কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

লাগেজ বিড়ম্বনা ॥ বিমান বন্দরের কাস্টমস হলে নিত্য ঝামেলা

প্রকাশিত : ১২ জুন ২০১৫
  • কোন্ পণ্য কতটুকু আনা যাবে- কত শুল্ক/ট্যাক্স দিতে হবে- জানা নেই অধিকাংশ যাত্রীর

আজাদ সুলায়মান ॥ প্রায় প্রতি দিনই বিমানবন্দরে বিদেশ থেকে আগত যাত্রীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। কাস্টমস হলে বাদানুবাদ-ঝামেলা নিত্যদিনের ঘটনা। অজ্ঞতার কারণে অনেক যাত্রীকে কষ্ট করে বয়ে আনা মাল ফেলে চলে যেতে হয়। এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে যাত্রীদের সচেতন করার ওপর গুরুত্বারোপ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিদেশ থেকে যারা আসেন সবাই কম-বেশি মাল আনেন লাগেজে। তাদের সবারই ধারণা থাকা উচিত একজন যাত্রী কি ধরনের মাল কতটুকু আনতে পারবেন, কোন্ পণ্যের কতটুকু ট্যাক্স দিতে হবে, কতটুকু বিনা শুল্কে আনা যাবে। একজন যাত্রী নির্দিষ্ট পরিমাণ বা নির্দিষ্ট কিছু পণ্য বিনা ট্যাক্সে বহন করতে পারেন। অতিরিক্ত বা নির্দিষ্ট পণ্যের বাইরে অন্য কোন পণ্য হলে তার ওপর কাস্টমসকে নির্দিষ্ট পরিমাণ ট্যাক্স পরিশোধ করতে হয়। এসব জটিলতা এড়াতে জানা দরকার কি ধরনের শুল্কে কি পরিমাণ মাল আনা যাবে। কোন্টা বিনা শুল্কে আনা যাবে সেটাও জানা দরকার যাত্রীদের।

শুল্ক বা করবিহীন আমদানি ॥ একজন যাত্রী হাতব্যাগ, কেবিনব্যাগ এবং ৬৫ কিলোগ্রাম ওজনের বেশি নয় এমন দুটি কার্টন/ব্যাগ/বস্তা, ৩২ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যরে দুটি স্যুটকেস বা ট্রাঙ্ক ইত্যাদি কোন প্রকার শুল্ক ও কর পরিশোধ ছাড়াই বিমানবন্দর দিয়ে দেশে আনতে পারবে। আর স্থলবন্দর ব্যবহার করা হলে সর্বোচ্চ ৪০০ মার্কিন ডলারের পণ্য আনা যাবে। এসব ব্যাগেজের অতিরিক্ত অনুর্ধ ৩৫ কিলোগ্রাম ওজনের একটি স্যুটকেস, ট্রাঙ্ক, কার্টন, ব্যাগ বা বস্তায় পরিধেয় বস্ত্র, ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রী, বই-সাময়িকী ও পড়াশোনার সামগ্রী কোন প্রকার শুল্ক ও কর ছাড়াই আমদানি করতে পারবেন।

১২ বছরের কম বয়সের যাত্রীর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৪০ কিলোগ্রাম ব্যক্তিগত ব্যাগেজের জন্য কোন প্রকার শুল্ক ও কর পরিশোধ করতে হয় না। পেশাগত কাজে ব্যবহার্য এবং সহজে বহনযোগ্য যন্ত্রপাতিও সকল প্রকার শুল্ক ও কর পরিশোধ ছাড়াই আমদানি করা যাবে। আকাশ, জলপথ বা স্থলপথে দেশে আসা যে কোন অসুস্থ, পঙ্গু অথবা বৃদ্ধ যাত্রীর ক্ষেত্রে তার ব্যবহার্য চিকিৎসার যন্ত্রপাতি ও হুইল চেয়ার তার সঙ্গে থাকবে। এক্ষেত্রে কোন প্রকার শুল্ক বা কর পরিশোধ করতে হবে না।

কোন বাংলাদেশী নাগরিক বিদেশে মৃত্যুবরণ করলে তার ব্যাগেজ দেশে আনার জন্য কোন প্রকার শুল্ক ও কর দিতে হবে না।

প্রতি যাত্রী সর্বোচ্চ ২০০ গ্রাম ওজনের স্বর্ণ অথবা রূপার অলঙ্কার বহন করতে পারবেন। এগুলো তার ব্যক্তিগত ব্যবহারের অলঙ্কার বলে ধরে নেয়া হবে। তবে এক ধরনের অলঙ্কার ১২টির বেশি রাখতে পারবেন না। এক্ষেত্রে কোন প্রকার শুল্ক ও কর পরিশোধ পরিশোধ করতে হবে না।

স্বর্ণের বার আমদানির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২০০ গ্রাম পর্যন্ত বহন করা যাবে। তবে এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিমাণে শুল্ক পরিশোধ করতে হবে।

বিদেশী পাসপোর্টধারী কোন যাত্রী দুই বোতল অথবা ১ লিটার পর্যন্ত মদ বা মদ্য জাতীয় পানীয় যেমন- স্পিরিট, বিয়ার, ইত্যাদি বহন করতে পারবেন। এক্ষেত্রে তাকে কোন প্রকার শুল্ক ও কর পরিশোধ করতে হবে না।

ক্রু, নাবিক এবং বাংলাদেশী এয়ারলাইন্সে কর্তব্যরত কোন বাংলাদেশী তার পেশাগত দায়িত্বের কারণে বিদেশ থেকে ব্যাগেজ আনতে বিশেষ সুবিধা পাবেন। নির্দিষ্ট কিছু বস্তুর ক্ষেত্রে শুল্ক বা কর দিতে হয় না তাদের।

বিমানবন্দরে করণীয় ॥ কোন যাত্রী শুল্ক ও কর আরোপযোগ্য পণ্য বহন না করলে তিনি বিমানবন্দরের গ্রীন ও রেড চ্যানেল (যদি থাকে) ব্যবহার করতে পারবেন। গ্রীন চ্যানেল অতিক্রমকারী সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ যাত্রীর ব্যাগেজ দৈবচয়নের ভিত্তিতে স্ক্যানিং ও পরীক্ষা করার অধিকার রাখেন শুল্ক কর্মকর্তারা। তবে যে কোন শুল্ক কর্মকর্তা, যুক্তিসঙ্গত বা সন্দেহবশত হয়ে গ্রীন চ্যানেল অতিক্রমকারী যে কোন যাত্রীর ব্যাগেজ স্ক্যানিং ও পরীক্ষা করতে পারবেন। বিনা শুল্কে যেসব ব্যাগেজ আনা যায় তার অতিরিক্ত বা ভিন্ন কোন পণ্য আমদানি করলে প্রধান আমদানি ও রফতানি নিয়ন্ত্রকের ছাড়পত্র দেখিয়ে, সব শুল্ক-কর, অর্থদ- ও জরিমানা (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) পরিশোধের পর ব্যাগেজ আনতে পারবেন।

কোন যাত্রীর কাছে ৫ হাজার মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ অর্থের বেশি অন্য যে কোন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা থাকলে তা ব্যাগেজ ঘোষণা ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। সঙ্গে আনা হয়নি এমন কোন স্যুটকেস, ব্যাগ, কার্টুন বা ট্রাঙ্ক থাকলে তাও ঘোষণা ফরমে উল্লেখ করতে হবে।

যেসব পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্ক ও কর দিতে হবে ॥ ব্যক্তিগত ও গৃহস্থালির কাজে ব্যবহৃত হয় না এমন পণ্য, দুটির বেশি স্যুটকেস (তৃতীয় স্যুটকেসে পরিধেয় বস্ত্র, ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রী, বই-সাময়িকী এবং পড়াশোনার সামগ্রী থাকলে শুল্ক ও কর দিতে হবে না) এবং আমদানিকৃত যে কোন বাণিজ্যিক পণ্যের ক্ষেত্রে নিয়মমাফিক শুল্ক ও কর প্রদান করতে হবে। ব্যক্তিগত ও গৃহস্থালির কাজে ব্যবহৃত এমন কিছু পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে অবশ্যই শুল্ক ও কর প্রদান করতে হয়। যেমন-প্লাজমা, এলসিডি, টিএফটি, এলইডি এবং যে কোন উন্নত প্রযুক্তির টেলিভিশন। মিউজিক সেন্টার, হোম থিয়েটার সিস্টেম, সিডি/ভিসিডি/ডিভিডি/এলডি/এমডি/ব্লুয়ে ডিস্ক সেট, রেফ্রিজারেটর বা ডিপ ফ্রিজার, এয়ারকুলার, এয়ার কন্ডিশনার, ডিশ এ্যান্টেনা, এইচডি ক্যামেরা, ডিভি ক্যামেরা, বিইটিপি ক্যামেরা ও পেশাদারী ব্যবহার উপযোগী কোন ক্যামেরা, এয়ারগান, এয়ার রাইফেল, ঝাড়বাতি, কার্পেট (১৫ বর্গমিটার পর্যন্ত, ডিশ ওয়াশার, ওয়াশিং মেশিন, ক্লথ ড্রয়ার ইত্যাদির ক্ষেত্রেও সরকার নির্ধারিত শুল্ক ও কর প্রদান করতে হবে। স্বর্ণ বা রুপার বার সর্বোচ্চ ২০০ গ্রাম আমদানি করা যাবে। স্বর্ণ প্রতি ১১.৬৬৪ গ্রাম ১৫০ টাকা এবং রুপার ক্ষেত্রে প্রতি ১১.৬৬৪ গ্রাম ছয় টাকা হারে সরকারকে শুল্ক ও করা হবে।

বিভিন্ন সরঞ্জামের শুল্ক ও করের পরিমাণ ॥ ১. প্লাজমা, এলসিডি, টিএফটি, এলইডি ও অনুরূপ প্রযুক্তির টেলিভিশন, মনিটর : ২র্২র্ -২র্৯র্ ১৫ হাজার টাকা, ৩র্০র্ -৩র্৬র্ বিশ হাজার টাকা, ৩র্৭র্ -৪র্২র্ ত্রিশ হাজার টাকা, ৪র্৩র্ -৪র্৬র্ পঞ্চাশ হাজার টাকা, ৪র্৭র্ -৫র্২র্ সত্তর হাজার টাকা, ৫র্৩র্ -এর বেশি এক লাখ টাকা। চার থেকে আটটি স্পীকারসহ (মিউজিক সেন্টার) স্পীকার নির্বিশেষে হোম থিয়েটার (সিডি/ ভিসিডি/ ডিভিডি/ এলডি/এমডি/ব্লুয়ের ডিস্ক সেট) আট হাজার টাকা, রেফ্রিজারেটর/ডিপ ফ্রিজার পাঁচ হাজার টাকা।এয়ার কুলার/এয়ার কন্ডিশনার : উইনডো টাইপ সাত হাজার টাকা, স্পিøট টাইপ (১৮ হাজার বিটিইউ পর্যন্ত) পনের হাজার টাকা, স্পিøট টাইপ (১৮ হাজার বিটিইউ এর বেশি) বিশ হাজার টাকা। ডিশ এন্টেনা সাত হাজার টাকা, এইচডি/ডিভি/বেটা বা পেশাদারি ক্যামেরা পনেরো হাজার টাকা। এয়ারগান/এয়ার রাইফেল (বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে আমদানিযোগ্য, আমদানি নীতি আদেশ ২০০৯-২০১২ অনুযায়ী) পাঁচ হাজার টাকা। ঝাঁড়বাতি (প্রতি পয়েন্ট) তিনশ’ টাকা। কার্পেট ১৫ বর্গমিটার (প্রতি বর্গমিটার) তিন শ’ টাকা ও ডিশ ওয়াশার/ওয়াশিং মেশিন/ক্লথ ড্রাইয়ার তিন হাজার টাকা।

যেসব ইলেক্ট্রনিক পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্ক ও কর দিতে হবে না ॥ সর্বোচ্চ ২র্১র্ পর্যন্ত সাধারণ টেলিভিশন, ক্যাসেট প্লেয়ার, টু-ইন-ওয়ান, ডিস্কম্যান, ওয়াকম্যান (অডিও), বহনযোগ্য অডিও সিডি পেয়ার, ডেস্কটপ বা ল্যাপটপ কম্পিউটার (একটি ইউপিএসসহ), স্ক্যানার, প্রিন্টার, ফ্যাক্স মেশিন, সাধারণ ভিডিও ক্যামেরা, স্টিল ক্যামেরা, ডিজিটাল ক্যামেরা, সাধারণ সিডি ও দুই স্পীকারসহ কম্পোনেন্ট মিউজিক সেন্টার, সিডি/ভিসিডি/ডিভিডি/এলডি/এমডি সেট, চারটি স্পীকারসহ কম্পোনেন্ট মিউজিক সেন্টার, ভিসিআর/ভিসিপি, ব্লু রেডিস্ক প্লেয়ার, এলসিডি কম্পিউটার মনিটর ১র্৯র্ পর্যন্ত, একটি মোবাইল বা সেলুলার ফোন সেট, সাধারণ পুশবাটন, কর্ডলেস টেলিফোন সেট, ইলেকট্রিক ওভেন, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, রাইস কুকার, প্রেসার কুকার, গ্যাস ওভেন (বার্নারসহ), টোস্টার, স্যান্ডউইচ মেকার, ব্লেন্ডার, ফুড প্রসেসর, জুসার, কফি মেকার, বৈদ্যুতিক টাইপরাইটার, গৃহস্থালি সেলাই মেশিন (ম্যানুয়াল ও বৈদ্যুতিক), টেবিল ও প্যাডেস্টাল ফ্যান, গৃহস্থালি সিলিং ফ্যান, ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য স্পোর্টস সরঞ্জাম, ১ কার্টন (২০০ শলাকা) সিগারেট। এ ছাড়াও আরও কিছু পণ্য আছে যা বিমানবন্দরে উপস্থিত শুল্ক কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

প্রকাশিত : ১২ জুন ২০১৫

১২/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: