আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

প্রত্যাশা পূরণের লড়াই শুরু

প্রকাশিত : ১০ জুন ২০১৫
  • রোকসানা বেগম

সিরিজে দুই দলের দুই লক্ষ্য। দুই ধরনের স্বাদ পাওয়ার আকাক্সক্ষা। ভারত চায় যে করেই হোক, টেস্ট ম্যাচটি জিতে নিতে। বিদেশের মাটিতে যে টেস্ট জিতে না, সেই অপবাদ ঘুচানো বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট জয় দিয়ে শুরু করতে। আর ওয়ানডে সিরিজে প্রতি ম্যাচে জিততে। আর বাংলাদেশ চায় যে করেই হোক, টেস্ট ম্যাচটা ড্র করতে। পাকিস্তানের বিপক্ষে দুর্দান্ত একটি ওয়ানডে সিরিজ শেষ করায়, ভারতের বিপক্ষেও প্রথমে সিরিজ জেতার, তা না হলে অন্তত একটি ওয়ানডে জেতার স্বপ্ন আছে। দুই দলের এখন স্বাদ মেটানোর সিরিজ শুরু হয়ে যাচ্ছে।

আজ ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার সিরিজের একমাত্র টেস্ট শুরু হচ্ছে। টেস্ট শেষে ১৮ জুন প্রথম ওয়ানডে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে নির্ধারিত ওভারের সিরিজ। ২১ জুন দ্বিতীয় ও ২৪ জুন তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে হবে ওয়ানডে ম্যাচগুলো।

এ সিরিজ খেলতে আপাতত ভারতের টেস্ট দল সোমবারই ঢাকায় এসে অনুশীলনও শুরু করে দিয়েছে। তবে মঙ্গলবারই প্রথমবার টেস্ট ভেন্যুতে অনুশীলন করেছেন বিরাট কোহলিরা।

এখন টেস্ট দলের অধিনায়ক বিরাট কোহলি, মুরালি বিজয়, শিখর ধাওয়ান, চেতশ্বর পুজারা, অজিঙ্কেয়া রাহানে, রোহিত শর্মা, ঋদ্ধিমান সাহা, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, হরভজন সিং, কর্ন শর্মা, ভুবনেশ্বর কুমার, উমেশ যাদব, বরুণ এ্যারন ও ইশান্ত শর্মা এসেছেন। টেস্ট ম্যাচ শেষ হতেই ওয়ানডের অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি, সুরেশ রায়না, আম্বাতি রাইডু, রবীন্দ্র জাদেজা, অক্ষর প্যাটেল, মোহিত শর্মা, স্টুয়ার্ট বিন্নি ও ধাওয়াল কুলকার্নি আসবেন। টেস্ট ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ ছাড়বেন পুজারা, ঋদ্বিমান, হরভজন, মুরলি, কর্ন শর্মা, বরুন, ইশান্ত।

শুরুতে যেহেতু টেস্ট খেলা, এ ম্যাচটি নিয়েই কোহলি ভাবছেন। ধোনি টেস্ট নেতৃত্ব ছাড়ার পর তার কাঁধেই টেস্টে অধিনায়কের গুরুত্ব দায়িত্ব পড়েছে এবং প্রথমবারের মতো কোন দলের বিপক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে টেস্ট নেতৃত্বও দেবেন। তাই এ ম্যাচটিও জিততে চান কোহলি। ভারতের টেস্ট অধিনায়ক বিরাট কোহলি মনে করেন, ‘অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে দল; এখন উচিত জয়ে ফেরা। বাংলাদেশ সফরে একমাত্র টেস্টেই এই চাওয়া পূরণ করতে চাই।’ কোহলি আরও বলেছেন, ‘আমরা অনেক শিখেছি, কিন্তু আমি মনে করি না, সবসময় শিখব-এই মানসিকতা নিয়ে আমাদের খেলা উচিত। আমি মনে করি, (ভাবার) এটাই সময়। আমরা অনেক টেস্ট খেলেছি। আমাদের দক্ষতা মেলে ধরা শুরু করা এবং নিজেদের মতো করে ফল পাওয়া উচিত। টেস্ট জয়ের প্রতি দৃষ্টি দেয়া উচিত।’

গত বছর জুলাইয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্ট জয়ের স্বাদ পায় ভারত। লর্ডসের ওই টেস্টের পর খেলা সাত ম্যাচে জয় পায়নি তারা। লম্বা সময় টেস্টে জয় না পাওয়ার কারণে কোহলির দীর্ঘমেয়াদী ক্রিকেটে জয়ের চাওয়াটা বেশি। ভারত টেস্ট অধিনায়ক জানান, ‘শুধু শেখার মানসিকতা নিয়ে প্রতি ম্যাচ খেলতে নামার দিন ফুরিয়েছে। বাংলাদেশ সফরে তা করবেন না ক্রিকেটাররা।’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘যেটা অর্জন করতে চাই, তার জন্য আমাদের পরিকল্পনা, উচ্চাশা এবং লক্ষ্য আছে। কিন্তু সেখানে আমরা ধাপে ধাপে যাব। প্রস্তুত আমরা।’ বাংলাদেশে আসার আগে দুই-তিনদিন কলকাতার ইডেন গার্ডেনে ফিটনেস ট্রেইনিং করেছে ভারত। বাংলাদেশে এসে একদিন মিরপুর স্টেডিয়ামের একাডেমি ভবনের মাঠে, আরেকদিন ফতুল্লায় অনুশীলন করেই টেস্ট খেলতে নামছে। এ টেস্ট দলে আবার সুযোগ পেয়েছেন হরভজন সিং। যাকে নিয়ে ক্ষোধ কোচ রবি শাস্ত্রীরই দারুণ আশা। বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টকে সামনে রেখে আবারও স্পিনার হরভজন সিং টেস্ট দলে ফিরেছেন। ২০১৩ সালের মার্চের পর আবারও হরভজনকে টেস্ট দলে দেখা গেছে। এবার তার মাঠে নামারও পালা। টেস্ট দলে সুযোগ পেয়েই হরভজন সিং জানিয়েছিলেন, ‘একাদশে খেলার সুযোগ পেলেই নিজেকে প্রমাণ করার সর্বাত্মক চেষ্টা করব।’ সঙ্গে যোগ করেছিলেন, ‘যেহেতু সুযোগ পেয়েছি আবারও দলে স্থায়ী হওয়ার চেষ্টা করব।’

লম্বা সময় পর ভারতের টেস্ট দলে ফেরা হরভজন সিং সাফল্যের জন্য ক্ষুধার্ত থাকবেন বলে জানিয়েছেন রবি শাস্ত্রীও। শাস্ত্রি বলেন, ‘সে (হরভজন) এমন একজন বোলার, যার ভেতরে আগুন আছে। আসল কথা হলো, সে লম্বা সময় পর দলে ফিরেছে এবং আমি বিশ্বাস করি, নিজের ক্যারিয়ারের নতুন শুরুর জন্য সে ক্ষুধার্ত থাকবে। এটা (বাংলাদেশ সফর) তার জন্য চ্যালেঞ্জিং হবে। তার দলে ফেরাটা দেখা আনন্দের। আমি মনে করি, বোলিং লাইনআপে অশ্বিনের সঙ্গে তার খুবই ভাল সমন্বয় হবে। দুজনেই এখন অভিজ্ঞ বোলার।’

টেস্ট ও ওয়ানডে দলে থাকা রোহিত শর্মাত এ বাংলাদেশ সফর দিয়েই ভারতের নতুন শুরুও দেখছেন। কোহলি প্রথমবারের মতো টেস্ট দলের কোচ হয়ে কোন সফরে এসেছেন। তাই নতুন নেতৃত্বে ভারতের টেস্ট দলের নতুন যাত্রা শুরু হচ্ছে। আর ওয়ানডে দলও বিশ্বকাপের পর নিজেদের প্রমাণ করতে মরিয়া। বাংলাদেশ সফর দিয়েই তরুণ ভারতীয় দলের নতুন যাত্রা শুরু হবে বলে মনে করছেন রোহিত শর্মা। বাংলাদেশ সফরের আগে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে লম্বা একটি সাক্ষাতকারে এ কথা জানিয়েছেন সদ্য আইপিএল জয়ী মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স অধিনায়ক।

মহেন্দ্র সিং ধোনি টেস্ট ক্রিকেট ছাড়ার পর এই প্রথম সফরে আসছে ভারত। হরভজন সিংয়ের মতো সিনিয়র ক্রিকেটার দলে ফিরলেও দলে নেই তার সেই আগের প্রভাব, নিশ্চিত নয় একাদশে জায়গাও। বিরাট কোহলির নেতৃত্ব মূলত তরুণদের নিয়েই গড়া ভারতের দল।

বাংলাদেশ সফরকে তরুণ দলের নতুন শুরু ভাবছেন কি না, এই প্রশ্নে রোহিত বললেন, অবশ্যই। এটাই প্রথম যে, আমাদের দলে কোন সিনিয়র ক্রিকেটার নেই। এখান থেকে সামনে এগিয়ে যাওয়া আমাদের জন্য হবে দারুণ চ্যালেঞ্জ। আমাদের কেউ কেউ ৩০ টেস্ট খেলেছে, কেউবা ২০টি। অতীতকে পেছনে ফেলে সামনে তাকানো জরুরী আমাদের জন্য। গত দুটি সিরিজ আমাদের ভাল যায়নি। তবে আমরা সবাই ওসব থেকে অনেক শিখেছি।’

গত অস্ট্রেলিয়া সফরেই ভারতকে দুটি টেস্টে নেতৃত্ব দিয়েছেন বিরাট কোহলি। তবে ওই দুই টেস্টের প্রথমটি ছিল মহেন্দ্র সিং ধোনির চোটে; পরেরটি সিরিজের মাঝপথে ধোনি আচমকাই নেতৃত্ব ছেড়ে দেয়ায়। টেস্ট অধিনায়ক কোহলির প্রথম সফর তাই বলা যায় বাংলাদেশকেই। আগ্রাসী কোহলির নেতৃত্ব খেলতে মুখিয়ে আছেন রোহিতও। বলেছেন, ‘বিরাটের অভিষেক থেকে ওর সঙ্গে খেলছি। ক্যারিয়ারে একবারই ব্যাট হাতে ওর বাজে সময় এসেছে, সেটাও ইংল্যান্ডে। সেই সফরের পর ফিরেও এসেছে দারুণভাবে। ওর মতো ক্রিকেটার আমি আর দেখিনি। অল্প সময়ের মধ্যেই সে যা করেছে, সেটাই বলে দেয় এসব অর্জন করতে কতটা পরিশ্রম করেছে সে। অন্য ধরনের এক প্রাণশক্তির উৎস সে। ওর আগ্রাসন আমি পছন্দ করি। আমরা দেখেছি, অস্ট্রেলিয়ায় কোহলি কিভাবে নেতৃত্ব দিয়েছে। ভারতীয় ক্রিকেটকে সামনে এগিয়ে নেয়ার, আমাদের পথ দেখানোর দায়িত্ব এখন ওর। আমার বিশ্বাস বিরাট পারবে।’

ভারত ক্রিকেটারদের একটিই স্বপ্ন, যে করে হোক বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট জিততে চায়। ভারত টেস্টে অনেক শক্তিশালী দল। তাই বাংলাদেশের সেই স্বপ্ন না থাকলেও ভারতকে জিততে না দেয়ার স্বপ্ন ঠিকই বুনেছেন ক্রিকেটাররা। তাই তো সাকিব, মুশফিক, তামিমরা বলতেও পারছেন, ড্র’র জন্যই খেলতে নামা উচিত। সেই ড্র’র স্বপ্নের শুরু হচ্ছে আজ। টেস্টে না হয় ড্র’র স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। ওয়ানডে সিরিজ নিয়ে কি ভাবনা? প্রথম ভাবনাই হচ্ছে, সিরিজ জেতা। তা না পারলে মাশরাফির নেতৃত্বে অন্তত ভারতের বিপক্ষে একটি ওয়ানডে জয় চায় বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা। এখন দেখা যাক, শেষপর্যন্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন সফল হয় কি না। টেস্টে এখন পর্যন্ত ভারতকে ঠেকাতে পারেনি বাংলাদেশ। ওয়ানডে জয় মিললেও সিরিজ জয় হয়নি। এবার বিশ্বকাপের পর পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে যেভাবে দুর্দান্ত নৈপুণ্য উপহার দিয়েছে বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা, তাতে যে ভারতও বিপাকে পড়বে না, তা বলা যায় না। সেই বিপাকে পড়লেই টেস্টে ড্র আর ওয়ানডে সিরিজ জেতার স্বাদ পূরণ না হলেও অন্তত সিরিজে একটি ওয়ানডে জেতার স্বাদ মিটে যেতে পারে।

প্রকাশিত : ১০ জুন ২০১৫

১০/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: