আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

নিরামিষভোজী মাছ

প্রকাশিত : ১২ জুন ২০১৫
  • আরিফুর সবুজ

বাঙালী মানেই মাছপাগল। তবে আমরা যে মাছ খাই, সেই মাছ কী খায়? যেমন ট্রাউট মাছ অন্য মাছ খেতে ভালবাসে। চেষ্টা চলছে তাদের নিরামিষভোজী করে তোলার। তাহলে কি ট্রাউটের স্বাদ বদলে যাবে? মাছকে নিরামিষ খাইয়ে লাভই বা কি? আসলেই কি কোন লাভ আছে, চলুন তা জেনে নিই।

ট্রাউট আসলে শিকারি মাছ। এমন মাছ চাষের সময় খাদ্য হিসেবে তাদের প্রায়ই ছোট সামুদ্রিক মাছের শুকনো টুকরা দেয়া হয়। কিন্তু সমুদ্রে অতিরিক্ত মাছ শিকার বন্ধ করতে বিজ্ঞানীরা ভেঁড়ির ট্রাউট মাছকে নিরামিষভোজী করে তুলতে চান। তবে মাছচাষীদের মনে এ বিষয়ে সন্দেহ রয়েছে।

মাছ ব্রিডার গুনার রেসে বলেন, ‘ট্রাউট মাছ নিরামিষ খাবার খেয়ে নিশ্চয়ই বাঁচতে পারে। কিন্তু ভবিষ্যতে এতে কাজ হবে কি না, তা নিয়ে আমার মনে সন্দেহ রয়েছে। যে শিকারি মাছ চিরকাল অন্য মাছ খেয়ে বেঁচে থাকে, এনজাইম ছেড়ে তাকে পুরোপুরি নিরামিষ প্রোটিনের ওপর নির্ভর করানো খুবই কঠিন বলে মনে হয়।’

কঠিন, তবে অসম্ভব নয়। মেরিন অ্যাকোয়াকালচার সংস্থার কার্স্টেন শুলৎস অন্তত তাই মনে করেন। মূলত রেপসিড ও সয়া-বিনস-এর মতো তেল থেকে প্রোটিন দিয়েই মাছের জন্য নিরামিষ খাদ্য তৈরি করেন তিনি। উদ্দেশ্য, খাবার সুস্বাদু হতে হবে, খেয়ে তারা মোটা হবে, যাতে মাছের স্বাদও ভাল হয়। কিন্তু মাছেরা সেই খাদ্য পছন্দ করছে কি? শুলৎস বলেন, ‘দেখতে পাই, মাছ কিভাবে লুটেপুটে খাচ্ছে? হোমওয়ার্ক ভালই করেছি বলে মনে হয়।’

এই পরীক্ষার পেছনে শুধু মাছের কল্যাণের কথা ভাবা হচ্ছে না, অর্থনৈতিক স্বার্থও জড়িয়ে রয়েছে। ছাল মোটা হলেই মাছ ভাল বিক্রি হয়? কার্স্টেন শুলৎস আগে আলুর প্রোটিন নিয়ে পরীক্ষা করেছেন? তবে ট্রাউট মাছের কাছে সেই খাদ্য ছিল বেশ তিতা। শুলৎস বলেন, ‘খাদ্যের কোন বিশেষ মিশ্রণ যদি পছন্দ না হয়, খেতে ভাল না হয়, তখন মাছ সেটা কিছুতেই খাবে না। দিনের পর দিন ধরে গোঁ ধরে বসে থাকবে। আমাদের এমন অভিজ্ঞতাও হয়েছে যে, দরকার হলে মাছ ২ মাসেরও বেশি সময় জুড়ে কিছু না খেয়ে থাকবে, কিন্তু অপছন্দের খাবার কিছুতেই খাবে না।’

নিরামিষাশী ট্রাউট মাছ মানুষের খাদ্য হিসেবে কতটা পুষ্টিকর, তা জানতে আরও পরীক্ষা চলছে। অন্যান্য মাছখেকো মাছের সঙ্গেও তুলনা চলে আসবে। এটা জানতে হলে মাছ মেরে, টুকরোগুলো ফ্রিজে রেখে, শুকিয়ে মিক্সারে মেশাতে হবে। তারপর সেই ট্রাউট মাছের পেস্ট পেট্রোলিয়ামে মেশালে মাছের ফ্যাট আলাদা হয়ে যাবে। সেই ফ্যাট পরীক্ষা করলেই মাছের স্বাস্থ্য সম্পর্কে জানা যায়। শুলৎস বলেন, ‘বেশি ফ্যাটসহ মাছ থাকলেই দেখা যায়, কাঁচামাল ঠিকমতো ব্যবহার করা হয়নি। এ কারণেই বিষয়টি আমাদের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ?’

মানুষের খাদ্য হিসেবে কতটা পুষ্টিকর, তা জানতে পরীক্ষা

গবেষকরা একই পদ্ধতিতে মাছের শরীরে প্রোটিনের পরিমাপ করেন। তাঁরা জানতে চান, নতুন নিরামিষ খাদ্যের প্রোটিনের কতটা অংশ মাছের শরীরে প্রোটিন হিসেবে রূপান্তরিত হয়েছে। তবে এখানেই পরীক্ষার শেষ নয়। শুলৎস বলেন, ‘আমরাও তো এই মাছ খাই। তাই কি হচ্ছে, আমাদেরও সেটা জানতে হবে। তবে আশার কথা, মাছের খাদ্য বদলানো হলেও সেই মাছের স্বাদে কোন পরিবর্তন দেখা যায় না।’

আপাতত ট্রাউট মাছগুলো রেপসিড মেশানো খাদ্য খেয়ে খুশি। আলু ও এ্যালজি বা সামুদ্রিক উদ্ভিদ মেশানো খাবার নিয়েও পরীক্ষা চলছে। তবে নিরামিষ খাদ্য খাওয়ালে মাছগুলো বড় হতে একটু বেশি সময় লাগে, অর্থাৎ তাদের পরে কাটতে হচ্ছে। আগামী ১৫ বছরের মধ্যে বিজ্ঞানীরা এই সমস্যারও সমাধান করতে চান। এই গবেষণা মাছ পালনকারীদেরও কাজে লাগছে। কারণ নিরামিষ খাদ্য মাছ মেশানো খাদ্যের চেয়ে সস্তা।

প্রকাশিত : ১২ জুন ২০১৫

১২/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: