কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

মেঘ-মল্লারে

প্রকাশিত : ১২ জুন ২০১৫
  • তৌফিক অপু

রিমঝিম এই বরষায় কাজে মন না লাগাটাই স্বাভাবিক। ঋতুরাণী বর্ষা যেন অনেকটাই চিন্তা চেতনার আবহাওয়া বদলে দেয়। সে কারণে বর্ষা নিয়ে রচিত হয়েছে নানা কবিতা, গান, প্রবন্ধ ইত্যাদি। বর্ষার স্নিগ্ধতা মুগ্ধ করে সবাইকে। তাই বলে ব্যস্ত এ নগরীতে স্নিগ্ধতায় মন ভুলে বসে থাকার কোন উপায় নেই। জীবিকার তাগিদে ছুটে যেতে হয়। রিমঝিম এই বর্ষা যেন ছুটে চলায় অনেকটা ছন্দ পতন ঘটায়। কাজের উদ্দেশ্যে বাইরে বের হওয়ার সময় দেখা গেল হঠাৎ বৃষ্টি। তখন কেতাদুরস্ত ভাবের অনেকটাই যেন ম্লান হয়ে যায়। এ কারণে বর্ষায় বাইরে যেতে বাড়তি কিছু প্রস্তুতির প্রয়োজন পড়ে। মূলত এই বাড়তি প্রস্তুতিই বর্ষাকালীন ফ্যাশন হিসেবে আখ্যায়িত। অর্থাৎ ভেজা কাদাময় পরিবেশ পাড়ি দিতে যে টিপটপ সাজসজ্জার প্রয়োজন, তা-ই বর্ষাকালীন ফ্যাশন হিসেবে প্রচলিত। কর্মজীবী মানুষের প্রধান যাতায়াত বাহন হচ্ছে রিকশা, সিএনজি অথবা বাস। মুশকিল হচ্ছে সব সময় হাতের কাছে এসব পাওয়া যায় না। যে কারণে বৃষ্টি মাথায় নিয়েই খুঁজতে হয় এসব, ছাতা না থাকলে তো সর্বনাশ। ভিজে আলুথালু হতে হয়। সব মিলিয়েই এক বিশ্রী অবস্থা। এ কারণেই বর্ষা ঋতুতে অতিরিক্ত টেককেয়ারের প্রয়োজন পড়ে। সেটা পোশাক-আশাকই হোক বা শারীরিক। এ সময়টায় পোশাকের প্রতি একটু বাড়তি যতœ নিতে হয়। এ কারণে ফ্যাশন হাউসগুলো বর্ষা উপযোগী পোশাক তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটায়। এ সময়টায় সুতির পোশাক বেশি প্রাধান্য পায়, যাতে বৃষ্টির পানি পড়লেও দ্রুত শুকিয়ে যায়। তাছাড়া পাকা রং না হলে জামার রং অন্যত্র লেগে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে হাল্কা রঙের পোশাক পরা উচিত। এছাড়াও সিনথেটিক কাপড় পরিহার করা শ্রেয়। কারণ ঘামে বা বৃষ্টিতে ভিজলে তা গায়ের সঙ্গে লেপ্টে থাকে যা বিরক্তিকর। শাড়ির ক্ষেত্রে সিল্ক অথবা জর্জেট পরা যেতে পারে। কারণ জর্জেট বা সিল্কে পানি লাগলেও তা দ্রুত শুকিয়ে যায়। যারা এসব কাপড়ে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না বা সুতিকে প্রাধান্য দেন তারা সø্যাপ কটন অথবা ভয়েল কাপড় ব্যবহার করে দেখতে পারেন। তবে রঙের দিকটা অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। ক্যাটকেটে কালার এই সিজনের জন্য বেশ অডলুকিং। পোশাকের সঙ্গে সঙ্গে স্যান্ডেল অথবা স্যুর দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। জলামগ্ন ঢাকা শহরে পথ চলতেও মনে হয় বিশেষ ট্রেনিংয়ের প্রয়োজন। একটু অসতর্ক হলেই কম্ম সাবাড়। যার ফলে প্রতিটি পদক্ষেপ খুব সাবধানে দিতে হয়। এ কারণেই জুতো বা স্যান্ডেল পরার ক্ষেত্রে বিশেষ দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন। সিøপার কিংবা হাইহিল এই বর্ষায় পরিহার করা উচিত। একটু উঁচু হিল পরলে সহজেই কাদামাটি এড়িয়ে পথ চলা সম্ভব। পেন্সিল হিলও পথ চলায় হুমকি স্বরূপ। এখন বাজারে অবিকল চামড়ার মতো সিনথেটিকের জুতো, স্যান্ডেল পাওয়া যায় যা বৃষ্টির দিনে বেশ উপকারী। এই বর্ষায় সবচেয়ে উপকারী বন্ধু হচ্ছে ছাতা এবং রেইনকোট। হঠাৎ বৃষ্টি যেন পরিপাটি বেশভূষাকে নষ্ট করতে না পারে সে জন্য এই বর্ষায় সব সময় ছাতা অথবা রেইন কোট সঙ্গে রাখা প্রয়োজন। বাজারে ব্যবহার উপযোগী বিভিন্ন সাইজ ও রঙের ফ্যাশনেবল ছাতা পাওয়া যায়। এর মধ্যে হাফ ফোল্ডিং, ফোল্ডিং, শর্ট লেনথ এবং লং লেনথের ছাতা পাওয়া যায়। লং লেনথের ছাতাগুলো সাধারণত স্ট্রং হয়ে থাকে। এদিকে সহজেই ব্যাগে ভরে রাখা যায় এমন ছাতাগুলোর মধ্যে শর্ট লেনথের বা হাফ ফোল্ডিং ছাতাই শ্রেয়। শরীফ, এটলাস, ইউএম বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দেশী বিদেশী ছাতা পাওয়া যায়। রং ও সাইজ ভেদে একেকটি ছাতার মূল্য পড়বে ২০০ থেকে ৪৫০ টাকা। যে কোন শপিংমলেই এখন দেখা মিলবে ছাতার। কাপড়, রঙ এবং ড্রেসিং দেখে ছাতা কেনা উচিত। তা না হলে ছাতা নিয়েও বিপাকে পড়তে পারেন। রেইন কোর্ট ট্রাউজার সেট এবং ফুল লেনথের পাওয়া যায়। ট্রাউজার সেটের মধ্যে দুটি পার্ট একটি জ্যাকেট অপরটি ট্রাউজার। ফুল লেনথ জ্যাকেট রেইন কোর্ট মূল্য এক পার্টের হয়ে থাকে। পা থেকে মাথা পর্যন্ত পুরোটাই থাকে এই রেইন কোর্ট। ট্রাউজার রেইন কোর্ট সেটের দাম পড়বে ৪৫০ থেকে ৭৫০ টাকা। ফুল লেনথ রেইন কোর্টের মূল্য পড়বে ২৫০ থেকে ৫৫০ টাকা। বিভিন্ন ফ্যাশন আউটলেটে গেলেই চোখে পড়বে নানা রঙের রেইন কোর্টÑ যা আপনাকে স্মরণ করিয়ে দিবে এখন বর্ষাকাল। বর্ষায় বিশেষ বিশেষ কাপড়ের ড্রেসের সঙ্গে রেইন কোর্টও এখন ফ্যাশনের অংশ হয়ে গেছে। বর্ষার স্নিগ্ধতার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে চলাই স্মার্টনেসের নেপথ্য কারণ। বর্ষার সজীবতা প্রকাশ করতেই ফ্যাশন ডিজাইনাররা পোশাকে বর্ষার রঙ ফুটিয়ে তুলছেন। কেউ বর্ষার প্রকৃতি, কেউ বর্ষার ফুল আবার কেউবা বর্ষার সবুজকে প্রাধান্য দিয়ে ড্রেস ডিজাইন করছেনÑ যা ফ্যাশনের মাত্রাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।

ছবি : রুহুল বাবু

মডেল : বুলবুল টুম্পা, মেহজাবিন ও দ্বীপ

প্রকাশিত : ১২ জুন ২০১৫

১২/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: