মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

সরকারী হাসপাতালে দালাল প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা ॥ পরিপত্র জারি

প্রকাশিত : ৮ জুন ২০১৫

নিখিল মানখিন ॥ সরকারী হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে দালাল প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। জারি করেছে পরিপত্র। কঠোর হস্তে দালাল প্রতিরোধ করতে হাসপাতালের পরিচালকদের নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। এ বিষয়ে জারিকৃত পরিপত্রে বলা হয়েছে, দেশের কোন কোন সরকারী স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানে দালালচক্রের অপতৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফলে অসহায় দরিদ্র রোগীর সরকারী স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে হয়রানির শিকার হওয়ার ঘটনাও ঘটছে। সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেছে এবং এ ধরনের দালালচক্রের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। দালালচক্রের তৎপরতা পরিলক্ষিত হলে প্রতিষ্ঠান প্রধান দায়বদ্ধ থাকবেন। পরিপত্রের নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে।

বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-৪ (মনিটরিং ও সমন্বয়) অধিশাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে। পরিপত্রে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য প্রাপ্তি জনগণের অধিকার। সকল স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে সিটিজেন চার্টার দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শন করতে হবে। প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদত্ত সেবা, সরবরাহকৃত ওষুধ এবং রোগ নির্ণায়ক পরীক্ষাসহ সেবার মূল্য সংক্রান্ত তথ্যাদি রোগীর সুবিধার্থে সুবিধাজনক স্থানে প্রদর্শন করতে হবে। স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে ডাক্তারসহ সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বাধ্যতামূলকভাবে নির্ধারিত ইউনিফর্ম পরিধান করতে হবে। তাদের পরিচয়পত্র প্রদান এবং দৃশ্যমানভাবে ব্যবহারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। হাসপাতালসহ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে বহির্বিভাগ ও জরুরী বিভাগে ওয়ার্ডবয়/বুয়াসহ তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের দায়িত্ব আকস্মিক ও নিয়মিতভাবে পুনর্বণ্টন করতে হবে। একই দায়িত্বে দীর্ঘকাল কোন কর্মচারী অবস্থান করে যেন কোন অসাধুচক্রের অংশে পরিণত না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। দালালচক্রের সঙ্গে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যোগসাজশের তথ্যাদি প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, তত্ত্বাবধানকারী কর্মকর্তাদের দৃশ্যমানভাবে তার প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত মনিটর এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাধ্যমে দালাল প্রতিরোধে নিজস্ব কর্মপন্থা ও কৌশল প্রণয়ন করবেন। প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। রোগীদের হাসপাতালের নির্ধারিত কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়া বহিরাগত/দালালের সঙ্গে যোগাযোগ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে সব সময় পরামর্শ সেবা প্রদান করতে হবে। প্রয়োজনে মাঝে মধ্যে এ বিষয়ে মাইকিং করা যেতে পারে। রোগী ও সেবা প্রত্যাশী নাগরিকদের সঙ্গে বহিরাগত ব্যক্তির যোগাযোগে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করে লিখিত নির্দেশনা প্রতিষ্ঠানের দৃশ্যমান স্থানে অনেকগুলো জায়গায় স্থাপন করতে হবে। এছাড়া জনগণের মনোযোগ আকর্ষণের জন্য সরকারী স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে বিনা রশিদে অর্থের কোন লেনদেন করা যাবে না মর্মে নির্দেশনাও বিভিন্ন জায়গায় প্রদর্শন করতে হবে। সেবা গ্রহণে অভিযোগের ক্ষেত্রে এসএমএস করার বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন জায়গায় দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শন করতে হবে। হাসপাতালসমূহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় দালাল প্রতিরোধে নাগরিকদের উদ্বুদ্ধকরণসহ সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ অব্যাহত রাখতে হবে। আর হাসপাতাল, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের তত্ত্বাবধায়ক/ব্যবস্থাপক কর্মকর্তারা তাঁদের আওতাধীন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে দালাল প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন বলে পরিপত্রে বলা হয়েছে।

গত বুধবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম আকস্মিক ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল পরিদর্শনে এসে কর্তব্যরত ডাক্তারদের ইউনিফর্ম পরিধান না করতে দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। হাসপাতালে এসে সাধারণ রোগীরা যেন দালালচক্রের সদস্যের খপ্পরে পড়ে হয়রানির শিকার না হয় সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়ে পরিপত্রটি জারি করান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জনকণ্ঠকে জানান, সম্প্রতি হাসপাতালগুলোতে অসাধু দালালচক্রের অপতৎপরতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজধানীসহ সারাদেশে সরকারীভাবে ন্যূনতম খরচে চিকিৎসার সুযোগ রয়েছে। রক্ত পরীক্ষা থেকে শুরু করে বিভিন্ন জটিল রোগব্যাধি সঠিকভাবে নির্ণয়ের জন্য এমআরআই, সিটিস্ক্যান, আলট্রাসনোগ্রাম, এক্সরেসহ আধুনিক যন্ত্রপাতি রয়েছে। কিন্তু সাধারণ রোগীরা এর সুফল পাচ্ছেন না। সরকার সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়ার আন্তরিক প্রচেষ্টা চালালেও দালালচক্রের অপতৎপরতার কারণে তা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান তারা।

অপরদিকে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল অব বাংলাদেশ (টিআইবি) তাদের বিভিন্ন প্রতিবেদনে হাসপাতালে এসে দালালচক্রের খপ্পরে পড়ে সাধারণ মানুষ চরম হয়রানির শিকার হচ্ছে বলে উল্লেখ করেছে। দালালচক্রের কেউ কেউ সুযোগ বুঝে ডাক্তার, কর্মকর্তা ও কর্মচারী পরিচয় দিয়ে অপকর্ম করছেন। ইউনিফর্ম পরিধান না করায় সাধারণ মানুষ কারও পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারছেন না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের (এমআইএস) সর্বশেষ প্রকাশিত হেলথ বুলেটিন-২০১৪ এর তথ্যানুসারে বর্তমানে অধিদফতরের অধীনে মোট হাসপাতালের সংখ্যা ৫৯২টি। এগুলোর মধ্যে সেকেন্ডারি ও টারশেয়ারি পর্যায়ে ১২৫টি, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ৪৬৭টি হাসপাতাল রয়েছে। হাসপাতালে বেডের সংখ্যা ৪৮ হাজার ৮৩৩টি। স্বাস্থ্য বুলেটিনের তথ্যানুসারে ২০১৩ সালে এসব হাসপাতালের বহির্বিভাগে ১৪ কোটি ৯২ লাখ ৬৮ হাজার ৪২৯ রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ভর্তি হয়েছে ৪৫ লাখ ১২ হাজার ৭৩৭ রোগী। এছাড়া চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ৭৯ হাজার ৯৬৯ জন।

অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের একশ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর মদদে প্রায় প্রতিটি হাসপাতালে সংঘবদ্ধ দালালচক্র শক্ত ঘাঁটি গড়ে তুলেছে। তারা রোগীদের বিভিন্নভাবে প্রলোভিত করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেয়। কেউ কেউ রোগী ভাগিয়ে প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নিয়ে যায়।

প্রকাশিত : ৮ জুন ২০১৫

০৮/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: