কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

‘সহিংসতা রোধে আওয়াজ তুলতে হবে নারীকেই’

প্রকাশিত : ৯ জুন ২০১৫, ০২:৫৬ পি. এম.

অনলাইন রিপোর্টার ॥ নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে নারীদেরই আওয়াজ তুলতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া স্টিফেন্স ব্লুম বার্নিকাট।

মঙ্গলবার সকালে ডেইলি স্টার মিলনায়তনে ‘যৌন হয়রানি, জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা ও গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এ মন্তব্য করেন তিনি।

বার্নিকাট বলেন, নারীর প্রতি হয়রানি বন্ধ করতে হলে নারীদেরই আওয়াজ তুলতে হবে। তার সঙ্গে যে অসৌজন্যমূলক ও অশোভন আচরণ করা হয় সে বিষয়ে নারীকেই প্রতিবাদ করতে হবে।

তিনি বলেন, শুধু বাংলাদেশে নয় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আমি কাজ করেছি। সব দেশেই নারীরা বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। শিক্ষাঙ্গন, কর্মক্ষেত্র, রাস্তাঘাট এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সব ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন তারা। এসব থেকে মুক্তি পেতে হলে নারীদেরকেই কথা বলতে হবে, প্রতিবাদ করতে হবে।

বার্নিকাট বলেন, ২০১৫ সালের একটি জরিপে দেখা গেছে, ৯৬ শতাংশ নারী রাস্তায় যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন খোদ যুক্তরাষ্ট্রে। তাদের অধিকাংশের বয়স ৪০ বছরের নিচে। অপর একটি জরিপে দেখা গেছে, ১০ বছর বয়সের ৮৬ শতাংশ কন্যাশিশুর আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দেয় যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার পর।

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি এলিন ও কনোর বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা কমিয়ে ‍আনতে হলে পুরুষদের মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে।

মূল প্রবন্ধে বলা হয়, গণমাধ্যম সবকিছুকেই সাধারণীকরণ করে। নারীরা শিক্ষাঙ্গন থেকে শুরু করে সব জায়গায় হয়রানির শিকার হন, এমনকি গণমাধ্যমেও বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হন।

শাইখ সিরাজের করা একটি পরিসংখ্যানের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, কৃষি ক্ষেত্রে বীজ বপন থেকে শুরু করে ফসল বিক্রি পর্যন্ত ২২টি ধাপ রয়েছে। এর মধ্যে ১৭টি ধাপে নারীরা সরাসরি জড়িত। অথচ এখানে নারীদের কথা উল্লেখ করাও হয় না। ৫০ শতাংশ মানুষকে বঞ্চিত করে কোনো উন্নয়ন সম্ভব নয়।

এছাড়া বৈঠকে যৌন হয়রানি ও জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতার বিষয়ে গণমাধ্যমের সমালোচনা করেন খোদ গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা।

তারা বলেন, প্রতিবেদন তৈরির সময় আমরা জিডিপি, অর্থনীতি বা যেকোনো ক্ষেত্রেই নারীকে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করি না। একইভাবে নারী নির্যাতনের সব চিত্রও গণমাধ্যমে উঠে আসে না। নারীদের বঞ্চিত করা বা হয়রানি করা করা কোনো বৈষম্য নয়, এটা এক ধরনের বর্বরতা।

গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য দেন ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম, বৈশাখী টেলিভিশনের প্রধান সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহী (সিইও) মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, বেসরকারি সংস্থা ‘নিজেরা করি’র সমন্বয়ক খুশি কবির, অধ্যাপক গীতি আরা নাসরীন প্রমুখ।

প্রোটেক্টিং হিউম্যান রাইটস প্রোগ্রাম ও উইমেন জার্নালিস্ট নেটওয়ার্কের আয়োজনে গোলটেবিল বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

প্রকাশিত : ৯ জুন ২০১৫, ০২:৫৬ পি. এম.

০৯/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: