কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ইতিহাসের পাতায় ও জাদুঘরে যাওয়ার পথে মার্বেল

প্রকাশিত : ১৩ জুন ২০১৫

গ্রামীণ সড়ক অথবা বুনো ঝোপঝাড় কিংবা স্কুলের মাঠের ওপর সরু গর্ত। পাশে দুটি দাগ। বহু ব্যবহারের কারণে স্থানটির ঘাসগুলো মরে গেছে। আজকের প্রজন্মের শহরের শিশুরা না জানলেও গ্রামীণ শিশুদের এটি মার্বেল খেলার স্থান। গ্রাম এলাকায় এক সময় মার্বেল খেলার খুব প্রচলন ছিল। গ্রামের স্কুল পড়ুয়া শিশু থেকে রাখাল বালকরা পর্যন্ত দিনভর এ খেলায় মেতে উঠত। অধিকাংশ স্কুলের ছেলেদের তাদের ব্যাগে বই এর পাশাপাশি মার্বেল ভর্তি করে রাখত। এ জন্য শিক্ষকদের মার খায়নি এমন ছেলের সংখ্যা খুব কম। স্কুলের টিফিনের সময় দল বেঁধে মার্বেল খেলতে বেরিয়ে পড়ত। শিক্ষকরা পছন্দ না করলেও কে শোনে কার কথা। গ্রামের পায়ে চলা সরু পথ ছিল খেলার উপযুক্ত স্থান। এখন আর গ্রামে মার্বেল খেলা চোখে পড়ে না। তার বদলে স্থান করে নিয়েছে ক্রিকেট, ফুটবল অথবা কম্পিউটারের ভিডিও গেম। সময়ের পরিবর্তন হয়েছে। গ্রামে গ্রামে চলে এসেছে বিদ্যুত লাইন। প্রতি বাজারে বাড়িতে টেলিভিশন অথবা কম্পিউটার রয়েছে। ফলে আজকের শিশুরা মার্বেল খেলা ছেড়ে দিয়েছে। জানেই না কিভাবে খেলতে হয়।

মার্বেল খেলার জন্য তিন থেকে চারজনের প্রয়োজন হয়। সমতল মাটিতে দুটি দাগ কাটতে হয় প্রথমে। দুটি দাগের দূরত্ব হতে হয় তিন থেকে চার হাত। দাগ দুটির এক মাথায় থাকে গর্ত। গর্তটা ছোট একটি মার্বেল সাইজের। এটিকে কোট বলে। আগে নির্ধারণ করা হয় কে আগে চালবে। কে প্রথম মার্বেল চালবে তার নির্ধারণ পদ্ধতিও বেশ মজার। প্রথম দাগের এপাশ থেকে দ্বিতীয় দাগের ওপাশে যে গর্ত আছে তার ভেতর মার্বেল দেয়ার চেষ্টা করে দুজনই। যদি দুজনই ব্যর্থ হয় গর্তের ভেতর মার্বেল দিতে, তাহলে যার মার্বেল গর্তের কাছে থাকবে সেই হবে প্রথম। এবার খেলার পালা। যে প্রথম হবে সেই আগে খেলবে। সে মার্বেল দেবে তিন থেকে চারটি।

অপরজনের কাছ থেকে একই সংখ্যক মার্বেল নেবে। এবার প্রথম দাগের এপাশ থেকে দ্বিতীয় দাগের ওপাশে মার্বেলগুলো চালবে। দ্বিতীয়জন চিহ্নিত করবে ওই মার্বেলগুলো থেকে একটি মার্বেল। অর্থাৎ চিহ্নিত মার্বেলটিতে যেন না লাগে। প্রথমজন তার হাতের অন্য আর একটি মার্বেল দিয়ে যে কোন একটি মার্বেল দিয়ে আঘাত করবে। যে মার্বেলটি দিয়ে আঘাত করা হয় তাকে বলা হয় ডাগগি। যদি চিহ্নিত মার্বেল বাদে অন্য যে কোন একটি মার্বেলে আঘাত করতে পারে সব মার্বেল সে পেয়ে যাবে। যদি না পারে দ্বিতীয়জন একইভাবে খেলবে।

খেলার সময় যদি ওই মার্বেলগুলোর একটি গর্তের ভেতর পড়ে তাহলে সব মার্বেল যে চাল দেবে তার হয়ে যাবে। আবার যদি ওই ডাগগি একের অধিক মার্বেলে লাগে তবে তাকে অতিরিক্ত আরও একটি মার্বেল দিতে হবে ফাইন হিসেবে। এবং ওই দানটাও সে আর পাবে না। দ্বিতীয়জন আবার মার্বেল নিয়ে খেলবে। শুধু তাই নয় যদি মার্বেলগুলো চেলে দেয়ার সময় একটি মার্বেল দ্বিতীয় দাগের ভেতর পড়ে তাহলে তাকে ফাইন হিসেবে অতিরিক্ত একটি মার্বেল দিতে হবে। এই হলো মার্বেল খেলার নিয়ম।

সময় বদলে গেছে। এ যুগের শিশু-কিশোররা এখন ক্রিকেট বল ব্যাটের জন্য আবদার করে বাবা-মায়ের কাছে। তারা মার্বেল কিনতে চায় না। অথচ এক সময় গ্রামবাংলায় শিশু-কিশোরদের মার্বেলেই ছিল প্রধান খেলা।

এ যুগের শিশুরা বিশ্বাস করতে চায় না মার্বেল খেলাই ছিল বিনোদনের প্রধান মাধ্যম। মার্বেলের বাজারও ছিল এক সময়। যার জন্য অনেক শিল্প গড়ে উঠেছিল। আজ তা বিলুপ্তির পথে। কোন দোকানেই এখন আর মার্বেল পাওয়া যায় না। নতুন প্রজন্মের অনেকে মার্বেল চোখে দেখেনি আর কিভাবে তা খেলতে হয় তাও জানে না। একদিন মার্বেল খেলার কাহিনী যেমন বইয়ে লেখা থাকবে তেমনি মার্বেলের স্থান হবে জাদুঘরে।

Ñরাজু মোস্তাফিজ, কুড়িগ্রাম থেকে

প্রকাশিত : ১৩ জুন ২০১৫

১৩/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: