আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

এই না হলে রানী!

প্রকাশিত : ১২ জুন ২০১৫

রানীর রাজহাঁস : ব্রিটেনের রানীর রাজহাঁস আছে। তা রাজবাড়িতে হাতিঘোড়া থাকতে পারলে, রাজহাঁসই বা না-থাকার কী রয়েছে, তাই না? কিন্তু আপনি শুনলে বিস্মিত হবেন, টেমসের বুকে যে অগুনতি রাজহাঁস চড়ে বেড়ায়, তার মালকিন কিন্তু একজনই, রানী এলিজাবেথ দ্বিতীয়। অগনতি হলেও, অগোনা নয়। বছরে নিয়ম করে গোনা হয়, মানে শুমারি। সেসময় পায়ে রিং পরিয়ে, আবার ছেড়ে দেয়া হয় টেমসে। এক একটা রিংয়ে আলাদা আলাদা নম্বর। শুধু গোনা নয়, রাজহাঁসদের শরীর-স্বাস্থ্যেরও দেখভাল করতে হয়।

রানীর ডলফিন : শুধু রাজহাঁস নয়, রানীর আবার ডলফিনও রয়েছে। গোটা ইউনাইটেড কিংডমে, যেখানে যত ডলফিন, সবই রানীর। তাই ডলফিন সেখানে ভরংযবং ৎড়ুধষ। শুধু ডলফিনই নয়, তিমি ও স্টুরজিয়নও রানীর মাছ। ১০ ফুটের একটি স্টুরজিয়ন মাছ ধরে ওয়েলশের এক মৎস্যজীবীকে শাস্তিও পেতে হয়েছে। আইনী ভাবেই রানীর পোষ্য মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

রানীর আবার লাইসেন্স : রানীর নামে লাইসেন্স ইস্যু হলেও গোটা ব্রিটেনে তিনিই একমাত্র ব্যক্তি, গাড়ি চালানোর জন্য যাঁর কোন লাইসেন্সের প্রয়োজন নেই। শুধু ড্রাইভিং লাইসেন্স নয়, রানীর গাড়িতে নাম্বার প্লেটও লাগে না। তবে, রানী কিন্তু স্টিয়ারিং হাতে গাড়ি চালাতে পারঙ্গম। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নিজেই ফার্স্ট এইড ট্রাক চালিয়েছেন।

পাসপোর্টের বালাই নেই : রাজপরিবারের অন্যদের পাসপোর্ট লাগলেও, রানীর কিন্তু পাসপোর্ট লাগে না।

বছরে দু’বার জন্মদিন : রানী বলে কথা, একবার জন্মদিনে হয় কখনও! সরকারীভাবে জুনের এক শনিবারে তাঁর জন্মদিন সেলিব্রেট করা হয়। যদিও তাঁর জন্মদিন ২১ এপ্রিল। বিশেষ স্টাইলে এই জন্মদিন পালিত হয়। তাঁর আসল জন্মদিনে ‘গান স্যালুট’ দেয়া হয়। আর সরকারী জন্মদিনে থাকে বাকিংহাম প্যালেসে প্যারেড।

আলাদীনের আশ্চর্য প্রদীপ : আলাদীনের ছিল আশ্চর্য প্রদীপ। আর রানীর হাতে ব্যক্তিগত ক্যাশ মেশিন। ইচ্ছেখুশি চাইলেই সেখান থেকে টাকা বের করে নিতে পারেন। ব্রিটেনে তাঁর রাজপ্রাসাদের নিচেই রয়েছে সেই টাকার মেশিন।

সভাকবি : সে অর্থে অতীতের রাজকীয় ব্যাপার-স্যাপার না-থাকলেও ‘সভাকবি’র রেওয়াজ কিন্তু রয়ে গিয়েছে। সাম্মানিক পদ। বছরে সেই কবিকে ২০০ পাউন্ড করে সম্মানী বা দক্ষিণা দেয়া হয়। ২০১৯ পর্যন্ত রানীর কবি ক্যারল এ্যান ডুফি।

আইনে রানীর স্বাক্ষর : ব্রিটেন কোন আইন পাস করতে হলে আজও কিন্তু তাতে রানীর সই জরুরী। পার্লামেন্টের দুই কক্ষে প্রস্তাবিত আইন পাস হওয়ার পর সেটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আসে রানীর কাছে।

রানীর বাণী : বছরে একবার তিনি বলবেন, ‘প্রজা’রা শুনবে। হাউস অব লর্ডসে বছরে ওই একটা দিন তাঁকে ভাষণ দিতে হয়।

লর্ড নিয়োগ : সেই ক্ষমতাও রানীর রয়েছে। রানীর নিয়োগ করা সেই লর্ড পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে বসবেন। শুধু তাই নয়, সরকার গঠনের ক্ষমতাও রয়েছে রানীর।

করের আওতার বাইরে : আরও অনেক বিশেষ সুবিধাভোগের মতো কর দেয়া থেকেও তাঁকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। তাঁর কর দেয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু ১৯৯২ সাল থেকে তিনি স্বেচ্ছায় কর দেন।

রানীর শহরমযঃ-রা : অতীতের ঐতিহ্যে আজও রয়েছে রানীর জন্য শহরমযঃ। রানী নিজেই তাঁদের নিয়োগ করেন।

অস্ট্রেলিয়ার সরকার : বলতে পারেন রানীর হাতের পুতুল। না, রানীই যে অস্ট্রেলিয়ার সরকার চালনা করেন, তা নয়। কিন্তু, তিনি চাইলেই অস্ট্রেলিয়ার সরকারকে ফেলে দিতে পারেন।

ধর্মেরও ‘মাথা’ তিনি : ইংল্যান্ডের চার্চের মাথাও তিনি। কেন্টের ক্যান্টারবেরি ক্যাথিড্রালেও তিনি যান।

রানীর দেয়া রুপোর কয়েন : বিশেষ অনুষ্ঠানে ক্যাথিড্রালে গিয়ে বর্ষীয়ানদের বিশেষ রুপোর কয়েন দেন ব্রিটেনের রানী। এ বার তিনি ৮৯ বছরে পড়বেন। তাই ৮৯জন বর্ষীয়ানকে ওই কয়েন দেয়া হবে।

তথ্য সূত্র : এই সময়

প্রকাশিত : ১২ জুন ২০১৫

১২/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: