদেশের পর্যায়ে। তালিকায় সর্বোচ্চ স্থানটি দখল করেছে জাপানের টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়। তালিকায় জাপান ও চীনের অবস্থান লক্ষণীয়। এতে জাপান শীর্ষে থাকলেও খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যার দিক থেকে এগিয়ে আছে চীন। তালিকায় জাপানের ১৯টি ও চীনের ২১টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান করে নিয়েছে। এই তালিকা প্রমাণ করে আমাদের উচ্চশিক্ষার মান নিয়ে নানা সময়ে যে প্রশ্ন উঠত তা ভিত্তিহীন ছিল না। উচ্চশিক্ষার মানে এমন অবস্থান কোন অবস্থায়ই প্রত্যাশিত নয়।

শিক্ষা-দীক্ষায় এক সময় পশ্চাদপদ ছিল পূর্ব বাংলা। মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর এখানে উচ্চশিক্ষার প্রসার হয়। সময়ের ধারায় আজ সরকারী-বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৮০টির উপরে। বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম রয়েছে দেশে-বিদেশে। এক সময় প্রাচ্যের অক্সফোর্ড বলা হতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ও ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয়। এ সব বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার মান, শিক্ষকের মান এবং শিক্ষার পরিবেশ ছিল অনেক উন্নত। সারাদেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের প্রথম আকর্ষণ ছিল এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাদের মেধা ও মননশীলতার স্বাক্ষর রেখে চলেছে। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার অর্ধ ডজনের মতো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করেছে, জেলা এমনকি উপজেলা পর্যায়ে অনেক কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে উন্নীত করেছে, অনেক বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদনও দিয়েছে। কিন্তু শিক্ষার মান এবং দক্ষ শিক্ষক তৈরি বা নিয়োগের বিষয়টি এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত করতে পারেনি। নানা কারণে অতীতের গৌরবও ধরে রাখতে পারছে না প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় রাজনীতির অনুপ্রবেশ দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার পরিবেশকে কলঙ্কিত করছে। এক সময় ছাত্র রাজনীতি ছিল দেশ, জাতি, জনগণ ও ছাত্রছাত্রীদের কল্যাণে নিবেদিত, সেসব ছিল গৌরবমন্ডিত। সে সময় মেধাবীরাই ছাত্র রাজনীতির নিয়ন্ত্রক ছিল। ক্রমশ সেই জায়গা দখল করেছে অস্ত্রবাজ সন্ত্রাসী আর অছাত্ররা। ক্ষমতায় যেতে এবং ক্ষমতায় থাকতে তাদের ব্যবহার করা হয়, এমনকি ক্ষমতার রাজনীতির স্বার্থে ছাত্রদের হাতে বইয়ের পরিবর্তে এক সময় অস্ত্র তুলে দেয়া হয়েছে। যে অস্ত্র ব্যবহƒত হয় প্রতিপক্ষ সতীর্থদের বিরুদ্ধে, হল দখল আর টেন্ডার দখলে। বিগত প্রায় দুই দশক ধরে শিক্ষক রাজনীতিও নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। এই রাজনীতিতে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ দরকার, দরকার দক্ষ শিক্ষক, সব ধরনের শিক্ষামূলক গবেষণা, সঙ্কীর্ণ রাজনীতির কুলষমুক্ত শান্তিময় ক্যাম্পাস। সার্টিফিকেটসর্বস্ব শিক্ষা বা পুঁথিগত বিদ্যা নয়, দরকার আলোকিত মানুষ গড়ার জন্য সৃজনশীল শিক্ষা। শিক্ষার মান ও মানদ- বজায় রাখতে এর বিকল্প নেই। দৃষ্টি দিতে হবে এদিকেই।

প্রকাশিত : ১৪ জুন ২০১৫

১৪/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: