আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন খাতে বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবী

প্রকাশিত : ১৩ জুন ২০১৫, ০২:১৭ পি. এম.

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন খাতে বাজেটে বরাদ্ধ বৃদ্ধির দাবী জানিয়েছে পানি নিয়ে কাজ করা একাধিক সংগঠন। খাতগুলোতে শহর ও গ্রাম ভিত্তিক বিদ্যমান বরাদ্দ বৈষম্যও দূর করার দাবী জানিয়েছেন তারা।

শনিবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটিতে ‘পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন (ওয়াশ) খাতে বৈষম্য কমাতে বাজেটে সুষম বরাদ্দ নিশ্চিতকরণের দাবী’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবী জানায় খাতগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মরত বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা এবং নেটওয়ার্কের প্রতিনিধিরা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন (ওয়াশ খাতে বরাদ্দের ক্ষেত্রে গ্রাম ও শহরের বৈষম্য বিগত অর্থ বছরের তুলনায় ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। দুর্গম ও সুবিধা বঞ্চিত হাওর, উপকূল, পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং চা-বাগানের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য সুনির্দিষ্ট প্রকল্প গ্রহণ না করায় বাজেটে এ বরাদ্দ প্রায় শূণ্যের কাছাকাছি। গত অর্থবছরে বরাদ্দ প্রায় ১.৬৪ শতাংশ থাকলেও প্রস্তাবিত বাজেটে তা কমে ১.৫৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা ২০০৭-০৮ সালের মোট বরাদ্দের তুলনায়ও ০.০৩ শতাংশ কম।

ওয়াটার এইড বাংলাদেশের পলিসি ও এডভোকেসি বিভাগের প্রধান শামীম আহমেদ গত নয় বছরের বাজেটের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে বলেন, এ খাতে বরাদ্দ হ্রাস পাওয়ায় আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। খাতগুলো যতটা গুরুত্ব পাওয়ার কথা ততোটা পায় নি। শতাংশিক হিসাবে যেমন বরাদ্দ কমেছে ঠিক তেমনি জিডিপির বরাদ্দও পূববর্তী বছরের তুলনায় কম। তিনি আরও বলেন, পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন (ওয়াশ) এর জন্যে প্রস্তাবিত বাজেটে মাথাপছিু ব্যয় ধরা হয়েছে মাত্র ২৯৩ টাকা। গত অর্থবছরে তা ছিল ২৭৭ টাকা। আর শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে মাথাপিছু ব্যয় ৬১৭ টাকা। জীবনমান উন্নয়নে মাথাপিছু ব্যয় ২৯৩ টাকা যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে এ ব্যয় বৃদ্ধির আহ্বান জানান তিনি।

তথ্য উপস্থাপনকালে শামীম আহমেদ আরও বলেন, শহর ও পল্লী এলাকার মাথাপিছু বরাদ্দে বিস্তর বৈষম্য রয়েছে। শহর এলাকায় মাথাপিছু ব্যয় ১ হাজার ১২২ টাকা হলেও গ্রাম এলাকায় তা মাত্র ৪১ টাকা।

শতাংশিক হিসাবে কয়েকটি খাতে বরাদ্দ হ্রাস করা সত্ত্বেও পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন খাতে বাজেটে বরাদ্ধ বৃদ্ধির দাবীর যৈক্তিকতা প্রসঙ্গে জনকন্ঠের ছোড়া এক প্রশ্নের জবাবে ওয়াটার এইড বাংলাদেশের দেশীয় প্রতিনিধি ডা: খায়রুল ইসলাম বলেন, সব মাপকাঠিতে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। প্রতি বছরই অর্থমন্ত্রীর উত্থাপিত বাজেটে খাতগুলো নিয়ে অত্যন্ত একটি অনুচ্ছেদ থাকে, এ বছর পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন নিয়ে একটি বাক্যও লেখা নেই। স্বাস্থ্যের সাথে পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন গভীরভাবে সম্পৃক্ত। শিশু মৃত্যুর হার কমানোর ক্ষেত্রেও এ খাতের অবদান অন্যতম। ঢাকার মানুষ অল্প দামে পানি পাচ্ছে, একই পানি বেশ কিছু এলাকায় ৩৫০ গুণ বেশি দামে কিনে খেতে হচ্ছে। এলাকাভেদে পিছিয়ে পড়া দূর করতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে, বৈষম্যও কমাতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ সেন্টারের কনসালেন্ট ও অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ পোদ্দার, ইউনিসেফ প্রতিনিধি মো: মনিরুল আলম, ওয়াটার সাপ্লাই এন্ড স্যানিটেশন কোলাবোরেটিভ কাউন্সিলের ন্যাশনাল কো অর্ডিনেটর শাহ মো: আনোয়ার কামাল, ফ্রেশ ওয়াটার একশন নেটওয়ার্ক সাউথ এশিয়ার বাংলাদেশ অধ্যায়ের আহ্বায়ক ইয়াকুব হোসেন, বাংলাদেশ ওয়াশ এলায়েন্সের প্রতিনিধি অলক মজুমদার প্রমুখ।

প্রকাশিত : ১৩ জুন ২০১৫, ০২:১৭ পি. এম.

১৩/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: