কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে ॥ সংসদমুখর ছিল মোদির সফর নিয়ে

প্রকাশিত : ৯ জুন ২০১৫, ১২:৩৯ এ. এম.

সংসদ রিপোর্টার ॥ সংসদে সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনাতেও মোদি প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। একই সঙ্গে চরম ভারতবিদ্বেষী খালেদা জিয়ার নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য ধরনা দেয়ার সমালোচনাতেও মুখরিত ছিলেন।

আলোচনায় সংসদ সদস্যরা বলেন, নরেন্দ্র মোদির সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্কে নব বাতাবরণের সৃষ্টি হয়েছে। বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। পেয়েছে নতুন মাত্রা। এ সফরের মাধ্যমে দু’দেশের আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক সুদৃঢ় হওয়ার পাশাপাশি পারস্পরিক বোঝাপোড়ার মধ্য দিয়ে একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার পথ আরও মসৃণ হয়েছে। রাষ্ট্রনায়কোচিত পদক্ষেপ, দক্ষ কূটনৈতিক তৎপরতা ও প্রজ্ঞা দিয়ে আলোচনার মাধ্যমে যে কোন সমস্যার যে সমাধান করা যায়, তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারও জাতির সামনে প্রমাণ করেছেন। তাই পুরো দেশবাসী এখন ধ্বংসের শক্তিকে (বিএনপি-জামায়াত) পরাজিত কে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সৃষ্টির শক্তির পতাকাতলে শামিল হচ্ছে।

সোমবার জাতীয় সংসদে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট সম্পর্কে সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা এসব কথা বলেন। স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সম্পূরক বাজেট সম্পর্কে সাধারণ আলোচনায় অংশ নেন সরকারী দলের কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ, প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ডাঃ রুস্তম আলী ফরাজী, হাজী মোহাম্মদ সেলিম ও জাতীয় পার্টির শওকত চৌধুরী।

আলোচনায় অংশ নিয়ে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি-জামায়াত তিনটি মাস ধরে ভয়াল ধ্বংসযজ্ঞে নেমেছিল, নির্বিচারে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করেছে। অসাংবিধানিক দাবিতে এহেন সন্ত্রাসী কর্মকা- নেই যা তারা করেনি। এখন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে তিনি আকুলি-বিকুলি করে শেষ পর্যন্ত সফল হয়েছেন। তার (খালেদা জিয়া) অবস্থা হয়েছে Ñ বুঝলি না রে ফেলি, বুঝবি দিন গেলি’ প্রবাদের মতোই।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন-সফলতায় বিএনপি নেত্রী এখন দিশেহারা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের মাধ্যমে দু’দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। বঙ্গবন্ধু দেশের জনগণকে স্বাধীনতা দিয়েছেন, আর তার কন্যা শেখ হাসিনা ভারতের সঙ্গে স্থলসীমান্ত চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশকে পরিপূর্ণ মানচিত্র উপহার দিয়েছেন।

সাবেক পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর সম্পূরক বাজেট পাসের আগে ব্যয়গুলো সংসদীয় কমিটিতে আলোচনার মাধ্যমে অনুমোদন গ্রহণের প্রস্তাব দিতে বয়ে বলেন, অর্থসূচকে বাংলাদেশ আজ সবদিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে।

জাতীয় পার্টির শওকত চৌধুরী ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশংসা করে বলেন, আগামীতে বাংলাদেশ-ভারত একসঙ্গে চলবে বলে উনি ঘোষণা দিয়ে গেছেন। একই সঙ্গে তিস্তা চুক্তি সম্পাদনের ব্যাপারেও আশ্বাস দিয়ে গেছেন। দক্ষ কূটনীতি, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং সমঝোতার ভিত্তিতেই যে কোন সমস্যার সমাধান হয়, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফরের মাধ্যমে তা প্রমাণিত হয়েছে।

সাবেক চীফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ বলেন, যারা আন্দোলন-সংগ্রাম করে মানুষকে হেস্তনেস্ত করেছে, পুড়িয়ে হত্যা করেছেÑ তারা যে কোন উপায়ে ক্ষমতায় যেতে চায়। কিন্তু শেখ হাসিনার উন্নয়নকে চ্যালেঞ্জ করে তাদের ক্ষমতায় আসার কোন সুযোগ নেই। হরতাল-অবরোধ করে অর্থনৈতিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করেছে, তাদের মুখে প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে সমালোচনা মানায় না।

প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোটের তিন মাসের আন্দোলনের নামে ভয়াল সহিংসতা, নাশকতা ও ধ্বংসাত্মক কর্মকা- মোকাবেলা করতে না হতো তবে আমাদের প্রবৃদ্ধি ৭ ভাগের ওপরে হতো, দেশের অর্থনীতি আরও এগিয়ে যেত। তিনি বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও আমাদের প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য অভিন্নÑ তা হলো শুধুই দেশের উন্নয়ন।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ডাঃ রুস্তম আলী ফরাজী ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তব্যের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, দু’দেশের সম্পর্ক সুদৃঢ় হলেও ভারতের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্যে বৈষম্য কমাতে হবে।

হাজী মোহাম্মদ সেলিম বলেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় রয়েছেন বলেই জঙ্গীবাদ-সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করে দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে শামিল হয়েছে। মরা গাঙে আজ সর্বত্র উন্নয়নের জোয়ার এসেছে।

প্রকাশিত : ৯ জুন ২০১৫, ১২:৩৯ এ. এম.

০৯/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: