রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

আরফিন রুমির ‘কিছু কথা আকাশে পাঠাও’

প্রকাশিত : ১১ জুন ২০১৫

আলাপচারিতার শুরুতেই সুন্দর হাসি দিয়ে বললেন, খুব ভাল আছি। ঈদে আসছে আমার সুর ও সঙ্গীতে তিনটি গানের ভিডিও এ্যালবাম। আশা করছি গানগুলো সবার ভাল লাগবে। রুমির সঙ্গীতের প্রতি ভাললাগা ছোট বেলা থেকেই। তিনি বলেন, আমি ছোট বেলায় দেখতাম আমার মা হারমোনিয়ামে নিয়মিত রেওয়াজ করতেন। প্রথমে আমি মাকে দেখেই গানে উৎসাহ পাই। আমার দাদার বাড়িতে গানের একটা পরিবেশ ছিল এবং সেখানে বিভিন্ন ধরনের গান হতো। তখন থেকেই আমার ভেতর গানের প্রতি বিশেষ একটা ভাললাগা তৈরি হয়। আমার পরিকল্পনা ছিল না আমি শিল্পীই হবো। তবে গানের প্রতি আমার ভীষণ আগ্রহ ছিল। তার সঙ্গীতে শুরু বলতে পারেন রুমি রহমানের হাত ধরে। তখন রুমি রহমান দলছুটের ড্রামার ছিলেন। তার সঙ্গে রুমির একটা ভাল সম্পর্ক হয়। একপর্যায়ে তিনি তাকে একটা সুযোগ দেন। তখন জি-সিরিজের ব্যানারে একটি মিশ্র এ্যালবাম আসে নাম ছিল ‘অন্তরালে’। এখানে রুমি একটি গান করেছিলেন। এভাবেই শুরু। অনেকে বলে আপনার ফিচারিং কিছুটা হাবিব ওয়াহিদের মতোÑ এটা নিয়ে আপনি কি বলবেন? এ বিষয়ে রুমি বলেন, মা দেখল গানের প্রতি আমার ভীষণ ভাললাগা। ২০০৫ সালের দিকে মা আমাকে ফেরদৌস ওয়াহিদ আঙ্কেলের কাছে নিয়ে যান। তখন আঙ্কেল আমাকে বলেন, আমার কাছে আসতে যেতে থাকো, এমনই করে শেখা হয়ে যাবে। এরপর একদিন হাবিব ভাইয়ের সঙ্গে পরিচয় হলো। এক বিয়ের অনুষ্ঠানে আমি গান করেছিলাম। তখন আঙ্কেল বলল, তুমি খুব ভাল গান কর আমি হাবিবকে বলব। যেহেতু আমার বিকাশ ঘটেছে ফেরদৌস ওয়াহিদ আঙ্কেলের কাছে সেহেতু হাবিব ভাইয়ের মতো কিছুটা হতেই পারে। রুমি নতুনদের কাজ নিয়ে বলেন, আমি মনে করি নতুনরা অনেকেই ভাল করছে। তবে আমাদের আরও বেশি পরিশ্রম করতে হবে। শুধু আমাদের দেশের কথা ভেবে নয়। আমাদের কাজ করতে হবে পুরো পৃথিবীর কথা মাথায় রেখে। আমাদের মিউজিশিয়ানদের আরও বেশি বেশি সাধনা করতে। যে যার জায়গা থেকে আমাদের সর্বোত্তম চেষ্টা করতে হবে। দেশের বাইরে কাজের সুযোগ পেলে কি করবেন? রুমি এ প্রশ্নের উত্তরে বলেন, আমি দেশের বাইরে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলাম। একটি গানের কাজ প্রায় শেষ করে ফেলেছিলাম। পরে কিছু বিষয়ে মিল না হওয়ার কারণে কাজটি করা হয়নি। তবে যদি ভাল কাজের সুযোগ আসে এবং মতের মিল হয় তাহলে কাজ করতে আপত্তি নেই। বর্তমানে আরফিন রুমি তিনটি ভিডিও গানের এ্যালবামের কাজ নিয়ে ব্যস্ত আছেন। সঙ্গীতার ব্যানারে প্রকাশিত হবে এই ভিডিও এ্যালবাম। এ্যালবামের নাম ‘কিছু কথা আকাশে পাঠাও’। শিরোনাম গানটির লিখেছেন জাহিদ আকবর। বাকি দুটি গানের শিরোনাম ‘নিয়ে চলো’ এবং ‘পরাণ কান্দে’। ‘নিয়ে চলো’ গানটি লিখেছেন আরফিন রুমি নিজে এবং ‘পরাণ কান্দে’ গানটি লিখেছেন রহম চাঁন। তবে এই গানটির সঙ্গে নতুন কিছু কথা সংযোজন করেছেন আরফিন রুমির মা নাসিমা আক্তার। সবগুলো গানের সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন আরফিন রুমি। এ বিষয়ে রুমি বলেন, এই তিনটি গানের মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করা হচ্ছে। গানগুলোর কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। এখন মিউজিক ভিডিও মাধ্যমে শ্রোতাদের কাছে সহজে গান পৌঁছে। ভিডিও এ্যালবাম প্রকাশের পরপরই অডিও এ্যালবামটি প্রকাশ করতে চাই। এছাড়া আরও কিছু এ্যালবামের কাজ ও সিনেমার গানের কাজ নিয়ে ব্যস্ত আছেন রুমি। স্টেজ ও টিভি লাইভ শো নিয়ে ও ব্যস্ততার কমতি নেই তার। অনেকে বলেন এখন যারা করছে তারা সত্তর আশির দশকের মতো গান করতে পারছে না আপনার কি মনে হয়? এ বিষয়ে রুমি বলেন, আমি মনে করি সময়ের সঙ্গে অনেক কিছুর পরিবর্তন আসে। এখন অনেক বেশি কাজ হচ্ছেÑ আসলে সবাই সব গান শোনার সময় করে ওঠতে পারে না। আমরা এখন যে ধরনের গান করছি এমন হতে পারে দশ বছর পরে আমাদের

গানগুলো স্মরণীয় হতে পারে। আসলে সময়ের সঙ্গে রুজির পরিবর্তন হতে পারে। সঙ্গীত জগতে তার এখন পর্যন্ত ঊল্লেখযোগ্য প্রাপ্তি নিয়ে রুমি জানান, সঙ্গীত জগতে আপনার উল্লেখযোগ্য প্রাপ্তির কথা বলতে গেলে প্রথমে যেটা আসে তা হলো আমি মেরিল প্রথম আলো পুরস্কার পেয়েছি ২০১১ সালে সেরা কণ্ঠশিল্পী হিসেবে। এরপর যেটা বলব দেশের অগণিত মানুষের ভালবাসা পেয়েছি। যেখানে যাই মানুষ আমাকে চিনে, সম্মান করে। এর চেয়ে বড় পুরস্কার আর কি হতে পারে একজন মানুষের জন্য। উল্লেখ্য, তার প্রথম এ্যালবাম বাজারে আসে ‘আরফিন রুমি’ নামে। দ্বিতীয় সলো এ্যালবামের নাম ছিল ‘এসো না’ এটা বাজারে আসে লেজার ভিষণের ব্যানারে। তৃতীয় সলো এ্যালবামের নাম ছিল ’ভালবাসি তোমায়’ এটা বাজারে আসে সঙ্গীতার ব্যানারে। চতুর্থ সলো এ্যালবামের নাম ছিল ’পর জনম’ এটা বাজারে আসে সিডি চয়সের ব্যানারে। এছাড়া মিশ্র এ্যালবামের সংখ্যা চারটি এগুলো হলো ‘না বলা ভালবাসা, ওরে প্রিয়া, নীলাঞ্জনা এবং আদর’।

সজীব শাহরিয়ার

প্রকাশিত : ১১ জুন ২০১৫

১১/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: