কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

গ্রীন ফ্যামিলি

প্রকাশিত : ৮ জুন ২০১৫
  • মোঃ আবু হাসান তালুকদার

কথায় বলে, যার সুখ নাই ঘরে তার সুখ নাই অন্য কোথাও। কথাটি মূলত স্বামী-স্ত্রী বা পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে সম্পর্কের ভিত্তিতে বলা হয়। কিন্তু পরিবারের সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক এবং ভালবাসা থাকা সত্ত্বেও মাঝে মাঝে সুখ যেন অপূর্ণ মনে হয়। নিজের অজান্তেই মনে হয় ‘ভাল্লাগে না।’ আর এটা মনে হলেই নিজেই নিজেকে ধিক্কার দিয়ে বলেন, ‘সুখে খেতে ভূতে কিলায়।’ আসলে পরিবারে সুখ থাকলেও অনেক সময় তা পরিপূর্ণতা পায় না। কারণ আপনার ঘর তো হাসছে না। পাগল নাকি, ঘর আবার হাসে? জ্বি, ঘরও হাসে। ঘরের হাসি ফুটলেই আপনার সুখ পরিপূর্ণ হয়। কি ভাবে?

বর্তমানে আপনার সামর্থ্য আছে, নতুন একটা আধুনিক ডিজাইনের আসবাবপত্র কিনবেন। সমস্যা হলো রাখবেন কোথায়? পুরাতন আসবাবপত্র তো আছে। কিন্তু আজকাল তা না চললেও ফেলে দিতে কেমন জানি মায়া লাগছে। কারণ সংসারের প্রথম জীবনে কেনা বা আত্মীয় স্বজন বিয়ের সময় উপহার দিয়েছিল, সেই স্মৃতি জড়িত। অজ্ঞতা পুরাতন আসবাবপত্রের সঙ্গে নতুন আসবাবপত্র কিনে ঘরে গাদাগাদি করে রাখলেন। আর ঘর হয়ে গেল আসবাবপত্রের গুদাম। সুতরাং আজকেই পুরাতন জিনিসের মায়া ত্যাগ করে প্রয়োজনের নিরিখে অপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্র সরিয়ে ফেলুন বা বিক্রয় করে ফেলুন।

আসবাবপত্রগুলো এমন স্থানে রাখুন যাতে ঘরে আলো বাতাস আসার পথ বন্ধ না হয়।

জানালা খুলে প্রাকৃতিক আলো বাতাস আসার সুযোগ দিন। মনে রাখবেন প্রাকৃতিক আলো-বাতাস পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ।

আসবাবপত্র, টেবিল চেয়ার এমনভাবে সাজান যাতে তা দৃষ্টিনন্দন হয়।

ড্রেসিংরুমে আর্টিফিসিয়াল ফুল বা শোপিসের পরিবর্তে প্রাকৃতিক গাছের টব রাখুন। কম আলোতে বা ঘরের আলোতে বেঁচে থাকে এমন গাছ লাগান। এক্ষেত্রে মানি প্ল্যান্ট সবচেয়ে ভাল। এ গাছটি অল্প মাটি এমনকি ফুলদানিতে পানি দিয়ে রাখলেও বেঁচে থাকে। বারান্দা বা বেলকোনিতেও এভাবে বিভিন্ন গাছের টব রাখুন। এখন দেখুন ঘরটি কেমন প্রাকৃতিক হয়েছে। আর গাছগুলো আপনার অজান্তেই বিশুদ্ধ অক্সিজেন দিয়ে যাচ্ছে।

দরজা-জানালা, আসবাবপত্রসহ ঘরের মেঝে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন ও ব্যবহার্য জিনিসপত্র সর্বদাই গুছিয়ে রাখুন।

বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে পরিবেশ আজ হুমকির সম্মুখীন। মূলত মানুষের সৃষ্ট কারণে আজ পরিবেশ বিপর্যস্ত। কল-কারখানার নিঃসৃত বর্জ্য ও বিষাক্ত গ্যাস, গাড়িতে পেট্রোল-ডিজেল পোড়ানো, জমিতে কীটনাশক ব্যবহার, দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিস হতে সৃষ্ট তাপ, গ্যাস, বর্জ্য ইত্যাদি কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় বেড়ে যাচ্ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় রোধে দূষণমুক্ত পৃথিবী গড়ার লক্ষ্যে সোচ্চার হচ্ছে সারা বিশ্ব। এর প্রেক্ষিতে গ্রিন হাউস বা গ্রিন হাউস ইফেক্ট- এই শব্দগুলোর সঙ্গে আমরা সকলেই কমবেশি পরিচিত।

সাম্প্রতিককালে ব্যাংকগুলোতেও শুরু হয়েছে গ্রিন ব্যাংকিং কার্যক্রম। পরিবেশ রক্ষায় সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই তারা এই কার্যক্রম শুরু করেছে। এটা এক ধরনের এথিক্যাল ব্যাংকিং। এই কার্যক্রমের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে যেসব শিল্প কারখানা পরিবেশ বিপর্যয় করেছে সে খাতে তারা অর্থায়ন নিরুৎসাহিত করবে। আর পরিবেশ বিপর্যয় রোধে যে সকল শিল্প কারখানা কার্যকরী ভূমিকা রাখবে তাদের অর্থায়নেই বেশি প্রাধান্য দেবে। অর্থাৎ পরিবেশ বিপর্যয় রোধে সবাই সচেতন হচ্ছে।

সমাজ বা পরিবেশের ক্ষুদ্রতম এলিমেন্ট হচ্ছে এক একটি পরিবার। সুতরাং পরিবারকেও এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। আমরা অনেক সময় বিনা কারণেই গ্যাসের চুলা জ্বালিয়ে রাখি। কয়েক পয়সা মূল্যের একটা দিয়াশলাইয়ের খরচ বাঁচানোর জন্য এই কাজটা করি অথবা গ্যাসের মূল্য বিবেচনা না করে করি। মনে রাখতে হবে এই গ্যাসের ভা-ার এক সময় শেষ হয়ে যাবে কিন্তু দিয়াশলাই সব সময়ই উৎপাদন করা যাবে বা এর বিকল্প আছে। সুতরাং কাজ শেষ হওয়া মাত্রই গ্যাসের চুলা বন্ধ রাখুন।

ট্যাপের পানি পড়ছে তো পড়ছেই, কারও খেয়াল নেই। এই ট্যাপের পানি কিন্তু ভূগর্ভস্থ পানি। প্রতিদিন ব্যবহার করার ফলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমান্বয়ে নিচে নেমে যাচ্ছে। এভাবে ব্যবহারের ফলে পানি ও গ্যাস যখন নিঃশেষ হয়ে যাবে তখন মাটির নিচে ভ্যাকুয়ম বা শূন্য হয়ে যাবে। এই শূন্যস্থান পূরণের জন্য ভূমিধস হতে পারে। এটাও কিন্তু ভূমিকম্প হওয়ার একটি কারণ। ট্যাপে অযথা পানি ঝরছে কিনা খেয়াল করে বন্ধ করুন।

ঘরে লোকজন কেউ নেই অথচ বৈদ্যুতিক বাতি জ্বলছে, ফ্যান চলছে। চিন্তা করে দেখুন বিনা কারণে যদি প্রতিদিন ৬০ ওয়াটের এক কোটি বাল্ব এক ঘণ্টা জ্বলে তা হলে কি পরিমাণ তাপ পরিবেশকে উত্তপ্ত করছে। বিদ্যুত শক্তির অপচয় তো হচ্ছেই। ঘরে লোকজন না থাকলে লাইট ও ফ্যান বন্ধ রাখুন।

এসির ব্যবহার সীমিত করুন।

বৃষ্টির পানি ধরে রেখে ব্যবহার করার অভ্যাস করুন। ব্যবহৃত পানি পুনর্ব্যবহার করুন। যেমনÑ কাপড় ধোয়ার পানি, হাত মুখ ধোয়া বা অযুর সময় ঝরে যাওয়া পানি বালতিতে ধরে রেখে টয়লেটে ঢালুন।

এভাবে একটু সচেতন হলেই আমাদের ঘরটি যেমন সুন্দর হবে তেমনি পরিবেশ বিপর্যয় রোধে আপনার পরিবার কিছুটা হলেও ভূমিকা রাখতে পারবে। শুধু বিষাক্ত গ্যাস, বর্জ্য নিঃসরণ রোধ নয়, আমাদের অফুরন্ত প্রাকৃতিক সম্পদ যেমনÑ সূর্যরশ্মি, বাতাস ইত্যাদির পর্যাপ্ত ব্যবহার করতে হবে এবং সীমিত প্রাকৃতিক সম্পদ যেমনÑ তেল, গ্যাস, ভূগর্ভস্থ পানি ইত্যাদির অপ্রয়াজনীয় ব্যবহার রোধ করতে হবে। গত ৫ জুন ছিল বিশ্ব পরিবেশ দিবস। এই দিবসের সেøাগান ছিল, ‘পরিবেশ দিবসের শপথ আজ, পরিবেশ রক্ষায় করবো কাজ।’ এই সেøাগানের সঙ্গে আমাদের প্রতিটি পরিবারকে ঐক্যমত্য পোষণ করে কাজ করতে হবে। আগামী প্রজন্মের জন্য এই পৃথিবীকে করতে হবে দূষণমুক্ত, নির্মল। আগামী প্রজন্ম কিন্তু আমার-আপনার ভালবাসার সন্তান।

প্রকাশিত : ৮ জুন ২০১৫

০৮/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: