আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ব্যাঙ ও বৃষ্টির মিতালি

প্রকাশিত : ১২ জুন ২০১৫
  • মাহবুব রেজা

‘আয় বৃষ্টি ঝেপে, ধান দেবো মেপে/লেবু পাতা করমচা, যা বৃষ্টি ধরে যা, ’- বৃষ্টি নিয়ে লেখা এই ছড়াটি পড়েনি এমন বাঙালী খুঁজে পাওয়া কঠিন। ছড়াটির মধ্যে বৃষ্টির স্নিগ্ধ চিত্র চোখের সামনে ভেসে ওঠে।

চারদিকে ঝুম বৃষ্টি। তীরের ফলার মতো বৃষ্টি। মাঠ, ঘাট, ধানের ক্ষেত সব তলিয়ে যাচ্ছে বৃষ্টিতে। বাড়ির উঠোন পানিতে থই থই করছে। দুষ্টু ছেলের দল বৃষ্টির মধ্যে মেতে উঠছে চঞ্চলতায়। ভরা পুকুরে বৃষ্টির ফোঁটা জলতরঙ্গের সৃষ্টি করছে। আর? বন বাদাড়ে বৃষ্টির শব্দকে ছাপিয়ে উঠেছে ব্যাঙের ঘ্যাঙর ঘ্যাঙ, ঘ্যাঙর ঘ্যাঙ। ব্যাঙের এই ডাক বৃষ্টিকে নতুন এক আবহে আলীঙ্গন করে। বৃষ্টি আর ব্যাঙ যেন একে অপরের পরিপূরক।

সব দেশে-সব কালে বৃষ্টি তার চিরায়ত রূপ নিয়ে আবির্ভূত হয়। যেমন এই ছবির মধ্যে যে বৃষ্টি দেখা যাচ্ছে, সেটা কিন্তু হেথা নয় -সূদর ইন্দোনেশিয়ায়।

বলা নেই কওয়া নেই, হুট করে বৃষ্টি চলে আসায় ব্যাঙ বেচারা পড়ল ভীষণ বিপদে। এমন ঘনঘোর বৃষ্টি শুরু হলো যে, ব্যাঙ আর পালানোর কোন সুযোগই পেল না।

হঠাৎ করেই ব্যাঙের চোখে পড়ল একটা ফুল গাছ। ফুলটাও বেশ সতেজ। সুন্দর।

বাহ! এতো সুন্দর ফুল সে আর কখনও দেখেনি।

এ দিকে গাছপালা ভেঙে বৃষ্টি দাপটে এসে পড়তে লাগল। ব্যাঙ বেচারার নাদুস-নুদুস শরীরে এসে বৃষ্টির ফোঁটা পড়তে শুরু করল।

ব্যাঙ বেচারা তখন আর কি করবে! সে করল কী, কোন কথা না বলে (ঘ্যাঙর ঘ্যাঙ, ঘ্যাঙর ঘ্যাঙ না করে) এক লাফে গিয়ে উঠে পড়ল ফুল গাছে, ঠিক ফুলের নিচে।

ব্যাঙ বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচার জন্য এক লাফে ফুলের নিচে গিয়ে আশ্রয় নিল। ব্যাঙের ঝাঁকুনিতে ফুলটাও নড়ে ওঠল ভীষণ। কিন্তু সে কোন রাগ দেখালো না। উল্টো ব্যাঙের এই দুরবস্থা দেখে তার খানিক মায়াও হল।

বন্ধুর বিপদের দিনে তো বন্ধুই পাশে এসে দাঁড়াবে, নাকি?

প্রকাশিত : ১২ জুন ২০১৫

১২/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: