আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

উন্নয়নের কথা বলে গণতন্ত্রকে দূরে সরিয়ে রেখেছে আওয়ামী লীগ ॥ মঈন খান

প্রকাশিত : ১৩ জুন ২০১৫, ০১:১৫ এ. এম.

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ উন্নয়নের কথা বলে গণতন্ত্রকে দূরে সরিয়ে রেখেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খান। তিনি বলেন, যারা গণতন্ত্রের বিপক্ষে কথা বলছেন তারা কখনও স্বাধীনতা সংগ্রামের পক্ষের শক্তি হতে পারেন না। দেশের মানুষ এখন একমুঠো খাবার নয়, কথা বলার স্বাধীনতা চায় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ‘শহীদ জিয়ার রাজনীতি ও আজকের বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় মঈন খান এসব কথা বলেন। জিয়াউর রহমানের ৩৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্বাধীনতা ফোরাম এ সভার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে দেশে গণতন্ত্র নেই উল্লেখ করে মঈন খান বলেন, একটি পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে গণতন্ত্রের আগে দেশের উন্নয়ন প্রয়োজন। অথচ মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল কারণ ছিল দুটি। একটি গণতন্ত্র এবং অন্যটি অর্থনৈতিক মুক্তি। তাহলে যারা আজ গণতন্ত্রের আগে উন্নয়নের কথা বলছেন তারা স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি হলেন কিভাবে? আসলে তারা স্বাধীনতার বিপক্ষে কথা বলছেন। কাউকে এখন একমুঠো খাবার আর মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মধ্যে একটি বেছে নিতে বলা হলে সে দ্বিতীয়টিই নেবে।

তিনি বলেন, ১৬ কোটি মানুষ একমুঠো খাবার নয়, কথা বলার স্বাধীনতা চায়। অথচ তাদের মতপ্রকাশের, রাজনীতি করার স্বাধীনতা সরকার হরণ করেছে। দেশে এখন গণতন্ত্র নেই তাই উন্নয়নের বুলি অর্থহীন। সরকার বলছে উন্নয়ন করবে, গণতন্ত্র থাকবে বকেয়া। এটা হয় না, এটা হতে পারে না। এটা আদর্শিক কোন কথা নয়।

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়ার কর্মকা- তুলে ধরে মঈন খান বলেন, জিয়াউর রহমানের ক্ষমতা ও অর্থের প্রতি কোন লিপ্সা ছিল না। যদি থাকত তাহলে ১৯৭১ সালেই তিনি ক্ষমতায় যেতে পারতেন। পরবর্তীতেও জিয়াউর রহমান নিজে থেকে ক্ষমতায় যাননি। কোটি কোটি মানুষের মধ্য থেকে খুঁজে এনে জোর করে তাঁকে ক্ষমতায় বসানো হয়। সিপাহী বিপ্লবের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার পর দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসে। বিশেষ সম্প্রদায় মনে করেছিল ৩০ বছর পরে জিয়াউর রহমানকে কেউ মনে রাখবে না। কিন্তু বাংলাদেশের ৭০-৮০ শতাংশ মানুষ তাঁকে মনে রেখেছেন, শ্রদ্ধা করছেন। জিয়া মাত্র সাড়ে তিন বছরে দেশের জন্য যা করে গেছেন ৩৪ বছরেও তা কেউ ছাড়িয়ে যেতে পারেনি। তাই বাংলাদেশকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে হলে জিয়াউর রহমানের আদর্শকে পুনরুজ্জীবিত করতে হবে।

তিনি বলেন, একটি আদর্শকে সামনে রেখে একাত্তরে স্বাধীনতাযুদ্ধ করেছিলাম। কিন্তু স্বাধীনতার পর আদর্শকে হত্যা করা হয়েছে। বাকশাল কায়েম করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের প্রধান অবলম্বন গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক মুক্তিকে এখন ভূলুণ্ঠিত করা হচ্ছে। নতুন প্রজন্ম অনেক কিছু জানতে পারছে না। নতুন করে পাঠ্যবই রচিত হয়েছে, ইতিহাস লেখা হচ্ছে। বাংলাদেশ আজব দেশ, যেখানে সরকার ইতিহাস লেখে। নতুন প্রজন্মকে সত্যিকারের ইতিহাস জানানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়ে বলেন, পাঠ্যবইয়ে কঠিন সত্যগুলো লেখা নেই। এগুলোও তাদের জানাতে হবে।

তিনি বলেন, আজ যারা স্বাধীনতার দাবিদার, তারা মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশ থেকে এদিক-সেদিক ছুটে গিয়েছিলেন। আজ যারা মুক্তিযুদ্ধের কথা বলেন, তারা ২৬ মার্চ ১৯৭১ সালে পলায়নপর ছিলেন। তারা আত্মরক্ষার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন। স্বাধীনতার পক্ষের লোকজন কোন্ পক্ষে কয়জন আছে তা যোগ-বিয়োগ করলে বের হয়ে যাবে।

সংগঠনের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমতুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তৃতা করেনÑ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য আ ফ ম ইউসুফ হয়দার, অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ।

সরকার ক্ষমতার জন্য দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়েছে ॥ নোমান

এদিকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান অভিযোগ করেছেন, ক্ষমতার জন্য সরকার তিস্তা চুক্তি না করে ভারতের কাছে দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়েছে। তিস্তায় পানি সঙ্কট প্রকট আকার ধারণ করেছে। আমরা আশা করেছিলাম, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরে তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি হবে। কিন্তু সেটি হলো না। আসলে সরকার ক্ষমতার জন্য ভারতের কাছে দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়েছে।

শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে একটি শোকসভা ও দোয়া মাহফিলে অংশ নিয়ে তিনি আরও বলেন, ২০ দলের সবার দর্শন এক নয়। আমাদের মধ্যেও পার্থক্য আছে। তবে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে আমরা এক হয়েছি। আন্দোলনের মাধ্যমে ৪-৫ বছর পার করেছি। ২০ দলের রাজনীতি দলীয় নয়, জনগণের। এ আন্দোলন সঠিক ছিল, আছে। আন্দোলনে আমাদের দুর্বলতার কোন কারণ নেই। স্বৈরাচারী যারাই হোক তাদের প্রধান হাতিয়ার অস্ত্র। ৬০-এর দশকে আমরা স্বৈরাচারী আইয়ুব সরকারকে লাঠি-পাথর দিয়ে প্রতিহত করেছি। এরশাদের বুলেটকেও পরাজিত করেছি। এবারও আমাদের এমন আন্দোলনের ফলে সরকার অন্তর্বর্তীকালীন নির্বাচন দিতে বাধ্য হবে।

তিনি বলেন, ভোটারবিহীন সরকারকে জনগণ বেশি দিন মেনে নেবে না। সরকারের পরাজয় একদিন হবেই। যেদিন পরাজয় হবে সেদিন থেকেই সরকারকে মুখ লুকিয়ে থাকতে হবে। কারণ সরকর মানুষের ওপর জুলুম করছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মীদের ওপর ফ্যাসিবাদী কায়দায় আক্রমণ চালানো হচ্ছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে কথা বলতে দেয়া হচ্ছে না। কিন্তু আমরা রাজনীতি করি। আমাদের ভাষাও হবে রাজনৈতিক। শক্তি ব্যালট, বুলেট নয়। স্বৈরাচারী সরকারের প্রধান অবলম্বন অস্ত্র ও আইন লঙ্ঘন করা। আমাদের নেতাকর্মীদের নির্বিচারে গুলি ও গুম করা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় অনেক যুবক গুম হয়েছে। এরপরও আমাদের সমর্থন আরও বেড়ে গেছে। অনুষ্ঠানে যুবদলের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বক্তৃতা করেন।

প্রকাশিত : ১৩ জুন ২০১৫, ০১:১৫ এ. এম.

১৩/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: