কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

নাসার হাতে কেন জঙ্গী বিমানবহর

প্রকাশিত : ১২ জুন ২০১৫
  • এনামুল হক

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার জঙ্গী জেট বিমানের একটা বহর রয়েছে। নাসার একটি নতুন ভিডিওতে দেখানো হয়েছে ককপিটের একটি দৃশ্য, সেখানে একজন বৈমানিক মধ্য আকাশে একটি ট্যাঙ্কার বিমান থেকে তার নিজের এফ-১৫ডি জঙ্গী বিমানে তেল ভরছে। প্রশ্ন হচ্ছে, নাসার মতো একটি মহাকাশ গবেষণা সংস্থার জেট জঙ্গী বিমানের বহর আছে কেন? এর প্রয়োজনটা কোথায়?

নাসার গোটা ইতিহাসে এই সংস্থাটি স্থায়ী, আধা-স্থায়ী বা স্বল্পমেয়াদি ভিত্তিতে বিভিন্ন ধরনের বিমান ব্যবহার করেছে। এটি এরোস্পেস লাইন সুপার গাপ্পি থেকে শুরু করে নানা ধরনের বোয়িং যেমন ব্যবহার করেছে, তেমনি ব্যবহার করেছে এফ-১৫ডি জেট জঙ্গী বিমান। এফ-১৫ডি সাধারণত মার্কিন বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী ও মেরিন কোর ব্যবহার করে থাকে। এগুলোকে ওরা বলে ধাওয়াকারী বিমান। কিন্তু নাসা এই অতি দ্রুতগতির জেট জঙ্গী বিমানগুলোকে ভিন্ন এক মিশনে ব্যবহার করে থাকে। সেই মিশনটি হলো বৈমানিককে এস্ট্রোন্ট বা নভোচারীতে রূপান্তরিত করা এবং নাসার মহাকাশযান ও গবেষণামূলক বিমানের ওপর তীক্ষè নজর রাখা।

নিবন্ধের শুরুতে যে ভিডিওটির কথা বলা হয়েছে সেটি ছাড়া হয়েছে গত ২৭ মে তারিখে। ওতে কেসি ১৩৫ ট্যাঙ্কার বিমানের পেছনে এফ-১৫ডি ঈগল জঙ্গী বিমানের বৈমানিককে ম্যানোভারিং করতে দেখা গেছে। কেসি-১৩৫ ট্যাঙ্কার আসলে আকাশপথের পেট্রোল স্টেশন। দূরপাল্লার মিশনে এসব স্টেশন থেকে তেল নিয়ে কিভাবে নিজেদের জঙ্গী বিমানের ট্যাঙ্কার পূর্ণ করতে হয় সেই প্রশিক্ষণই দেয়া হয় বৈমানিকদের। এই প্রক্রিয়াটির জন্য কুশলী হওয়া প্রয়োজন। জঙ্গী বিমানের পাইলটকে তার দ্রুতগতির বিমানটিকে অনেক ধীরগতির ট্যাঙ্কারের পেছনে নিয়ে আসতে হয় এবং এমন পজিশনে স্থাপন করতে হয় যাতে করে ট্যাঙ্কারের বুম বা ফ্লেক্সিবল হোসটি অর্থাৎ যার মধ্য দিয়ে তেল প্রবাহিত হয়, সেটি এফ-১৫-এর জ্বালানি ট্যাঙ্কের ভেতরে গিয়ে ঢোকে। বুমটা পরিচালনার জন্য একজন কেসি-১৩৫ ট্যাঙ্কারের পেছন দিকে বসে থাকেন। তিনি দরকার হলে প্রয়োজনীয় এডজাস্টমেন্টের কাজ করেন।

সামরিক বিমানকে নিয়মিতই মধ্য আকাশে রিফুয়েলিং করে নিতে হয়। এই পদ্ধতির জন্য দারুণ দক্ষতা বা কুশলীপনা দরকার। কাজেই প্রশ্ন হচ্ছে, যে ধরনের বিমান সাধারণত শুধু বিমান বাহিনীতেই ব্যবহৃত হয়ে থাকে, তেমন দ্রুতগতি বিমানের কেন প্রয়োজন হয় নাসার? বলা বাহুল্য, সেই গোড়ার দিনগুলো থেকেই নাসার তালিকার অংশ হয়ে আছে ধাওয়া করার কাজে ব্যবহৃত বিমান। অনেক উঁচু দিয়ে দ্রুতগতিতে চলার কাজে পরীক্ষামূলক ব্যবহারের জন্য সেই ১৯৬০-এর দশকে রকেট আকৃতির এফ-১০৪ স্টারফাইটারের মতো ফ্রন্টলাইন জঙ্গী বিমানকে পরিবর্তিত রূপ দান করা হয়েছিল।

তবে ধাওয়ার কাজে ব্যবহৃত বিমানগুলোকে প্রায়ই উড্ডয়নরত নাসার অন্যান্য যান পরিবীক্ষণ করার কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এগুলো ক্যামেরা প্লাটফর্ম হিসেবেও কাজ করে। নাসা সেই ১৯৬০-এর দশক থেকে টি-৩৮ ট্যালন ট্রেনারের একটি বহর পরিচালনা করে আসছে। মার্কিন বিমানবাহিনীর পাইলট প্রশিক্ষণের কাজেও ঠিক এমন বিমান ব্যবহৃত হয়ে থাকে। নভো খেয়াযান স্পেস শাটল অবতরণ করার সময় একে ছায়া দিয়ে থাকা বা আড়াল করার কাজেও টি-৩৮ ব্যবহার করা হতো।

নাসার বর্তমান বিমান বহরে রয়েছে এফ-১৫ ও মার্কিন নৌবাহিনীর এফ/এ-১৮ বিমান। দুটো বিমানই নভোযানের পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন রেকর্ড করার কাজে ব্যবহৃত হয়। শুধু তাই নয়, ভাবী নভোচারীদের উড্ডয়ন দক্ষতা বজায় রাখার কাজেও এর ব্যবহার আছে। আর যাই হোক, সাধারণ বৈমানিক আর নভোচারীদের মধ্যে পার্থক্য তো তেমন আকাশ-পাতাল নয়। পার্থক্য এইটুকু যে, বৈমানিকদের নভোযান কক্ষপথে নিয়ে যাওয়ার প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। তাদের যেটা প্রয়োজন সেটা হলো গড়পরতা বিমানের চাইতে সামান্য কিছু বাড়তি গতিবেগ।

প্রকাশিত : ১২ জুন ২০১৫

১২/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: