কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

রাজধানীতে ৫ মাস আগে নিখোঁজ কিশোরের কঙ্কাল উদ্ধার

প্রকাশিত : ১২ জুন ২০১৫
  • বুড়িগঙ্গার পাড়ে পাওয়া গেল শিশুর লাশ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নিখোঁজের পাঁচ মাস পর রাজধানীর দারুস সালামের দ্বীপনগর টাওয়ার বস্তি এলাকা থেকে এক কিশোরের কঙ্কাল উদ্ধার হয়েছে। পুলিশ এ হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িত শহীদুল ইসলাম ভুট্টু ও রাকিবুল হাসান নামে দু’জনকে গ্রেফতার করেছে। এদিকে লালবাগের নওয়াবগঞ্জ এলাকায় অপহৃত ছয় বছরের শিশুর লাশ দু’দিন পর বুড়িগঙ্গা নদীর পাড় থেকে উদ্ধার হয়েছে। এ ঘটনায় মোঃ জুয়েল, তার বাবা মোঃ হাবিব ও জুয়েলের বন্ধু ইকবাল নামে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে। পুলিশ জানায়, দারুস সালাম থানার দ্বীপনগর টাওয়ার বস্তির বাসিন্দা আবুল বাশার (১৩) নামে এক কিশোরকে হত্যার পর একটি পরিত্যক্ত টয়লেটের রিংয়ের ভেতর ফেলে দুর্বৃত্তরা। পাঁচ মাস আগে এই হত্যাকা-ের ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দীপনগর টাওয়ার বস্তির পাশে কঁাঁচাবাজার আড়তের পাশের পরিত্যক্ত টয়লেটের রিংয়ের ভেতর থেকে অপহৃত ওই কিশোরের হাড়গোড় উদ্ধার করে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে কিশোর আবুল বাশারের কঙ্কাল উদ্ধার পর এলাকাবাসী লোমহর্ষকর এই হত্যাকা-ের বিচার দাবি জানিয়েছেন। তারা খুনীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। নিহত কিশোর আবুল বাশারের বাবার নাম মোঃ লোকমান পেয়াদার। গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী জেলার সদরের ছোটবিঘাই গ্রামে। পুলিশ হত্যাকা-ে জড়িত সন্দেহে শহীদুল ইসলাম ভুট্টু ও রাকিবুল হাসানকে গ্রেফতার করে। হত্যাকা-ের পরিকল্পনাকারী ও মূল আসামি নিহতের ফুফাত ভাই রবিউল ইসলাম পলাতক রয়েছেন। পুলিশ জানায়, গত ১৭ ফেব্রুয়ারির কিশোর আবুল বাশারকে ডেকে এনে তাকে হত্যা করা হয়।

নিহত বাশারের বড় ভাই আলী হোসেন জানান, চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি ফুফাত ভাই রবিউল ইসলাম চাকরি দেয়ার কথা বলে মোবাইল ফোনে ছোট ভাই বাশারকে (১৩) গ্রাম থেকে ঢাকায় ডেকে নেন। এরপর ১৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় বাশারের সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যদের কথাও হয়। কিন্তু তারপর থেকেই বাশার নিখোঁজ ছিল। তিনি জানান, দুই মাসেও ছোট ভাইয়ের খোঁজ না পেয়ে গত এপ্রিল মাসে দারুস সালাম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। এরপর বিভিন্নভাবে পরিবারের লোকজন জানতে পারেন ফুফাত ভাই রবিউল ছোট ভাই বাশারকে খুন করেছে। এটি জানার পর বুধবার রাতে বাবা লোকমান বাদী হয়ে দারুস সালাম থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ফুফাত ভাই রবিউল ইসলাম, শহীদুল ইসলাম ভুট্টু ও রাকিবুল হাসানসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়। নিহতের বড় ভাই আলী হোসেন আরও বলেন, রবিউলের মা ফুফু জাহানারার সঙ্গে তার ভাইদের সম্পর্ক খুব খারাপ ছিল। কিন্তু জাহানারার ভাইদের সঙ্গে আমার বাবার সম্পর্ক অত্যন্ত ভাল ছিল। এতে রাগে-ক্ষোভে ছেলেকে দিয়ে আমার ভাই আবুল বাশারকে হত্যা করিয়েছে। দারুস সালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেলিমুজ্জামান জানান, বূধবার রাতে নিহত আবুল বাশারের বাবা লোকমান বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর ১৮। এই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ওইদিন গত রাতেই দারুস সালাম থানার বাগবাড়ী ও গাবতলী এলাকা থেকে মোঃ শহীদুল ইসলাম ভুট্টু ও মোঃ রাকিবুল হাসান রকিকে গ্রেফতার করা হয়। পরে গ্রেফতারকৃতদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী দ্বীপনগর টাওয়ার বস্তির পাশে কাঁচাবাজরের আড়তের পাশের পরিত্যক্ত টয়লেটের রিংয়ের ভেতর থেকে কিশোর আবুল বাশারের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। পরে ওই কঙ্কালে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ওসি জানান, পারিবারিক বিরোধের জের ধরে কিশোর আবুল বাশারকে হত্যা করে ওই শৌচাগারে ফেলে দেয়া হয়েছে। পাঁচ আগে হত্যার পর তার পচে-গলে গিয়ে কঙ্কালের রূপ নিয়েছে। তিনি জানান, এ হত্যাকা-ের মূল আসামি রবিউল ইসলাম পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে। পলাতক রবিউল গাবতলী সিটি কলোনিতে থাকতেন। তার গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর সদর থানার ছোটবিঘায় গ্রামে।

লালবাগে অপহৃত শিশুর লাশ উদ্ধার ॥ রাজধানীর লালবাগ থানার নওয়াবগঞ্জ হোসেনউদ্দিন খান এলাকায় অপহৃত শিশু রিফাতকে হত্যা করা হয়েছে। পরে তার লাশ বুড়িগঙ্গা নদীতে ফেলে দেয় দুর্বৃত্তরা। নিখোঁজের দু’দিন পর অপহৃত রিফাতের লাশ বুহস্পতিবার সকালে কামরাঙ্গীরচর থানাধীন বুড়িগঙ্গা নদীর পাড় থেকে উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা র‌্যাবকে জানায়, গত মঙ্গলবার শিশু রিফাতকে লালবাগের নওয়াবগঞ্জের হোসেনদিন খান লেনের বাসা থেকে অপহরণ করা হয়। মুক্তিপণের টাকা না পেয়ে শিশু রিফাতকে হত্যা করে তার লাশ বুড়িগঙ্গার নদীর পাড়ে ফেলে দেয়া হয়। নিহতের পরিবার অভিযোগ করে, মঙ্গলবার থেকে রিফাত নিখোঁজ হওয়ার পর বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করতে থাকে। কিন্তু কোথাও তার কোন সন্ধান না পেয়ে লালবাগ থানার ও র‌্যাব-১০ এর কাছে অভিযোগ করেন। পরে র‌্যাব অভিযান চালিয়ে ওই তিনজনকে আটক করেন। র‌্যাব-১০ এর লালবাগ ক্যাম্পের মেজর মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর কবির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, জড়িত তিনজকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শিশুর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলে ঘটনাটি আমার এলাকায়। লাশ উদ্ধার করা হয়েছে কামরাঙ্গীরচর থানা পুলিশ। আর ঘটনায় জড়িত ৩ জনকে র‌্যাব-১০ আটক করেছে। তিনি জানান, রিফাত খুনের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

প্রকাশিত : ১২ জুন ২০১৫

১২/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: