কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

ইউরোপে পরিবেশবাদী দলগুলোর শক্তি বাড়ছে

প্রকাশিত : ১০ জুন ২০১৫

ইউরোপের উত্তরাঞ্চলে একটা ব্যাপার বেশ ভালভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তা হলো মডারেট সোশ্যাল ডেমোক্রেট পার্টিগুলোর রেখে যাওয়া র‌্যাডিকেল স্থানগুলো পরিবেশবাদী দলগুলো দখল করে নিচ্ছে। এই পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর নিজেদের দলেও পরিবর্তন ঘটে চলেছে। নেতৃত্বে পুরনো, বর্ষীয়ান ব্যক্তিবর্গের জায়গায় আসছে নতুন ও বয়সে নবীন লোকজন, যারা অধিকতর জোরালো আবেদন সৃষ্টি করতে পেরেছে।

হল্যান্ডের ডাচ গ্রিনসের কথাই ধরা যাক। ২০১২ সালের নির্বাচনে এই দলটির ভরাডুবি ঘটেছিল। দেড়শ’ আসনের পার্লামেন্টে তাদের ইতোপূর্বে আসন ছিল ১০টি। সে জায়গায় ঐ বছর তাদের আসন সংখ্যা নেমে আসে ৪-এ। এখন নেতৃত্বে পরিবর্তন ঘটার মধ্য দিয়ে তারা আবার ফিরে আসছে। দলটির আসন সংখ্যা এখন দাঁড়িয়েছে ১৩।

গ্রিন লেকটের এইভাবে ফিরে আসার পেছনে ডাচ লেবার পার্টির অবদান কম নয়। এই দলটি মধ্য দক্ষিণপন্থী লিবারেল পার্টির নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশনে যোগ দিয়েছিল। এই কোয়ালিশনের ব্যয় সংকোচ নীতিতে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়। এ অবস্থায় গ্রিন লেকটের ব্যয় সংকোচ বিরোধী কার্যক্রম জন্মলগ্নে সাড়া জাগায়। এর চূড়ান্ত প্রতিফলন ঘটে নির্বাচনে।

গোল্ডেন উত্তর ইউরোপজুড়ে অনেক পরিবেশবাদী সংগঠন একই রকম ভূমিকা পালন করছে। সোশ্যাল ডেমোক্রেটরা মধ্যপন্থী বনে যাওয়ায় তাদের ফেলে যাওয়া র‌্যাডিকেল শূন্যস্থান পূরণে এেিগয় এসেছে পরিবেশবাদীরা। এদিক দিয়ে জার্মানির অবস্থাও হল্যান্ডের মতো। জার্মানিতে মধ্য-বাম ও মধ্য-ডানদের কোয়ালিশন হয়েছে। এ অবস্থায় সোশ্যাল ডেমোক্রেটরা কি জন্য আছে, সে ব্যাপারে ভোটাররা নিশ্চিত হতে পারছে না। ফ্রান্সে সোশ্যালিস্টরা আগের প্রতশ্রুতি থেকে সরে এসে বাজেট সংকুচিত করায় পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো কোয়ালিশন সরকার থেকে বেরিয়ে এসেছে। ব্রিটেনে শ্রমিক দল তাদের বামপন্থী শিকড়ে আংশিকভাবে ফিরে যাওয়া সত্ত্বে ৭ মে’র নির্বাচনে হেরেছে। অন্যদিকে পরিবেশবাদীদের প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা চারগুণ বেড়েছে। অস্ট্রিয়ায় মধ্যপন্থী কোয়ালিশনের প্রতি জনগণের প্রতিক্রিয়া এমন হয়েছে যে, পরিবেশবাদীদের ভোট ১০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। তারা ২০১৩ সালের পার্লামেন্ট নির্বাচনে ১২ শতাংশ আসন জিতেছে। সুইডেনে পরিবেশবাদীরা প্রথমবারের মতো শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত। ১৯৮০-এর দশকে মতাদর্শের প্রান্তসীমায় থেকে পরিবেশবাদী দলগুলোর যাত্রা শুরু। আজ তারা যে পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে, তা নিঃসন্দেহে ঐতিহাসিক। তবে এর মধ্যে কিছু ঝুঁকিও আছে। কারণ কিছু কিছু পরিবেশবাদী দল বাস্তবতার গুরুত্ব উপলব্ধি করে বাজারের প্রয়োজনীয়তাকে মেনে নিয়েছে। এতে অবশ্য তাদের লাভ এক অর্থে হয়েছে এই যে, তারা মধ্য ও দক্ষিণপন্থী দলগুলোকে প্রভাবিত করতে পেরেছে। তবুও ঝুঁকি যা থাকার থেকে যাচ্ছে। পরিবেশকে যারা সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকে, এমন দলগুলোর জন্য দুর্বল অর্থনীতি ও চরম বেকারত্বও আরেক ঝুঁকির কারণ। অর্থনৈতিক ক্লেশের কারণে ভোটারদের সমর্থন পুরনো মধ্যপন্থী দলগুলো থেকে সরে ছোট ছোট আদর্শভিত্তিক দলের দিকে চলে গেছে। তবে দেখা গেছে এসব ক্ষেত্রে জয়ী বেশিরভাগ দল ইইউকে সন্দিগ্ধ চোখে দেখে এবং অভিবাসী বিরোধী। যেমন ব্রিটেনের ইন্ডিপেন্ডেন্স পার্টি (ইউকিপ) ও ফ্রান্সের ন্যাশনাল ফ্রন্ট। কিন্তু পরিবেশবাদী দলগুলো সর্বজনীনভাবে অভিবাসীপন্থী ও ইইউর সমর্থক।

ইউরোপজুড়ে পরিবেশবাদী দলগুলোর সমর্থকরা কতিপয় অভিন্ন বৈশিষ্ট্য ধারণ করে থাকে। যেমন তারা শিক্ষিত, শহুরে, কসমোপলিটান ও বয়সে তরুণ। নীল কার্টার নামে এক রাষ্ট্রবিরোধী এদের বাম উদারপন্থী বলে আখ্যায়িত করেছেন। র‌্যাডিকেল সোশ্যাল ডেমোক্রেটদের শূন্যস্থান পরিবেশবাদীরা দখল করে নিচ্ছে সত্য। তবে তাই বলে কোথায় কোন ইস্যুতে ভোটাবাদের টানতে হবে, সে ব্যাপারে এই দলগুলো এখনও দ্বিধাদ্বন্দ্ব তথা উভয় সঙ্কটে আছে। যতদিন এই দ্বিধাদ্বন্দ্ব না কাটছে, ততদিন তাদের সত্যিকারের বিকাশ রুদ্ধ হয়ে থাকবে।

চলমান ডেস্ক

সূত্রÑ দি ইকোনমিস্ট

প্রকাশিত : ১০ জুন ২০১৫

১০/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: