আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

গ্লোবাল ফান্ডের সহায়তায় এগিয়ে চলছে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম

প্রকাশিত : ১১ জুন ২০১৫

গ্লোবাল ফান্ডের সহায়তার এগিয়ে চলছে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম

স্টাফ রিপোর্টার, দাউদকান্দি থেকে ফিরে ॥ গ্লোবাল ফান্ডের সহায়তায় এগিয়ে চলছে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম। এর সফলতা মূল্যায়ন করে সংস্থাটি এ সহায়তা অব্যাহত রাখবে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে ডেপুটি ডাইরেক্টর এমবিডিসি এ্যান্ড ন্যাশনাল টিবি কন্ট্রোল প্রোগ্রামের প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডাঃ মোজাম্মেল হক জনকণ্ঠকে বলেন, আগামী ৫ বছর এ কর্মসূচীতে গ্লোবাল ফান্ড সহায়তা করবে। তাছাড়া সম্প্রতি গ্লোবাল ফান্ডের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এতে এ কার্যক্রম ঘুরে দেখেছে। পরবর্তীতে মন্ত্রী ও সচিবের সঙ্গে দেখা করে এর সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

ব্র্যাক সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশে যক্ষ্মা একটি জনস্বাস্থ্য সমস্যা। ২০১৩ সালে জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচীর মাধ্যমে ১ লাখ ৮৪ হাজার ২৬৯ জন যক্ষ্মা রোগী শনাক্ত হয়েছে। (শনাক্তকরণের হার ১১৯, প্রতি ১ লাখ জনসংখ্যায়)। কফে যক্ষ্মা জীবাণুযুক্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার ৩৯৭ জন (শনাক্তকরণের হার ৬৮ প্রতি ১ লাখ জনসংখ্যায়)। ২০১২ সালে জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচীর মাধ্যমে শনাক্তকৃৃত রোগীর চিকিৎসার সফ্যলের হার ৯৩ শতাংশ। এছাড়া যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচীর একটি অন্যতম বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এমডিআর (মাল্টি ড্রাগ রেজিটেন্স ) টিবি। ২০০৮ সাল থেকে এমডিআর নিয়ে কাজ শুরু করে এনটিপি। পরবর্তীতে কমিউনিটি বেজ প্রোগ্রামেটিক ম্যানেজমেন্ট অব ড্রাগ রেজিটেন্স টিবি কার্যক্রম ২০১২ সাল থেকে শুরু হয়ে বর্তমানে ১৯টি জেলায় এবং ৩টি সিটি কর্পোরেশনে কার্যক্রম চলছে। এমডিআর বিষয়ে ব্র্যাকের সিনিয়র ম্যানেজার ডাঃ কাজী আল মামুন সিদ্দিকী জনকণ্ঠকে জানান, ড্রাগ রেজিটেন্স সার্ভে ২০১০-১১ এর হিসাব অনুযায়ী এমডিআর রোগীর প্রতিবছর নতুন রোগী ১.৪ শতাংশ এবং পুরাতন রোগী ২৮.৫ শতাংশ হওয়ার কথা। সে হিসেবে প্রতিবছর মোট প্রায় ৪ হাজার ২০০ রোগী পাওয়ার কথা। কিন্তু আমরা প্রতিবছর প্রায় এক হাজার রোগী শনাক্ত করছি এবং চিকিৎসার আওতায় নিয়ে আসছি।

সম্প্রতি কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা ঘুরে এরকম একজন এমডিআর রোগী পাওয়া যায় রায়পুর ইউনিয়নের চারিপাড়া গ্রামে। তার নাম শাহীনুর বেগম (৪০)। তিনি জানান, ২০০৮ সালে চট্টগ্রামে গার্মেন্টস কর্মী হিসেবে কাজ করার সময় তার যক্ষ্মা ধরা পড়ে। ওই সময় নিয়মিত ওষুধ খেয়ে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যায়। পরবর্তীতে আবারও কাজে যোগ দেন। কিন্তু প্রায় ৫ বছর ভাল থাকার পর আবারও যক্ষ্মা দেখা দেয়। তখন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা যায় তার ওষুধ প্রতিরোধী (এমডিআর) যক্ষ্মা হয়েছে। এ অবস্থায় চট্টগ্রাম থেকে সে ফিরে আসে বাবার বাড়িতে। স্বামীর সঙ্গে তার কোন যোগাযোগ নেই। দাউদকান্দি এসে বর্তমানে ব্র্যাকের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে। ২৪ মাসে তাকে নিয়মিত ওষুধ খেতে হবে।

প্রকাশিত : ১১ জুন ২০১৫

১১/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: