রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

মিরসরাইয়ে স্কুলছাত্রকে অপহরণের পর জবাই ॥ ৬ দিন পর লাশ উদ্ধার আটক ২

প্রকাশিত : ১৩ জুন ২০১৫

চট্টগ্রাম অফিস/মিরসরাই সংবাদদাতা ॥ মিরসরাইয়ে এক স্কুলছাত্রকে অপহরণের পর জবাই করে হত্যা করেছে অপহরণকারীরা। ঘটনার ছয়দিন পর শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে করেরহাট ইউনিয়নের নয়টিলা এলাকার গহীন জঙ্গলের পাহাড়ের নিচ থেকে ফারহান শাকিব (১৫) নামে ওই শিক্ষার্থীর মাথা ও হাত বিছিন্ন গলিত লাশ উদ্ধার করে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ। নিহত শাকিব জোরারগঞ্জ জেবি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র ও ধুম ইউনিয়নের মোবারকঘোনা গ্রামের নাছির আহম্মদের ছেলে। অপহরণ ও হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে হোসনে মোবারক রুবেল ও শহীদুল ইসলাম নামে দু’জনকে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ জুন (শনিবার) পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরে শাকিব। বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে গিয়ে আর বাড়ি ফেরেনি। বিভিন্নস্থানে খোঁজাখুঁজির পরও সন্ধান না পেয়ে পরদিন ৭ জুন জোরারগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। এর সূত্র ধরে জোরারগঞ্জ থানার এসআই হামিদ বিভিন্নস্থানে সন্ধান করতে থাকেন। একপর্যায়ে নিহত শাকিবের ব্যবহৃত মোবাইলের কল লিস্ট চেক করে প্রতিবেশী সরওয়ারের সংশ্লিতা পায়। এর পর পুলিশ তার ভাই হোসনে মোবারক রুবেল (২৮) ও তার মা স্বপ্নাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আটক করে। পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-৭’র একটি টিম বৃহস্পতিবার রাতে একই এলাকার কামাল মেম্বারের ছেলে শহীদুল ইসলামকে (২৪) ফেনী থেকে আটক করে। পরে তাকে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে বেরিয়ে আসে হত্যার রোমহর্ষক বিবরণ।

এ সময় শহীদ জানায়, শাকিবের প্রতিবেশী স্থানীয় দোকানি সরওয়ার দীর্ঘদিন আর্থিক সঙ্কটে ছিল। শাকিবের পরিবার বিত্তশালী হওয়ায় সরওয়ার টার্গেট করে শাকিবকে। মোটা অঙ্কের টাকার লোভে ঘটনার দিন বিকেলে শাকিবকে তার শ্বশুরবাড়ি করেরহাটে নিয়ে যাবে বলে মোবাইল ফোনে তার দোকানে ডেকে আনে। সেখান থেকে তাকে নিয়ে করেরহাট বাজারে গেলে অপর তিন অপহরণকারীসহ তাকে করেরহাটের গহীন জঙ্গলে নিয়ে যায় এবং এরপর তারা মুক্তিপণের বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। এ সময় সরওয়ার জানতে চায় বাড়ি থেকে সে কি বলে এসেছে? তখন শাকিব বলে, সরওয়ার কাকার শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার কথা। তখন অপহরণকারীরা ঘটনা ফাঁস হওয়ার ভয়ে মোটিভ পাল্টে মুক্তিপণ না চেয়ে হত্যার পরিকল্পনা করে। একপর্যায়ে মুক্তিপণ নিয়েও এ ঘটনা থেকে রেহাই পাবে না ভেবে অপহরণকারীরা ওই রাতেই তাকে জবাই করে হত্যা করে মাথা ও হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে লাশ স্থানীয় নয়টিলা মাজার এলাকার পাহাড়ের চূড়া থেকে প্রায় ৪০০ ফুট নিচে ফেলে দেয়। এ হত্যাকা-ে সরওয়ারের নেতৃত্বে চারজন অংশ নেয় বলে প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে বলে জানায় পুলিশ।

এদিকে নিহতের বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, পরিবারের লোকজন এবং সহপাঠীদের আর্তনাদে এলাকার আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। সহপাঠী, শিক্ষক এবং স্থানীয়রা এ হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

জোরারগঞ্জ থানার ওসি একেএম লিয়াকত আলী বলেন, অপহরণ ও হত্যার সঙ্গে জড়িত দু’জনকে আটক করা হয়েছে। অপর আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে নিহতের ভাই শহীদুল ইসলাম রুবেল বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

প্রকাশিত : ১৩ জুন ২০১৫

১৩/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: