মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

অটিজমের মনোবৈজ্ঞানিক চিকিৎসা

প্রকাশিত : ৯ জুন ২০১৫

অটিস্টিক শিশুরা দেখতে সুন্দর ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ-স্বাভাবিক হয়ে থাকে। দেখে কিছুতেই মনে হবে না তার কোন সমস্যা আছে। একান্ত ব্যক্তিগত কোন কাজ এরা একা করতে না পারলেও, এদের কেউ কেউ বিশেষ কিছু দক্ষতা প্রদর্শন করে থাকে। যেমন গান করা, ছবি আঁকা, অঙ্ক করা ইত্যাদি যা তার ব্যক্তিজীবনে বা ভবিষ্যত গঠনে তেমন কোন কাজে আসে না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অটিজমের সঙ্গে বহুবিধ মানসিক প্রতিবন্ধিতা মিশ্র আকারে দেখা যায়। যেমনÑ লার্নিং ডিজএ্যাবিলিটি অর্থাৎ কোনকিছু শেখার অক্ষমতা, আচরণগত সমস্যা, এডিএইচডি, হাইপার এ্যাকটিভিটি, ফোবিয়া, নিওরোটিক প্রভৃতি তীব্র মানসিক রোগ অটিজমের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে।

অটিজমের লক্ষণসমূহ : ১. এদের নাম ধরে ডাকলে সাড়া দেয় না, চোখে চোখে ঠিকমতো তাকায় না। নিজস্ব জগতে নিজের মতো করে একা একা সময় কাটায়। ২. কারও সঙ্গেই মিশতে পারে না, একা খেলতে পছন্দ করে। নিজের হাত-পা, শরীর নিয়ে খেলে। ৩. বয়সানুযায়ী কথা বলার সমস্যা থাকে, চাহিদা প্রকাশে অন্যের হাত ধরে টেনে নিয়ে দেখায়। কোনকিছু আঙ্গুলে নির্দেশনা দিয়ে দেখাতে পারে না। ৪. প্রয়োজনীয় বিষয়ে মনোযোগ দেয় না, মনোযোগের তীব্র অভাব থাকে। কোন নির্দেশনা মেনে চলতে পারে না। ৫. সহ্য ও ধৈর্যশক্তির প্রচ- অভাব থাকে। পরিবেশে কোনরূপ পরিবর্তন এরা সহ্য করতে পারে না। অর্থহীন বিষয় ও জিনিসে তীব্র আসক্তি দেখা যায়। ৬. নিজের আবেগ-অনুভূতি সঠিকভাবে প্রকাশ করতে পারে না। অন্যকেও বুঝতে পারে না। ৭. পূর্বপ্রস্তুতি বা নির্দেশনা ছাড়া এদের দিয়ে কোন কাজ করানো বেশ কঠিন।

ভিন্নধর্মী শিশুদের নিয়ে বিড়ম্বণা : এসব শিশুর প্রধান সমস্যা হচ্ছে এরা সহজে কিছু শিখতে ও মনে রাখতে পারে না। যা কিছু শেখে তার বেশিরভাগ ভুলে যায়। বার বার বলে দিতে হয়। মা-বাবা শত চেষ্টা করেও তাকে তেমন কিছু শেখাতে ব্যর্থ হন। তাদের বিভিন্ন সমস্যা মাঝেমধ্যে পরিবর্তন হয়, নতুন নতুন সমস্যাও সৃষ্টি হয়। সমস্যাগুলো একেবারে সেরে যায় না, বার বার ঘুরেফিরে আসে।

মনোবৈজ্ঞানিক চিকিৎসা বা সাইকোথেরাপির ফলেÑ

এই থিওরিতে চিকিৎসার মাধ্যমে ধীরে ধীরে তার একটি একটি করে মানসিক রোগ ও বুদ্ধির সমস্যা কমে যেতে থাকে, রোগী তার নতুন অর্জিত যোগ্যতা অনুযায়ী ধীরে ধীরে কিছু কিছু কাজ শিখে নিতে পারে। প্রতিটি রোগীর ক্ষেত্রে কয়েক বছর ধরে নিয়মিতভাবে একাধারে গ্রুপ সেশন ও একক সেশন উভয় পদ্ধতির মিশ্রণ অধিক কার্যকর হয়ে থাকে। প্রত্যেকের জন্য মনোবৈজ্ঞানিক একাধিক থিওরি প্রয়োগ করতে হয়।

আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠে

শৈশব বা কিশোর বয়সের মধ্যে এই মনোবৈজ্ঞানিক চিকিৎসা শুরু করা হলে নিয়মিত চিকিৎসা শুরুর প্রথম ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে ধীরে ধীরে নিজের একান্ত ব্যক্তিগত কিছু কাজ কারও সাহায্য ছাড়া একা করতে শেখে। যেসব ব্যক্তিগত কাজ সে চিকিৎসার পূর্বে কারও সাহায্য ছাড়া একা একা করতে পারত না, তা সে কারও সাহায্য ছাড়া নিজেই সব করতে শেখে। ক) নিজে খাওয়া। খ) টয়লেট সম্পন্ন করা। গ) সব জামাকাপড় পরা। ঘ) গোসল সম্পন্ন করা। ঙ) নিজের যতœ নেয়া। চ) একান্ত ব্যক্তিগত আরও কিছু কাজ করা ইত্যাদি। এটি একটি ধারাবাহিক চিকিৎসাপদ্ধতি। কোন কারণে অনিয়মিত হলে, কিছুদিন চিকিৎসায় বিরতি দিলে বা মাঝখানে চিকিৎসা বন্ধ হলে রোগীর উন্নতি বাধাপ্রাপ্ত হয়। মস্তিষ্কের বিকাশের সম্ভাবনা কমে যায়। বেশ কয়েক বছর বিরতিহীনভাবে চিকিৎসা না করা পর্যন্ত রোগীর মানসিক ও বিকাশগত উন্নতির আশা করা যায় না।

চিকিৎসা সম্পন্ন হলে এদের পূর্ব প্রস্তুতি বা পূর্ব নির্দেশনা ছাড়া হঠাৎ করে নিয়মবহির্ভূত যে কোন কাজ সহজে করানো যায়। ধীরে ধীরে নির্দেশনা বা শেখানো ছাড়া নিজের ইচ্ছা ও চেষ্টায় সে নতুন কিছু আচরণ ও নতুন কাজ বুঝে শিখতে পারে। এছাড়া কিছু ঘরোয়া প্রয়োজনীয় কাজ স্বেচ্ছায় একা সঠিকভাবে শুরু করে শেষ করতে পারে। ধীরে ধীরে কয়েক বছর পর আত্মবিশ্বাসী ও আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠে। ফলে এরা আর পরনির্ভরশীল জীবনযাপন করে না।

মনোবিজ্ঞানী উম্মে কুলসুম কলি

মনস্তত্ত্ববিদ, গবেষক ও সাইকোথেরাপিস্ট

অরকিড সাইকোলজি রিসার্চ সেন্টার

ফোন : ০১৬২০৬১৯৬৮৬

প্রকাশিত : ৯ জুন ২০১৫

০৯/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: