কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

নারী স্বাস্থ্য

প্রকাশিত : ১২ জুন ২০১৫

গত কয়েক দশকে বিশ্বে নারী স্বাস্থ্যের উন্নতি হলেও নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে বছরে প্রায় তিন লাখ প্রসূতির মৃত্যু হচ্ছে গর্ভধারণকালে বা প্রসবকালে। এসব দেশে নারী একই সঙ্গে সংক্রামক ও অসংক্রামক উভয় ধরনের রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এক পরিসংখ্যানে জানা গেছে, অসচেতনতার কারণে আমাদের দেশের ৯৫ ভাগ নারী কোন না কোনভাবে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন। সচেতন হলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।

বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যসেবা দানকারীদের মধ্যে নারীর সংখ্যাই বেশি। অথচ বর্তমান স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও পদ্ধতি নারীর ব্যাপারে যেন দায়িত্বশীল নয়। পরিবারে ও কমিউনিটিতে সনাতন প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার ক্ষেত্রে নারীর সংখ্যা এখনও বাড়ছে। বর্তমান স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কারণে নারীর কাজকে যেমন যথাযথ মূল্য দেয়া হয় না, তেমনি তাদের সহায়তাও পুরোপুরি মেলে না। তাই নারীর ক্ষমতা পুরোপুরি ব্যবহার করা যায় না। এমনকি নারীরা বর্তমান স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় কম দক্ষতা প্রয়োজন এমন কাজ ও নিম্ন মজুরির কাজ করে। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রভাবশালী চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্য সাময়িকী ‘দ্য ল্যানসেট’-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। তিন বছরের চেষ্টায় ২৩ জন বিশেষজ্ঞ প্রতিবেদনটি তৈরি করেন। এতে বাংলাদেশসহ ৩২টি নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশের তথ্য বিশ্লেষণ করার কথা উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে ‘নারী ও স্বাস্থ্য’ এই ধারণার দিকে জরুরী দৃষ্টি দেয়ার কথা বলা হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন নারী, নারীর স্বাস্থ্য ও নারী স্বাস্থ্যকর্মীর বিষয়গুলো টেকসই উন্নয়নের কেন্দ্রে থাকা দরকার।

তবে একথা সত্য যে, স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশ অনন্য নজির স্থাপন করে চলেছে। নবজাতক ও পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের জীবন রক্ষা, মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি, টিকাদান কার্যক্রম এবং যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে ভারত, পাকিস্তান, নেপালসহ দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশকে ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ। জš§নিয়ন্ত্রণ সেবা মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার উদ্দেশে স্বাস্থ্যকর্মীদের নিযুক্ত করার ফলে বাংলাদেশে উচ্চ হারে (৬২%) জš§নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহƒত হচ্ছে। ১৯৭১ সালে একজন নারীর শিশু জš§দানের সংখ্যা ছিল ৬.৩, যা এখন ২-এর নিচে নেমে এসেছে। যক্ষ্মার চিকিৎসায় বাংলাদেশ একটি চমৎকার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীদের তৎপরতার ফলে এ রোগে আরোগ্যের হার ৯০%-এ পৌঁছেছে- যা বিশ্বে সর্বোচ্চ। ১৯৮০ সাল থেকে এ পর্যন্ত মাতৃমৃত্যু হার ৭৫% হ্রাস পেয়েছে। ১৯৯০ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত শিশুমৃত্যুর হার অর্ধেকেরও বেশি কমে এসেছে। মানুষের আয়ুষ্কাল বৃদ্ধি পেয়ে ৬৮.৩ বছরে দাঁড়িয়েছে- যা প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে গেছে। তবে এই সাফল্য সরকারের স্বাস্থ্য সেক্টরের একক প্রচেষ্টায় নয়। এই খাতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারী উদ্যোগ ও এনজিওগুলোর বিশাল অবদান রয়েছে। দেশে বেসরকারী পর্যায়ে ৪০ হাজার চিকিৎসক ও লক্ষাধিক নার্সের সঙ্গে ৫০ হাজার সনাতনী স্বাস্থ্যকর্মী, ৯০ হাজার হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক, এক লাখ ৮৫ হাজার পল্লী চিকিৎসক মানুষকে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। এক লাখ ৭০ হাজার ওষুধের দোকান থেকেও মানুষ ওষুধ ও পরামর্শ পায়। পাশাপাশি এনজিওগুলোর পাঁচ হাজার প্যারামেডিক ও এক লাখ পাঁচ হাজার গ্রামীণ স্বাস্থ্যকর্মী স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন। এদের অবদানকেও ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। আসলে জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে দারিদ্র্যবিমোচন ও স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর প্রতি নজর দেয়া জরুরী। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে সাম্প্রতিক বিভিন্ন পর্যালোচনায়ও এই বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। স্বাস্থ্য খাতের এই সাফল্য ধরে

রাখতে হবে।

প্রকাশিত : ১২ জুন ২০১৫

১২/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: