কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

সমাজ ভাবনা

প্রকাশিত : ১১ জুন ২০১৫
  • এবারের বিষয় ॥ ফুটপাথের পাঁচালি

ফুটপাথ নাকি ডাস্টবিন!

উজ্জ্বল রিবেরু

ফুটপাথ তুমি কার? আজ ফুটপাথের কথা বলতে গিয়ে বলতে ইচ্ছে করছে, ‘ফুটপাথ তুমি আবর্জনার’। তুমি ‘ডাস্টবিনের’। লক্ষ্য করলে দেখব আমরা ডাস্টবিনের বাইরে ময়লা আবর্জনা ফেলছি। কিন্তু এই ময়লা আবর্জনা, পলিব্যাগ, বোতল, চিপসের প্যাকেট যে পরিবেশের ক্ষতি করছে তা একটুও চিন্তা করছি না। যখন নটরডেম কলেজ যেতাম তখন ফকিরাপুলে একই দৃশ্য দেখতাম। তখন থেকেই আমার মনে প্রশ্ন জাগে। আমরা সজ্ঞানে পরিবেশকে হত্যা করছি। আমরা সবাই এই বিষয়টি নিয়ে উদাসীন। তাই পথে-ঘাটে-রাস্তায় যেখানে সেখানে ময়লা ফেলি।

আমি যথাস্থানে ময়লা ফেলতে চেষ্টা করি। পরিবেশ সম্পর্কে মডারেটর স্যারের সঙ্গে এক হয়ে একটি পরিকল্পনা করি। কিন্তু পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করতে পারিনি। আমরা স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী দিয়ে শুরু করতে চাই। যারা স্কুল, কলেজ ব্যাগ নিয়ে আসে তাদের প্রত্যেকের ব্যাগে একটি করে আলাদা পকেট থাকবে। যাতে করে তারা তাদের অপ্রয়োজনীয় কাগজ সেখানে রাখতে পারে। তাই আমরা জনকণ্ঠ পত্রিকার মাধ্যমে সবার সহযোগিতা কামনা করছি। আপনারা স্কুল, কলেজ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করুন, যাতে স্কুল-কলেজের ব্যাগ তৈরি করার সময় ময়লা ফেলার জন্য একটি ডাস্টবিন পকেটের ব্যবস্থা করা হয়। দয়া করে আমাদের পাশে দাঁড়ান। যাতে আমরা সুন্দর ফুটপাথ, রাস্তাঘাট ও পরিবেশ পাই। সেইসঙ্গে বশিদিন বেঁচে থাকার সজীবতা লাভ করি।

ঢাকা থেকে

ফুটপাথের রঙ্গমঞ্চ ম্যাক্সওয়েল রিবেরু

ফুটপাথ হচ্ছে পথিকের চলার সুগম পথ, যেখান দিয়ে পথিক নিজের খেয়াল খুশিমতো হেঁটে চলবে। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এর কার্যক্রম বা পরিক্রমা ভিন্ন ধরনের। কারণ ঢাকা শহরের ফুটপাথে রয়েছে অবৈধ স্থাপনা, অবৈধ দোকানপাট, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেল পার্কিং ইত্যাদি। এতে করে জনমানুষের পথচলায় অসুবিধা হয়। প্রতিদিনই দেখা যায় বিক্রেতারা, গাড়িওয়ালারা ফুটপাথ দখল করে বসে আছে। তারা নিশ্চয়ই জনগণের কথা চিন্তা করে না। যদি চিন্তাই করত তাহলে আর ফুটপাথে অবৈধভাবে এসব কর্মকা-ের রঙ্গমঞ্চ হতো না। মাঝে মধ্যে খুবই অবাক লাগে যে, মানুষ কেমন করে এত অমানবিক হতে পারে! তাদের মধ্যে কি এতটুকু মায়া মমতা হয় না! কেন আমরা অন্যের জায়গায় অবৈধ স্থাপনা বসাবো? কারণ আমার একটু সুবিধার জন্য হাজার হাজার, লাখ লাখ মানুষ কষ্ট করবে। বলতে গেলে আমরা বাংলাদেশের মানুষ অনেক নিচে নেমে গেছি। আমরা ব্যক্তিস্বার্থ সবার আগে দেখি। আর এজন্যই রাস্তাঘাটে এত যানজট চোখে পড়ে।

কয়েকদিন পর পরই দেখা যায় যে, পুলিশ বাহিনী ফুটপাথ থেকে অবৈধ স্থাপনা, বিক্রেতা, দোকানপাট, গাড়ি পার্কিং উচ্ছেদ করার জন্য বেরিয়ে পড়ে। কিন্তু এর ফলাফল কী বা কয়দিন থাকে? দেখা যায়, পুলিশকে কিছু দিয়ে দিলে ফুটপাথে আবার নতুন করে স্থাপনা বা বিক্রি বা গাড়ি পার্কিং শুরু হয়ে যায়। সরকারই কঠোরহস্তে এই অপরাধের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে পারে। আমার মনে হয়, পুলিশ বাহিনীর পদক্ষেপ আসলেই অতিসামান্য। তবে এটা ঠিক, ফুটপাথ থেকে হকার বা বিক্রেতাদের উচ্ছেদ করলে মনে হবে যেন তাদের পেটে লাথি মারা হচ্ছে। অনেক হকার বা বিক্রেতা না খেয়ে থাকবে, পরিবার চলবে না। কিন্তু সরকারই এই সমস্যার সমাধান দিতে পারে আরও শিল্পকারখানা স্থাপন করে।

লক্ষ্মীবাজার, ঢাকা থেকে

ঝুঁকির ফুটপাথ

আশরাফুল আলম

আমার অযুত অযুত স্বপ্নের ভেতর কল্পনা করতাম। আমি রাজধানী শহরে থাকব আর ফুটপাথ দিয়ে হেঁটে যাব। সকাল-বিকেল ঘুরে ঘুরে দেখব শহর, শহরের মানুষগুলো। কিন্তু আমি কল্পনায় যে ফুটপাথের ছবি আঁকতাম তার সঙ্গে হিসাব মেলে না। আমার কল্পনায় এক শান্তিময় নিরাপদ শহরের কথা ভাবতাম। কিন্তু আমি এসব কী দৃশ্য দেখছি নগরীর ফুটপাথে! লন্ডনের ফুটপাথে ঘুমাতে ইচ্ছা হয় আর ঢাকার ফুটপাথে এক সেকেন্ড দাঁড়াতে ইচ্ছা হয় না। এখানে ফুটপাথ নোংরা ময়লা-আবর্জনায় স্তূপ হয়ে আছে। বাতাসে পচা গন্ধ ভেসে আসে। এখানে ফুটপাথে চোর, বাটপার, খুনী, হাইজ্যাকার, দখলদারের হাতে। এখানে প্রায়শ দুর্ঘটনা ঘটে। আমি হয়তবা মরে যেতাম এই ফুটপাথে সেদিন। হয়তবা আমাকে ফেলে দেয়া হতো কোন পচা নর্দমায় নগরীর ফুটপাথে। আর লিখতে পারতাম না আমার স্বপ্নের কথা। দিনটি ছিল ৮ মার্চ ২০১৪। ডায়েরিতে শুধু লিখে রেখেছি ঘটনাটি। আমি হাঁটছিলাম ফুটপাথ দিয়ে। সতর্ক দৃষ্টি দিয়েই হাঁটছিলাম। হঠাৎ দেখি একটা রিক্সা উড়ে আসছে আমার উপর। দু’হাত সামনে বাড়াই রিক্সা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য। সামান্য কিছু আঘাত রক্ষা করতে পেরেছি। আমার উপর সম্পূর্ণ রিক্সা এসে পড়ে। একটা লোহার রড এসে আমার বুকে আঘাত লাগে। আঘাতে মোবাইলটা দু’ভাগ হয়ে যায়। চোখের চশমাটা গুঁড়া গুঁড়া হয়ে যায়। বুকের আঘাতটা সারাতে অনেক দিন ডাক্তারের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধের আশ্রয় নিতে হয়েছে। পেছন থেকে সিএনজি অটোরিক্সা এসে জোরে ধাক্কা দিয়েছে রিক্সাটাকে। অটোরিক্সাটা দুর্ঘটনা ঘটিয়ে চলে গেছে তার মতো। আর আমি তো মাটিতেই পড়েছিলাম।

হয়তবা আমি বেঁচে গেছি মৃত্যুর হাত থেকে। এই তো আমাদের মৃত্যুর শঙ্কাযুক্ত ফুটপাথ। এখানে কে কার খবর রাখে। নগরীর পিতা কি জানেন এসব ফুটপাথের গল্প! তিনি কি বহন করবেন ফুটপাথের সব দায়ভার?

রামপুরা, ঢাকা থেকে

ফুটপাথ সমাচার

খন্দকার মাহ্বুবুল আলম

ফুটপাথসমূহ হকারদের দখলে থাকায় দেশের বিভিন্ন নগরীর সৌন্দর্যহানিসহ নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়ে চলছে। নগরীর ফুটপাথসমূহ যেই অর্থে তৈরি সেই অর্থে ব্যবহৃত হচ্ছে না। বিশেষত দেশের বিভিন্ন নগরীর রাস্তার দু’ধারে ফুটপাথ তৈরির উদ্দেশ্য হচ্ছে পথচারীদের স্বাচ্ছন্দ্যে চলার জন্য। আর সেই ফুটপাথ মাত্রই এখন হকারদের দখলে চলে যাচ্ছে। হকার কর্তৃক ফুটপাথ দখল সংস্কৃতি চালুর প্রথম থেকেই আইনানুগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে আজ এই অবস্থার সৃষ্টি হতো না।

এক শ্রেণীর সন্ত্রাসী মস্তান চাঁদাবাজরাও নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে ফুটপাথে বিভিন্ন হকারদের অন্যান্য ব্যবসার আড়ালে অবৈধ ব্যবসাও দেদার চলে আসছে। নানা ভেজাল পণ্যের ব্যবসার নির্ভরযোগ্য স্থান হচ্ছে এসব ফুটপাথ। সহজ সরল মানুষরা এখানে কেনাকাটা করতে এসে প্রতিদিন ঠকে যাচ্ছেন। নগরীর কোন কোন ফুটপাথ স্থানিক কারণে হকারমুক্ত থাকলেও এক শ্রেণীর মোটরগাড়ি আরোহীদের দাপাদাপি থেকে মুক্তি পাচ্ছে না। এতে করে পথচারীরা যেমন বিড়ম্বনার শিকার হয়ে থাকেন। তেমনি যে কোন সময়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকে যায়।

সর্বোপরি দেখা যাচ্ছে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ আর নিরাপদে যেখানে পথচারীরা ফুটপাথ দিয়ে হাঁটার কথা তা কিন্তু মোটেও হয়ে উঠছে না। ফলে এ সব পথচারী অনোন্যপায় হয়ে রোডে চলার সময় যানচলাচলজনিত নানা বিড়ম্বনা আর দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন প্রায়শ।

এ ক্ষেত্রে এ কথাও সত্য যে, এ সব ফুটপাথে অনেকে প্রয়োজনীয় পণ্যাদির ব্যবসা করে সংসার জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। ফুটপাথে আশ্রয় নিয়ে ব্যবসা করা ছাড়া তাদের আর অন্য কোন উপায় নেই। কারণ বাইরে মোটা অঙ্কের সেলামী দিয়ে দোকান ঘর ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করা এসব প্রান্তিক মানুষদের পক্ষে মোটেও সম্ভব নয়। তারপরও নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধি বা পথচারীদের ফুটপাথে চলার সুবিধার্থে এবং পরিবেশসম্মত নগরী সৃষ্টি করতে হলে ফুটপাথসমূহ হকারমুক্ত করা প্রয়োজন। তবে এসব হকারের জীবন-জীবিকার কথা ভেবে অন্যত্র জায়গার নিশ্চয়তা দিয়ে তাদের স্থানান্তর করা উচিত। তবেই ফুটপাথকে হকারমুক্ত করা যেমন সহজ হবে তেমনি পথচারীদের স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল সুবিধাসহ নগরীর পরিবেশসম্মত সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পাবে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টদের জরুরী পদক্ষেপ গ্রহণে এগিয়ে আসা দরকার।

হালিশহর, চট্টগ্রাম থেকে

ফুটপাথের আর্তনাদ

বেনজির পায়েল

শহরের রাস্তাঘাট গাড়ি ঘোড়ায় পরিপূর্ণ বলে মানুষের হেঁটে চলার জন্য এই ফুটপাথ। অথচ আজ কাল পায়ে চলার পথ হয়ে গেছে ‘হকার’দের বাবসার প্রাণকেন্দ্র। কত নিশ্চিন্ত ঝঞ্ঝাটমুক্ত ব্যবসার স্থান। নেই কর পরিশোধের ঝামেলা, জামানত বিহীন স্বাধীন ব্যবসা। এছাড়া ‘হকাররা’ই বা করবে কি। তাদের অল্প পুঁজি অল্প আয়ে গুলশান বনানীর মতো অভিজাত এলাকায় জামানত দিয়ে দোকান নেয়ার শক্তি সামর্থ্য কোনটাই নেই। এ জন্য তো থেমে থাকে না জীবন জীবিকা, না খেয়ে প্রাণ হারাতে পারে না তাদের পরিবার পরিজন।

প্রতিনিয়ত ফুটপাথে অপরিকল্পিতভাবে বসছে কত দোকানপাট। এই ব্যবসা দিয়ে কত শত মানুষ কত পরিবারের চলছে জীবন-জীবিকা। একবারের জন্য কি ভেবেছে কেউ দিনের পর দিন রাতের পর রাত এই ফুটপাথ কত কষ্ট কত আর্তনাদ করে চলছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর ব্যবসাকে একেবারে ক্ষুদ্র করে দেখলে চলবে না। ওই ক্ষুদ্রতার মধ্যেই লুকিয়ে আছে কতজনের অতীত ভবিষ্যত, ঝরে যাওয়া উঠে আসা আরো কত কিছু। সরকার তার নিজের গতিতে ‘বুলডোজার’ চালাল ওই সব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর বুকের ওপর, ফাঁকা হয়ে গেল ফুটপাথ, মিটে গেল সব ভাবনা। যেমনটি করেছিল কয়েক বছর আগে। ওই দোকানপাট ভেঙ্গে ফেলার পর কিছুদিন ফাঁকা থাকবে নিঃশ্বাস নেবে ‘ফুটপাথ’, আর এই ফাঁকে যখন যার ক্ষমতার জোর নতুন করে খুঁটি গাড়া শুরু হবে একের পর এক। কিন্তু পরিণতি কি?

কুড়িগ্রাম থেকে

টোকাইদের বিছানা

শারমিন সুলতানা মিম

নগরীর রাস্তা দিয়ে হাঁটছি। নাহ্... রাস্তা না বলি, বরং বলি ফুটপাথ। কিছুটা এগুতেই কানে এলো ‘জুতা স্যান্ডেল সারাবে...’। লোকটি আমাকে লক্ষ্য করে বলল, আপা আপনি একটু সইরা হাঁটেন দেহনি। কথা শুনে আমি ফুটপাথের মাঝ দিয়ে হাঁটতে শুরু করলাম। খানিক যেতেই আবার শুনি ‘একদাম দশ টাকা, লিয়ে লন দশ টাকা’। আরেব্বাস এই লোক আবার কয় ‘আপা মাঝ দিয়া হাঁটেন ক্যান?’ যান কিনার দিয়া হাঁটেন! ভদ্রতা দেখাতে শুনলাম লোকটার কথা। চলছি আর ভাবছি এটা তো ফুটপাথ নয়, যেন রঙ্গমঞ্চে নাট্যদৃশ্যে অংশগ্রহণ করছি। ফুটপাথের কিনারে এক লোক তার মোটরসাইকেল অবৈধভাবে পার্কিং করেছে। বড় একটা ধাক্কা খেলাম সেটার সঙ্গে। আরেকটু সরে গিয়ে হাঁটতে গিয়ে দেখি পুরোপুরি বড় রাস্তায়, মানে প্রধান রাস্তায় নেমে গেছি। এখন মনে প্রশ্ন জাগছে ফুটপাথটা আমর চলার জন্য ছিল, নাকি ছোটখাটো হকারদের ছিল? আবার আরেকটা কথা না বললেই নয় যে, ফুটপাথের বুকটা টোকাইদের বিছানা। এখন কথা হলো, শুধু কি ফুটপাথের পাঁচালিই গাইব নাকি এগুলো এড়িয়ে সত্যিই ফাঁকা ফুটপাথের বুক বেয়ে চলবে, পারব কখনো? সামান্য একফালি রাস্তা, যাকে নিয়ে এত টানাপোড়েন, এত মন কষাকষি। আসলে কবে সঠিক উত্তরে টিক চিহ্নটি পড়বে?

রাজশাহী থেকে

ঠিকানা ফুটপাথ

রাজীব প্রামাণিক

গ্রাম থেকে আসা সহায়সম্বল ও আশ্রয়হীন একটা পরিবার রাজধানী ঢাকায় পা রাখে। এই শহরের বুকে কোথায় ঠাঁই তাদের? অবশেষে ফুটপাথে হলো মাথা গোঁজার ঠিকানা। শুরু হলো এক অন্যরকম জীবন। চোখের সামনে বিশাল বিশাল অট্টালিকা অবাক বিস্ময়ে দাঁড়িয়ে আছে। এ হয়ত সমাজেরই শ্রেণীবিন্যাস।

ফুটপাথের সংসারে কখনও আকাশ ভেঙে নামে বৃষ্টি কখনও বা চাঁদের আলো। অনেক কিছুর অভাব থাকলেও ভালোবাসার অভাব নেই। দিন চলে যায় তাদের মৌলিক চাহিদাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে। রাস্তা দিয়ে যাবার পথে সবাই তাদের দিকে কেমন চোখে তাকায়। হয়ত সে চোখে থাকে ঘৃণা।

মানুষে মানুষে এখানেই বিভাজন! তাদের বাসস্থান ফুটপাথে বলে? ফুটপাথের পাশে ডাস্টবিন বলে? অথচ এই ভাগাড়খানাই তাদের জীবিকার উৎস। পৃথিবীতে কোন কিছুই ফেলনা নয়। ছাই ফেলতে ভাঙ্গা কুলোর দরকার হয়। ফুটপাথে ভেসে থাকা মানুষগুলো সেই কাজই করে যাচ্ছে।

মগবাজার, ঢাকা থেকে

ফুটপাথে মোটর সাইকেল

শাহজাহান চৌধুরী

ঢাকার প্রধান প্রধান সড়ক, মানে যেখানে বিভিন্ন গতিবেগের বিচিত্র যান চলে সেখানে তো বটেই, এমনকি পথচারীর চলাচলের জন্য সরু ফুটপাথেও দেদার চলছে মোটরবাইক। বেশিরভাগ চালক মানছেন না ট্রাফিক আইন। তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে না মোটরসাইকেলের গতি। তারস্বরে চিৎকার করে অর্থাৎ অতি উচ্চশব্দে হর্ন বাজিয়ে পথ চলেন তারা। অনেকে বাধ্যতামূলকভাবে হেলমেট পরার নিয়মকেও বুড়ো আঙুল দেখান। খবরের কাগজে বউবাচ্চাসমেত পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট গোটা পরিবারের বিপজ্জনকভাবে মোটরসাইকেল আরোহণের ছবি ছাপা হয়ে থাকে মাঝে মধ্যে। কোন ভ্রƒক্ষেপই নেই চালকের। পথচারীর জন্য সবচেয়ে বিড়ম্বনা ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে যখন একজন চালক সাঁ করে তার মোটরসাইকেল ফুটপাথের ওপর তুলে দেন। রাস্তার ওপর চলমান গাড়ির সারিকে বাইপাস কিংবা ওভারটেক করার নব্য এই তরিকায় চালক মুহূর্তের সুবিধা নেন। তার কিছুটা সময় হয়ত বাঁচে, কিন্তু তাতে পথচারীর হাড়মাংস যে বাঁচে না! এর সমান্তরালে রয়েছে উল্টোপথে বা রং সাইডে মোটরসাইকেল চালানোর স্বেচ্ছাচারী মনোভাব। ফলে নিত্য দুর্ঘটনা ঘটছে। দুই ব্যক্তি সেদিন আহত হয়েছেন। একজন দুমুখো চলাচলের রাস্তা পার হচ্ছিলেন। বাম থেকে ডানদিকের রাস্তায় যাবেন তিনি জেব্রাক্রসিং দিয়ে। যথানিয়মে ডানদিকের যান চলাচলের ওপর দৃষ্টি ছিল তার। দেখে দেখে পার হচ্ছিলেন তিনি সতর্কতার সঙ্গেই। ওই সময় উল্টোমুখী অর্থাৎ রং সাইডে একটি হোন্ডা চলে এলো গু-ার মতো ফুঁসতে ফুঁসতে। মুহূর্তে ধাক্কা দিল সেই আরোহীকে। রাস্তার ওপর পড়ে গেলেন তিনি। ভদ্রলোক জ্ঞান হারাননি। বুঝলেন হাড়গোড় তার ভাঙ্গেনি। দেখতে দেখতে ভিড় জমে গেল, মোটরসাইকেল আরোহীকে তখন গণপিটুনির হাত থেকে কে রক্ষা করে? দুর্ঘটনাকবলিত সেই ভদ্রলোকই অন্যদের মিনতি করে বললেন লোকটিকে ছেড়ে দিতে। কৃতজ্ঞ দৃষ্টিতে তাকিয়ে চলে গেলেন মোটর সাইকেলঅলা। কিন্তু পরদিন দুর্ঘটনার শিকার পথচারীকে যেতে হলো মাথার সিটিস্ক্যান করাতে।

এসব দেখেশুনে ক্ষেপে গিয়ে বলতে ইচ্ছা করে, পুলিশ ভাইরা এই মহানগরীর নাগরিকদের ফুটওভারব্রিজ ব্যবহারের শিক্ষা দিলেন ক’দিন আগে। বেশ ভালো কথা। এবার জরুরীভিত্তিতে বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করুন।

উত্তরা, ঢাকা থেকে

প্রকাশিত : ১১ জুন ২০১৫

১১/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: