রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

সকল মুক্তিযোদ্ধাকে ১০ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা প্রদানের দাবি

প্রকাশিত : ১১ জুন ২০১৫
  • বয়স বৈষম্য কাম্য নয়

সকল মুক্তিযোদ্ধার সম্মানীভাতা ১০ হাজার টাকা এবং ঈদ ও পূজোয় বোনাস দেয়ার দাবি জানিয়েছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় কমিটির নেতৃবৃন্দ। ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরের বাজেটে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাানীভাতা বিষয়ে যে প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছে, তাতে মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বয়সের কথা বলে সম্মানীভাতা পাঁচ হাজার ও ১০ হাজার টাকার যে কথা বলা হচ্ছে, তা সংসদে পাশ হলে মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হবে বলেও নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন। এদিকে আগামী জুলাই থেকে মুক্তিযোদ্ধা সম্মানীভাতা ১০ হাজার টাকায় উন্নীত করার যে প্রতিশ্রুতি সরকার পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছে তা সব সাধারণ মুক্তিযোদ্ধার ক্ষেত্রে কার্যকর করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা নৌ-কমান্ডো এ্যাসোসিয়েশন। এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেছেন, সম্প্রতি জাতীয় সংসদে ৬৫ বছরের বেশি বয়সী মুক্তিযোদ্ধাকে ১০ হাজার টাকা করে সম্মানীভাতা দেয়ার প্রস্তাব করে যে বিল আনা হয়েছে, তাতে ১০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধাও উপকৃত হবে না। গত ৫ জুন নৌ-কমান্ডো এ্যাসোসিয়েশনের এক সভায় এ আবেদন জানানো হয়।

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় কমিটি নেতৃবৃন্দ বলেন, কিভাবে, কি জন্য সম্মানীভাতা বয়সের কারণ দেখিয়ে পাঁচ হাজার ও ১০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে তা আমাদের বোধগম্য নয়। তাই বয়স বিবেচনায় নয়, সকল মুক্তিযোদ্ধার সম্মানীভাতা ১০ হাজার টাকা এবং ঈদ ও পূজোয় বোনাস দেয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে দ্রুত নির্দেশ দেবেন বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মুক্তিযোদ্ধা নেতৃবৃন্দ বঙ্গবন্ধু কন্যার দৃষ্টি আকর্ষণ করে আরো বরে, এখন বয়সের কারণে প্রতিটি মুক্তিযোদ্ধারই ঔষধ-পথ্য, চিকিৎসা সেবা প্রয়োজন। মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যাপারে হাসপাতালে ভর্তির বিষয়টি অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর হয় না। আমাদের প্রস্তাব, চিকিৎসার জন্য সরকার নির্ধারিত হাসপাতালে মুক্তিযোদ্ধারা ভর্তি হবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা চালিয়ে এ সংক্রান্ত বিল সরকারের এজি অফিসে সাবমিট করে গ্রহণ করবে।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় কমিটির নির্বাহী চেয়ারম্যান মোঃ হারুন-উর-রশিদ, মহাসচিব শফিকুল বাহার মজুমদার টিপু, আলহাজ্ব শরিফ উদ্দিন, আনোয়ার হোসেন পাহাড়ী বীরপ্রতীক, ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল হাই, আলহাজ্ব মোমিনুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক মোশাররফ হোসেন, আবুল খায়ের, হারুনুর রশিদ জিল্লুর, নজরুল ইসলাম , বাহার উদ্দিন রেজা বীরপ্রতীক-কুমিল্লা, মাজহারুল ইসলাম মন্টু-যশোর, মাহমুদুল হক শাহজাদা-গাইবান্ধা, সিরাজুল ইসলাম-নাটোর, আবুল কাশেম জিএস-নোয়াখালী, তবারক হোসেন-চট্টগ্রাম, সেলিম খান কুতুব-খুলনা, মোকাদ্দেস হোসেন বাবলু-দিনাজপুর, হুমায়ুন কবির বাঙাল-টাঙ্গাইল, আবদুর রব-ময়মনসিংহ, আবদুল জলিল হাওলাদার-শরিয়তপুর, আবদুল জলিল-বান্দরবান,মাহমুদ পারভেজ জুয়েল (মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট) সহ সংগঠনের জাতীয় ও জেলা-উপজেলা নেতৃবৃন্দ।

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা নৌ-কমান্ডো এসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী পরিষদের জরুরী সভায় চেয়ারম্যান এমদাদ হোসেন মতিনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন অনিল বরণ রায়, সৈয়দ আহমেদ মজুমদার, মহসীন আলী প্রমুখ সভায় সকল মুক্তিযোদ্ধাকে দুটি উৎসব বোনাস দেয়ারও আবেদন জানানো হয়। অপর এক প্রস্তাবে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি চিরঅমলিন রাখার জন্য সারা দে;শে রাস্তাঘাট, স্কুল, ব্রিজ ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সংশ্লিষ্ট এলাকার মুক্তিযোদ্ধাদের নামে নামকরণকরার ব্যবস্থা গ্রহণ ও সকল মুক্তিযোদ্ধাকে পরিচয়পত্র দেয়ার আহ্বান জানানো হয়- বিজ্ঞপ্তি

প্রকাশিত : ১১ জুন ২০১৫

১১/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

অন্য খবর



ব্রেকিং নিউজ: