হালকা কুয়াশা, তাপমাত্রা ১৮.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ভারতের সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়নের আগে সংসদে আলোচনা প্রয়োজন ॥ এমাজউদ্দিন

প্রকাশিত : ১১ জুন ২০১৫, ০১:২৫ এ. এম.

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নরেন্দ্র মোদির সফরে যে ২২টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে তার অধিকাংশই ভারতের স্বার্থে করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপিপন্থী শতনাগরিক কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর এমাজউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে করা চুক্তিগুলো বাস্তবায়নের আগে জাতীয় সংসদে ও বাইরে এগুলো নিয়ে আলোচনা করা উচিত। বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন’ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

এমাজউদ্দিন আহমেদ বলেন, ভারতের সঙ্গে করা চুক্তিগুলোর বিষয়ে জনগণকে জানাতে হবে। এ বিষয়ে জনগণকে অন্ধকারে রেখে চুপচাপ কোন সিদ্ধান্ত নেয়া ঠিক হবে না। তাই আশা করছি চুক্তিগুলো সংসদে উত্থাপন করা হবে। এ নিয়ে জাতীয় সংসদ ও সংসদের বাইরে খোলামেলা আলোচনা হওয়া উচিত। যাতে কোন লুকোচুরি না থাকে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দানবীয় হাতেম তাইয়ের মতো ভারতকে সকল প্রকার সুবিধা দিচ্ছে।

প্রফেসর এমাজউদ্দিন বলেন, ভারতের কাছ থেকে উপযুক্ত পাওনা আদায়ে জনগণের সমর্থিত শক্তিশালী সরকার প্রয়োজন। কারণ, আমরা আমাদের ন্যায্য পাওনা আদায় করতে ব্যর্থ হলে মোদিকে দায়ী করা ঠিক হবে না। এজন্য আমাদের সবার আগে প্রয়োজন জনগণের শক্তিতে গঠিত শক্তিশালী সরকার। যতক্ষণ না আমরা শক্তিশালী সরকার পাবো, ততক্ষণ আমাদের অন্যের করুণার পাত্র হয়েই থাকতে হবে। তিনি বলেন, সরকার কখনই চায়নি মোদির সঙ্গে খালেদা জিয়ার বৈঠক হোক। এর একমাত্র কারণ, বর্তমান সরকার জনসমর্থনহীন।

এমাজউদ্দিন বলেন, অন্য দেশের জায়গার প্রতি আমাদের কোন লোভ নেই। তবে আমাদের জায়গা ছাড়া যাবে না। জনগণের সমর্থনের সরকার হলে ১ ইঞ্চি জায়গাও ছেড়ে দেবে না। তিনি বলেন, অভিযোগ করছি না, সত্যি বলছি এ সরকার একেবারে জনগণের সমর্থন ছাড়া, জনগণের ম্যান্ডেট বিহীন সরকার। এ সরকার দিয়ে অন্য একটি প্রবল শক্তিশালী সরকারের কাছ থেকে কী পেতে পারি আমরা।

আঞ্চলিক কানেকটিভিটি ও ট্রানজিট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি আমার উঠান একজনকে ব্যবহার করতে দেবো। কিন্তু অন্যের উঠানে পা দেয়ার ক্ষমতা আমার থাকবে না এমন হলেতো হবে না। উভয়ে উভয়ের উঠান ব্যবহারের সুযোগ থাকতে হবে। সীমান্তে মানুষ হত্যা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পৃথিবীর অধিকাংশ বর্ডারই শান্তিপূর্ণ। এমন কী ভারত-পাকিস্তান বর্ডারও। তবে হয়তো সেখানে ভয় কাজ করে, একটা গুলি করলে যদি ৫ গুলি খেতে হয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বছরে প্রায় ১ হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়। অথচ এ বিষয়ে মোদির সফরে আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে কিছু বলা হয়নি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও কিছু বলেননি।

তিস্তা চুক্তির বিষয়ে কোন সুরাহা না হওয়ায় সমালোচনা করে এমাজউদ্দিন বলেন, বার বার তিস্তা নদীর নাম উচ্চারণ করা হলেও তিস্তা নদীকে প্রাণবন্ত করার কোন কথা আমাদের দিক থেকেও বলা হয়নি, ভারতের প্রধানমন্ত্রীও বলেননি। আসলে এ বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি তাই শুধু আশার কথাই বলা হয়েছে। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে দেশ স্বাধীন করেছি, কোন চুক্তির মাধ্যমে সে দেশের এক ইঞ্চি মাটিও ছেড়ে দেয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, সীমান্ত চুক্তি কিভাবে বাস্তবায়ন হবে তা নিয়েও দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে কোন কথা হয়নি। তাহলে এ সমস্যার সমাধান কিভাবে হবে?

আলোচনা সভায় বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা রুহুল আলম চৌধুরী অভিযোগ করেন, মোদির সঙ্গে যাতে খালেদা জিয়ার সাক্ষাত না হয় সেজন্য সরকার আপ্রাণ চেষ্টা করেছে। কিন্তু এ চেষ্টায় সফলতা আসেনি। মোদির সফর ফলপ্রসূ হয়নি একথা আমি বলবো না। তবে কতটুকু সফল হয়েছে সেটা সময়ই বলবে। জনগণ তখন তা দেখবে।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি একেএম রকিবুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেনÑ বিএনপি নেতা শাহজাহান মিয়া সম্রাট, স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মোঃ রহমতউল্লাহ প্রমুখ।

প্রকাশিত : ১১ জুন ২০১৫, ০১:২৫ এ. এম.

১১/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: