মূলত মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.৮ °C
 
২১ ফেব্রুয়ারী ২০১৭, ৯ ফাল্গুন ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

ইসরাইল ॥ আসছে একা হয়ে যাওয়ার দিন

প্রকাশিত : ১০ জুন ২০১৫
  • এনামুল হক

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু পুনর্নির্বাচিত হয়ে শপথ নেয়ার পাঁচদিন পর তার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক নির্দেশ জারি করে যে, ইসরাইল থেকে পশ্চিম তীরে যাওয়ার সময় ইসরাইলী ও ফিলিস্তিনীদের পৃথক পৃথক বাস ব্যবহার করতে হবে। নির্দেশটি জারি হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর তা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। কি ঘটেছিল ইতোমধ্যে যার ফলে নির্দেশ জারি হতে না হতেই তা বাতিল করতে হলো?

সেই উত্তরে যাওয়ার আগে প্রথমে বলে নিতে হয় যে, নির্দেশটা জারির কোন প্রয়োজনই ছিল না। খোদ ইসরাইলী নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরাই তা বলেছিলেন। এটা স্রেফ ইহুদী বসতিকারীদের চাপে জারি করতে হয়েছিল। তাতে ইসরাইলের বিরোধী রাজনীতিকরাই শুধু নন, শাসক লিকুদ পার্টির কিছু কিছু সদস্যও এমন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছিলেন। পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীকে নির্দেশ বাতিল করতে বলেন। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে নয়া সরকারের মনমানসিকতা ও মনগত অবস্থার ছাপ পাওয়া যায়। সেইসঙ্গে বোঝা যায় যে, বৃহত্তর বিশ্বের সঙ্গে ইসরাইলের সস্পর্ক উত্তরোত্তর জটিল ও তিক্ত রূপ ধারণ করবে।

সম্প্রতি এক সাক্ষাতকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা স্বীকার করেছেন যে, ‘ইসরাইল-ফিলিস্তিন সঙ্কট সমাধানে তার চেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। কিন্তু ইসরাইলের ও ফিলিস্তিনীদের নিজ নিজ অভ্যন্তরীণ নীতির কারণেই ব্যাপারটা কঠিন হয়ে পড়েছে।’ পুনরুল্লেখের প্রয়োজন পড়ে না যে, ওবামা এ ব্যাপারে তার ব্যর্থতা স্বীকার করেছেন। তা সত্ত্বেও তিনি ইউরোপীয় সরকারগুলোর ইসরাইলের ওপর কঠোরতর চাপ প্রয়োগের পরিকল্পনা নিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওঁলাদ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে দিয়ে এমন এক প্রস্তাব পাস করতে চান, যাতে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে আলোচনার একটা সুস্পষ্ট সময়সূচী বেঁধে দেয়া হয়। প্রেসিডেন্ট ওবামা অবশ্য পরমাণু প্রশ্নে ইরানের সঙ্গে চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ফ্রান্সকে এ ব্যাপারে না এগোতে বলেছেন। তাই বলে উদ্যোগটাকে বাদ দিতে নয়।

ইরান-মার্কিন চুক্তি হলে কংগ্রেসে এ নিয়ে রশি টানাটানি হবে। সেখানে ইসরাইলের অনেক সমর্থক চুক্তিটি বাতিল করাতে চাইবে। ওদিকে ফ্রান্স ফিলিস্তিন চুক্তির বিষয়ে আরব ও ইউরোপীয় দেশগুলোর সমর্থন সংগ্রহের চেষ্টা কমছে। ঐ চুক্তিতে অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে জেরুজালেমকে ইরাইল ও ফিলিস্তিন উভয়ের অভিন্ন রাজধানী হিসেবে গণ্য করার আহ্বান সম্ভবত জানান হবে। ইসরাইল যে সেটা মানবে না, তা অতি পরিষ্কার। নেতানিয়াহু তো ইতোমধ্যে সে সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন।

ইসরাইলী কূটনীতিকরা দুঃখ করে বলেছেন যে, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ইসরাইলের মর্যাদাগত অবস্থান নেমে এসেছে। এক কূটনীতিক তো অভিযোগের সুরে বলেছেন, ‘আগে ওরা আমাদের সঙ্গে কথা বলত। এখন ওরা আমাদের নিয়ে অন্যদের সঙ্গে কথা বলছে।’ যেমন ফ্রান্সে জাতিসংঘ প্রস্তাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও আরব লীগের সঙ্গে যে আলোচনা করেছে, ইসরাইল তা সরাসরি নয় বরং অন্যের মাধ্যমে জানতে পেরেছে। আগে নিরাপত্তা পরিষদে এ জাতীয় কোন প্রস্তাব উত্থাপিত হলেই যুক্তরাষ্ট্র তাতে ভেটো দিত। ইসরাইলী কূটনীতিকরা আশঙ্কা করছেন যে, ওবামা হয়ত এবার ভোটাভুটির সময় ভোটদানে বিরত থাকার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ওদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন নেতানিয়াহুর জন্য আরেক হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। ইউরোপে এমন অনুভূতি জোরদার হয়ে উঠছে যে, ভবিষ্যতে ইসরাইল যদি পশ্চিম তীরে ইহুদী বসতি নির্মাণের ঘোষণা দেয় তাহলে তার বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেয়া উচিত। ওদিকে ফিলিস্তিনীরাও বসে নেই। তারাও চাপ বাড়িয়ে তুলছে। গত ১ এপ্রিল ফিলিস্তিনীরা আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতে যোগ দেয়ায় ইসরাইলের বিরুদ্ধে কতিপয় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ উত্থাপিত হওয়ার পথ উন্মুক্ত হয়েছে। এভাবে ঘরে-বাইরে বিপদের সম্মুখীন হচ্ছে ইসরাইল। তার বন্ধুর সংখ্যাও সেই অনুপাতে কমে আসছে।

সূত্র : দি ইকোনোমিস্ট

প্রকাশিত : ১০ জুন ২০১৫

১০/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: