কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

জাদুঘরে কবিতা গান নাটকে শেষ হলো নজরুল সম্মেলন

প্রকাশিত : ৯ জুন ২০১৫
জাদুঘরে কবিতা গান নাটকে  শেষ হলো নজরুল  সম্মেলন
  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিদ্রোহের বাণী, জাগরণের উদ্দীপনা ও তারুণ্যের দীপ্তিতে সমুজ্জ্বল নজরুলের সাহিত্যসম্ভার। বাংলা সাহিত্যে বুনে দিয়েছেন মানবিকতার বহুমাত্রিক ভাষ্য। এ কারণেই চিরকালীন কবির পরিচয়কে ধারণ করেছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম। সেই সূত্রে একবিংশ শতাব্দীতে তার লেখনী সমান

প্রাসঙ্গিক। জাতীয় কবিকে নিয়ে রাজধানীতে হয়ে গেল অনন্য এক আয়োজন। একুশ শতকে নজরুল প্রতিপাদ্যে শুক্রবার থেকে জাতীয় জাদুঘরে শুরু হয় জাতীয় নজরুল সম্মেলন। নজরুল ইনস্টিটিউট আয়োজিত সম্মেলনে নানা আয়োজনের মাঝে ছিল কবিকে নতুনভাবে জানার প্রচেষ্টা। জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত চারদিনের সম্মেলনের শেষদিন ছিল সোমবার। সমাপনী অধিবেশনেও ছিল নজরুলকে নতুনভাবে চেনা-জানার সেই প্রবহমানতা। বিকেলে পঠিত হয় ‘আইকনিক পোয়েট কাজী নজরুল ইসলাম’ শীর্ষক প্রবন্ধ । ছিল সেই বিষয়ের ওপর প্রাণবন্ত আলোচনা। সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। মিলনায়তনে ভেসে বেড়িয়েছে নজরুলের গানের সুর। উচ্চারিত হয়েছে তার অবিনাশী কবিতার শব্দগাঁথা। সেই সঙ্গে ছিল নাটকের প্রদর্শনী। এভাবেই গান-কবিতা ও নাটকের পরিবেশনায় শেষ হলো নজরুল সম্মেলন।

চতুর্থ দিনে অধিবেশনের সূচনা হয় নির্ধারিত প্রবন্ধ পাঠের মাধ্যমে। আর প্রবন্ধের ওপর আলোচনাপর্বটি ছিল একই সঙ্গে আকর্ষণীয় ও সমৃদ্ধ। মিলনায়তনভর্তি শ্রোতা তন্ময় হয়ে শুনেছেন নজরুলকে নিয়ে নতুন করে ভাবনার সেই কথা। আইকনিক পোয়েট কাজী নজরুল ইসলাম শীর্ষক প্রবন্ধটি পাঠ করেন নজরুল গবেষক র‌্যাচেল ফেল ম্যাকডারমট। নানা তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে নজরুলের গজল ও ইসলামী গানের ওপর বিষদ আলোচনা করেন এই মার্কিন নাগরিক। আর এ বিষয়ক আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক নিয়াজ জামান ও ড. নাশিদ কামাল। সভাপতিত্ব করেন ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান ও নজরুল গবেষক এমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম।

সভাপতির বক্তব্যে রফিকুল ইসলাম বলেন, নজরুলের চরিত্রের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল Ñতিনি সব সময় নিজস্ব গ-ি পেরিয়ে প্রতিবেশীর পরিবেশের ঐতিহ্যের অনুসন্ধান করেছেন। এই সমন্বয়টি তার সৃষ্টিতে রেখেছে বিশেষ ভূমিকা। নজরুলের সৃষ্ট গজলে ঘটেছে সেই সমন্বয়। মূলত গজল এক ধরনের ফারসি কবিতায় হলেও তা পড়া হয় সুর করে। আর এক সময় পর্যন্ত বাংলায় কোন গজল ছিল না। অনেকে লেখার চেষ্টা করলেও সফল হয়েছিলেন নজরুল। তার সামনে তখন মডেল হিসেবে ছিল উর্দু গজল। কিন্তু তিনি বাংলা গজলকে নিজের মতো করেই রূপ দিয়েছেন। চমৎকারভাবে ফারসি ও আরবী শব্দের প্রয়োগ করে সেটিকে করেছেন শ্রুতিমধুর ও অনবদ্য। এক্ষেত্রে ভাষা নিয়ে তার কোন গোঁড়ামি ছিল না। এক ভাষার শব্দকে অনায়াসে আরেক ভাষায় প্রতিস্থাপন করেছেন। যখন যে শব্দ প্রয়োজন সেটাই ব্যবহার করে ভাষাকে করেছেন সমৃদ্ধ। খেলা করেছেন শব্দ নিয়ে। সে কথাই প্রমাণ করে নজরুলের সৃষ্ট গজল ও শ্যামাসঙ্গীত। এভাবেই নতুন দিগন্তের রেখা টেনে বাংলা সাহিত্যের মোড় ঘুরিয়েছিলেন নজরুল।

আলোচনা শেষে শুরু হয় গান-কবিতা ও নাটকে সাজানো সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। সুরের পথ ধরে এ সূচনা হয় এ পর্বে। মঞ্চে আসেন নজরুল ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী শিল্পীরা। অনেক কণ্ঠ মিলে যায় এক সুরে। মাতৃভূমির বন্দনায় গীত হয় একি অপরূপ রূপে মা তোমায় হেরিনু পল্লী জননী/ফুলে ও ফসলে কাদা মাটি জলে/ঝলমল্্ করে করে লাবণী...। গান শেষে শুরু হয় নাটকের প্রদর্শনী। মঞ্চস্থ হয় নজরুলের সৃষ্ট জাগো সুন্দর চির কিশোর শীর্ষক নাটিকা। পরিবেশন করে থিয়েটার এ্যান্ড মিডিয়া ফাউন্ডেশন। প্রযোজনাটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন তাসনিয়া, রাজ্য, শরিফ, সূচনা, মন, দিহান ও ঐশ্বর্য জল প্রমুখ।

নাটক শেষে শুরু একক কণ্ঠের সঙ্গীত পরিবেশনা। শীলা রাণী দেবী গেয়ে শোনান বসন্ত মুখর আজি দখিনও সমীরণে। এছাড়াও সঙ্গীত পরিবেশন করেন শবনম মুশতারী, সুজিত মোস্তফা, খায়রুল আনাম শাকিল, ছন্দা চক্রবতী, শহীদুল ইসলাম খান, শ্রাবন্তী ধার, রাহাত আরা গীতিসহ ঢাকা ও ঢাকার বাইরের প্রায় ৪০ শিল্পী। দোলায়িত ছন্দে নজরুলের কবিতা থেকে আবৃত্তি করেন দুই বাচিকশিল্পী শাহাদাৎ হোসেন নিপু ও সীমা ইসলাম।

জয়নুল গ্যালারিতে মানবপাচারবিরোধী পোস্টার প্রদর্শনী ॥ একটি পোস্টারে দৃশ্যমান বিশালাকারের খোলা বাক্স। তার মধ্যে আঁটোসাঁটোভাবে দাঁড়িয়ে কিছু অসহায় মানুষ। আর তাদের মাথার ওপর থেকে নেমে আসছে কালো হাত। ছবিটির পাশে লেখাÑ এ কোন দাস প্রথা? আসুন, মানবপাচারের ভয়াল থাবা থেকে এদের বাঁচাই। পাশের আরেকটি পোস্টারে কয়েক অভুক্ত মানবের আহাজারি। সবার চোখেমুখে বেঁচে থাকার প্রবল আকুতি। কারো চোখ থেকে ঝরছে অশ্রু। আর অসহায় মুখগুলোর পেছনে ঝুলছে লোহার শিকল। গ্রাফিক ডিজাইনে নির্মিত এমন ৩৩টি পোস্টার ঝুলছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের জয়নুল গ্যালারিতে। এখানে সপ্তাহব্যাপী মানবপাচারবিরোধী পোস্টার প্রদর্শনী চলছে। লেট আর্টিস্ট’স ব্রাশ স্পিক এগেইনস্ট হিউম্যান সেøাগানে সোমবার থেকে শুরু হলো এই প্রদর্শনী। চারুকলা অনুষদের গ্রাফিক ডিজাইন বিভাগের সহযোগিতায় প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বেসরকারী সংস্থা রিলিফ ইন্টারন্যাশনাল (আরআই)।

সোমবার সকালে প্রধান অতিথি হিসেবে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন আমেরিকান কালচারাল সেন্টারের কর্মকর্তা জর্জ মেনথোস।

চারুকলা অনুষদের গ্রাফিক ডিজাইন বিভাগের ৩৩ নবীন শিল্পীর কাজ তুলে ধরা হয়েছে এই প্রদর্শনীতে। এর আগে মানবপাচারের ওপর এই শিল্প শিক্ষার্থীদের দিয়ে একটি কর্মশালা পরিচালনা করা হয়। সেই কর্মশালার অংশ হিসেবে এই প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নবীন শিল্পীদের কাজের মাধ্যমে উঠে এসেছে মানবপাচারের নানা ধরনের বিভীষিকাময় কর্মকা-।

সপ্তাহব্যাপী এ প্রদর্শনী শেষ হবে ১৪ জুন। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

প্রকাশিত : ৯ জুন ২০১৫

০৯/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: