কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

পারিবারিক বাজেট নাসিফ শুভ

প্রকাশিত : ৮ জুন ২০১৫

রাজধানীর নাম করা এক বেসরকারী স্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্রী মালিহা। সে ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় অধ্যয়নরত। এমনিতে খুব একটা টেলিভিশনের সামনে বসা হয় না মালিহার। তবে বিভিন্ন টেলিভিশনে ব্যবসা এবং শেয়ারবাজার সম্পর্কিত অনুষ্ঠান প্রচারিত হলে আগ্রহের কমতি থাকে না মালিহার। কারণ সে এটা বিশ্বাস করে যে, দেশের অর্থনীতির চাকা সচল থাকলে সেদিন আর বেশি দূরে নয় যখন বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যান্য ক্ষমতাধর দেশের নেতৃত্ব প্রদান করবে। সে স্বপ্ন দেখে একদিন তাদের মতো তরুণ উদ্যোগক্তাদের হাত ধরেই দেশের পরিবর্তন আসবে।

গত ৪ জুন সকাল থেকেই খুব বিচলিত ছিল মালিহা। কেননা ঐদিন যে অর্থমন্ত্রী কর্তৃক ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরের বাজেট ঘোষিত হয়েছিল। যেহেতু মালিহা ব্যবসায় শিক্ষার একজন ছাত্রী সেহেতু তার এই বাজেট ঘোষণার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু ছিল অনেক। তাই টেলিভিশনে প্রচারিত বাজেট ঘোষণার প্রতিটি লাইন সে গভীর মনোযোগ সহকারে শুনছে এবং নিজেই মনে মনে তার ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিকগুলো বিশ্লেষণ করছে। বাজেট ঘোষণার একপর্যায়ে সে অট্টহাসি দিয়ে নেচে-গেয়ে সারা বাড়ি এক করে ফেলল। মেয়ের এই কা- দেখে বাবা-মা দু’জনে অবাক হয়ে গেলেন। পাশের ঘর থেকে তারা দু’জনে দৌড়ে এলেন। মালিহার বাবা রফিক সাহেবের হাতে তখনো জ্বলন্ত সিগারেট থেকে ধোঁয়া বেরোচ্ছিল। তখন বাবার সিগারেটের দিকে তাকিয়ে মিটি মিটি হেসে মালিহা বলতে লাগল, ‘বাবা সিগারেট পান করছো? কর কর! নতুন বাজেটের ঘোষণা এসেছে। তামাক দ্রব্যের ওপর অতিরিক্ত কর বসিয়েছে আমাদের অর্থমন্ত্রী। এখন থেকে তোমার এই দশ টাকার সিগারেটের দাম হবে পনেরো টাকা’। এই কথা বলেই আবারও অট্টহাসিতে ফেটে পড়ল মালিহা। কিছুটা হতাশ হয়ে রফিক সাহেব নাকের ডগায় থাকা চশমাটিকে আঙুল দিয়ে উপড়ে ঠেলতে ঠেলতে বললেন, ‘দেখ আর কিসের কিসের দাম বাড়ে, আর কিসের দাম কমে’!

বাজেট প্রণয়ন হচ্ছে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার এক অন্যতম মূল চালিকা শক্তি। এবারের বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ২ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। আর এর আঁচ পড়ে পরিবারেও। বাজেট প্রণয়নের পরপরই ঘরের অর্থমন্ত্রী অর্থাৎ গিন্নিও তাঁর সংসারের একটি বাজেট তৈরি করে ফেলেন। বাজেট মানেই কোন জিনিসের মূল্যবৃদ্ধি অথবা মূল্যহ্রাস। এ সমস্ত বিষয়গুলোর ওপর ভিত্তি করেই পরিবারের সকলকেই কিছু না কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হয়। এভাবেই মূলত পারিবারিক মিলবন্ধন তৈরি হয়। পারিবারিক বাজেটের ক্ষেত্রে রয়েছে কিছু পরামর্শ। এ নিয়ে আলোচনা করা হলোÑ

*** এবারের বাজেটে চিনির দাম বাড়বে। আর সামনে যেহেতু পবিত্র রমজান মাস আসছে, সেক্ষেত্রে চিনির দাম যে আরও আকাশচুম্বী হবে, সে ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। তাছাড়া চিনি মানবদেহের জন্য খুব একটা ভাল তা কিন্তু নয়। তাই যথাসম্ভব চিনি এড়িয়ে চলাই ভাল। যেহেতু আমদানিকৃত ফ্যাট ফ্রি সুগারের দাম কমবে সেহেতু চিনির বিকল্প হিসেবে এই ফ্যাট ফ্রি সুগার ব্যবহার করা যেতে পারে।

*** ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে দাম বাড়বে সিম-রিম কার্ডের। আমদানিকৃত সিম-রিম কার্ডগুলোর শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে পণ্যটির দাম বৃদ্ধি পাবে। যার ফলে মোবাইল ফোন অপারেটর কোম্পনিগুলো কলরেট বাড়িয়ে দেবে। এক্ষেত্রে পরিবারের সকলকেই মোবাইল ফোন ব্যবহারের ব্যাপারে অধিক সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। যাতে দেশের অর্থ বাহিরে পাচার হতে না পারে।

*** বাজেটে দাম কমবে এবার পেঁয়াজের। সকল প্রকার রান্নার জন্য পেঁয়াজ একটি অন্যতম উপাদান। যেহেতু পবিত্র রমজান মাস আসতে খুব বেশি দেরি নেই, সেহেতু পরিবারের সকলকেই এর পরিপূর্ণ ব্যবহারের নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে। এবন এক্ষেত্রে কেবল বিদেশ থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজের ওপর নির্ভরশীল হলে চলবে না। দেশেও এর যথাযথ চাষের ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলেই পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল থাকবে।

*** প্রতিবছরের ন্যায় এবারও তামাক জাতীয় দ্রব্যের ওপর কর বৃদ্ধি করা হয়েছে। একদিকে তামাক জাতীয় দ্রব্য যেমন অর্থের অপচয় করে, ঠিক তেমনি এটি স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এতে পরিবারের বাজেটে ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তাই পরিবারের বাজেটের স্বার্থে এ ধরনের বদভ্যাস থেকে সরে আসা উচিত।

*** পরিবারে অনেক সময় দেখা যায় শিশুরা বিদেশী খেলনার প্রতি বেশি ঝুঁকে। কিন্তু এবারের বাজেটে দেশীয় খেলনা তৈরির যন্ত্রপাতির দাম কমানোয় দেশীয় খেলনার দাম কমে যাবে। একদিকে শিশুটি যেমন খেলার জন্য খেলনা পাবে, তেমনি পরিবারের এই ক্ষুদ্র প্রয়াসে দেশের প্রবৃদ্ধিও বাড়বে।

*** পরিবারের অনেকেরই ব্র্যান্ডের পোশাকের প্রতি আগ্রহ থাকে। যদিও এবারের বাজেটে আমদানিকৃত তৈরি পোশাক থেকে ৬০% থেকে নামিয়ে শুল্ক ৪০%-এ আনা হয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও আমাদের দেশের গার্মেন্টসের তৈরি করা কাপড়ের থেকে এগুলো অনেক চড়া দামের হয়। আমরা যদি আমাদের পরিবারের সদস্যদের দেশীয় পোষাকের প্রতি উদ্বুদ্ধ করতে পারি তাহলে আমদের দেশের প্রবৃদ্ধির হার বাড়বে এবং দেশের টাকা দেশেই থাকবে।

প্রকাশিত : ৮ জুন ২০১৫

০৮/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: