কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

মিশন বারমুডা ট্রায়াঙ্গল

প্রকাশিত : ১৩ জুন ২০১৫
  • মশিউর রহমান শান্ত

ড্যানিয়েল, টমাস এবং নাফিজ আহসান। তিনজনই দুর্ধর্ষ পাইলট। নাফিজ বাংলাদেশের ছেলে আর বাকি দু’জনই আমেরিকান। তবে তিনজনই ভাল বন্ধু। এই তিনজনের মাথাতেই ঘুরছিল বারমুডা রহস্যের কথা। কি এমন আছে ঐ জায়গাটিতে? কি এমন শক্তি কাজ করে যে সবকিছুই মিলিয়ে যায় হাওয়ার সঙ্গে কিংবা সাগরের জলের সঙ্গে যার কোন অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না? রহস্য উদ্ধারে তিনজনের আগ্রহ আকাশ সমান। আর এই আকাশ সমান আগ্রহ নিয়েই বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের আকাশপথে যাত্রা শুরু করল এই তিন পাইলট।

তবে যাত্রা শুরুর প্রথমেই ভাল মতো ম্যাপটা আবারও দেখে নিল নাফিজ। ম্যাপ ঠিকই আছে। মিয়ামি উপকূল, অন্যপাশে পুয়েত্রোরিকো দ্বীপপুঞ্জ অপরদিকে ফ্লোরিডাÑ এই তিনের মাঝের অংশটাই বারমুডা ট্রায়াঙ্গল। অনেকে বলে থাকে শয়তানের ত্রিভূজ। নাফিজের দিকে তাকিয়ে একটু মুচকি হেসেই ড্যানিয়েল বলল, কি নাফিজ ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজ আটলান্টা আর জার্মানির ফ্রেয়ার কথা মনে পড়ছে নাকি? ড্যানিয়েল বলার পরপরই টমাস বলল, শুধু এই দুটো কেন, জাপানের রাইফুকুমারু কিংবা ডগলার ডিসি-৩ ওরা কি দোষ করল? আরও তো অনেক আছে, ওদের কথাও মনে করা উচিত। কি বলো নাফিজ? নাফিজ মাথা নাড়াল। বারমুডা ট্রায়াঙ্গলে রওনা করার আগে এর ইতিহাস কোন কোন প্লেইন এবং জাহাজ এখানে এসে উধাও হয়েছে তা বেশ ভালভাবেই জেনে এসেছে তারা। তবে টমাসের ধারণা, যারা এখানে এসেছে তাদের দোষেই তারা উধাও হয়েছে।

তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই টমাস, ড্যানিয়েল এবং নাফিজের ধারণা সম্পূর্ণ বদলে গেল। কারণ বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের ম্যাপে তাদের এই এরোপ্লেন ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই তারা খেয়াল করল অদ্ভুত কোন কারণে রাডার কাজ করছে না। কোনভাবেই কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। কি হচ্ছে ঠিক বুঝে ওঠার আগেই তিনজন স্পষ্ট বুঝতে পারল, সামনে এমন কিছু ঘটতে যাচ্ছে, যার সঙ্গে তারা একদমই পরিচিত নয়। ঠিক মেঘ, কুয়াশা নাকি ঝড় সামনে কি সেটা বোঝার আগেই প্লেনটি ক্রাশ করল, বারমুডার সাগরে। এমনভাবে প্লেন ক্রাশ করবে তা এই তিনজনের কল্পনাতেও ছিল না। তবে ক্রাশ করার কিছুক্ষণ পরই ঘটল অলৌকিক এক ঘটনা। সাগরের ঠিক যে প্রান্তে প্লেন ক্রাশ করেছে সেখানে অনেক মানুষ দাঁড়িয়ে আছে। নাফিজ, ড্যানিয়েল এবং টমাস খুব অবাক হয়ে গেল। একবার মনে হল তারা তিনজন মারা গেছে। আর তাই স্বর্গ কিংবা নরকের মানুষগুলো দাঁড়িয়ে আছে তাদের অভ্যর্থনা জানাতে। কিন্তু ভাঙ্গা প্লেন থেকে বের হয়ে তারা দেখল এটা স্বর্গ কিংবা নরক নয়, এ এক অন্য জগত। এক অন্য পৃথিবী। সাগরের নিচের পৃথিবী। খুব অদ্ভুত বিষয় সাগরের নিচেও এখানে অক্সিজেন আছে। পানির মধ্যে হাঁটা চলা এমনকি নিঃশ্বাস নিতেও সমস্যা হচ্ছে না। নাফিজ অবাক দৃষ্টিতে দেখল কিছু মানুষ আসলেই তাদের অভ্যর্থনা জানানোর জন্য অপেক্ষা করছে। ড্যানিয়েল আর টমাস অবাক হয়ে দেখছে সাগরের নিচে অসংখ্য বাড়ি এবং বড় বড় দালান। কিছু ব্যস্ত মানুষ ছুটোছুটি করছে। কিছু বুড়ো বসে বসে চিৎকার করে বলছে মুক্তি চাই, মুক্তি চাই । কিন্তু নাফিজের মাথায় একটা জিনিস কোনভাবেই ঢুকছে না, সাগরের নিচে এত মানুষ কিভাবে বসবাস করছে। এত বাড়িঘর, বড় বড় দালান সবকিছু টিকে আছে কিভাবে? কিছুক্ষণের মধ্যেই এই জগতের একজন এসে বলল, এটা পৃথিবী নয়। পৃথিবীর বাইরের অংশ। ড্যানিয়েল অবাক হয়ে বলল, তার মানে বারমুডার রহস্য এটা? নাফিজ এখনও কিছু বলছে না। সে অবাক। এমন ঘটনা মেনে নিতে তার এখনও সময় লাগছে। এই জগতের লোকটি বলল, এটা রাজা আন্টালিসের হারানো শহর ছিল। একসময় শহরটি অনেক মানুষ নিয়ে ডুবে যায়। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কিছু বদলে গেছে। এক সময় এটার পৃথিবীতেই ছিল আস্তে আস্তে সবকিছু বদলে গেছে। কোন মানুষ চাইলেও এখান থেকে বের হতে পারে না। তবে আমাদের ঠিক ওপরে যে সমুদ্র এবং আকাশ আছে সেটা আমরা কন্ট্রোল করি। আমরা ইচ্ছে করলেই যে কেউকে ওপর থেকে নিয়ে আমাদের জগতে আমন্ত্রণ জানাতে পারি কিন্তু ইচ্ছে করলেই বিদায় জানাতে পারি না। বিদায়ের কোন ব্যাপার আমাদের মাঝে নেই। আপনাদের এখন আজীবন এখানেই কাটাতে হবে। আপনারা তিনজন এখন এই জগতের বাসিন্দা। নাফিজ ড্যানিয়েল এবং টমাস একজন আরেকজনের দিকে তাকিয়ে আছে। একটু দূরেই একদল মানুষ চিৎকার করছে আর বলছে, মুক্তি দাও, মুক্তি দাও।

তবে কিছু মানুষ খুব সুখী সুখী ভাব নিয়েও ঘুরে বেড়াচ্ছে। তবে যারা সুখী ভাব নিয়ে ঘুরছে তারা সবাই নতুন এখানে। যাই হোক পরের দিন নিউইয়র্ক টাইমসসহ বিশ্বের সব বড় পত্রিকার হেডলাইন ‘দুর্ধর্ষ তিন পাইলট নিয়ে এমআরএস ২৪৬ বিমান বারমুডা ট্রায়াঙ্গলে উধাও, বারমুডা রহস্য উদঘাটন এখনও সম্ভব হয়নি।’

প্রকাশিত : ১৩ জুন ২০১৫

১৩/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: