কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

শান্তি উদ্যোগে ইউক্রেনকে চাপ দিন

প্রকাশিত : ৮ জুন ২০১৫

প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির ভি. পুতিন শান্তি উদ্যোগে সম্মত করতে ইউক্রেনীয় সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগের জন্য শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে দোনেৎস্ক ও লুজানস্কে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের শান্তি উদ্যোগে প্রভাবিত করার জন্য রাশিয়া সম্ভাব্য সবকিছু করবে, কিন্তু কিয়েভে কোন প্রভাব বিস্তার করবে না। খবর নিউইয়র্ক টাইমস অনলাইনের।

পুতিন নির্ধারিত ইতালি সফরে যাওয়ার আগে ইতালীয় সংবাদপত্র করিয়ার ডেলা সেরায় এক সাক্ষাতকারে যুদ্ধবিরতি চুক্তির রাজনৈতিক বিষয়গুলো কার্যকরে ব্যর্থতার জন্য প্রেসিডেন্ট পেত্রো ও. পোরোশেঙ্কোর সরকারকে দায়ী করেন। চুক্তিটি ফেব্রুয়ারিতে বেলারুশের রাজধানী মিনস্কে স্বাক্ষরিত হয়।

দোনেৎস্ক ও লুজানস্কে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের স্বঘোষিত প্রজাতন্ত্রের কর্তৃপক্ষের ওপর রাশিয়ার কোন নিয়ন্ত্রণ নেই বলে পুতিন যে উক্তি করেছেন তা পোরোশেঙ্কো ও যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি এবং ফ্রান্সসহ পাশ্চাত্যে তার মিত্রদেশগুলোর অভিযোগ পরিপন্থী। কারণ, তাদের জোরালো অভিযোগ। বিচ্ছিন্নতাবাদীরা বালিয়ার অর্থায়নে এবং পরিচালনায় লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। একটি দীর্ঘ মেয়াদী শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থতার নৈরাশ্য অব্যাহত থাকায় ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে গত সপ্তাহে লড়াই সংঘটিত হয়েছে। সংবাদপত্রের সাক্ষাতকারে পুতিন বলেন, তিনি শান্তি চুক্তির প্রতি প্রতিশ্রুতিশীল রয়েছেন। পুতিন বলেন, মিনস্কে দ্বিতীয় মিনস্ক নামে যে চুক্তির প্রতি সম্মতি প্রকাশ করেছিলাম তা একটি সর্বোৎকৃষ্ট চুক্তি এবং সম্ভবত এ সমস্যার একমাত্র দ্ব্যর্থহীন সমাধান। আমরা চুক্তিটিকে যথার্থ, সঠিক ও যুক্তিসম্মত হিসেবে বিবেচনা না করলে তাতে আমরা সম্মত হতাম না। তিনি বলেন, অস্বীকৃত, স্বঘোষিত দোনেৎস্ক ও লুজানস্ক প্রজাতন্ত্রের কর্তৃপক্ষকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে আমাদের দিক থেকে আমরা প্রতিটি উদ্যোগ গ্রহণ করব এবং সে চেষ্টা অব্যাহত রাখব। কিন্তু সবকিছুই আমাদের ওপর নির্ভর করেন। আমাদের ইউরোপীয় ও মার্কিন অংশীদারদের এ ব্যাপারে বর্তমান কিয়েভ প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তার করা উচিত। মিনস্ক চুক্তির শর্তসমূহ পালনে কিয়েভকে সম্মত করার জন্য ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের যে ক্ষমতা রয়েছে আমাদের তা নেই।

পোরোশেঙ্কো শুক্রবার বলেছেন, রুশপন্থী যোদ্ধা ও তাদের অস্ত্র প্রত্যাহার এবং রুশসংলগ্ন সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ ইউক্রেনের কাছে ফিরিয়ে না দেয়া পর্যন্ত ইউক্রেনে স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে সম্ভব নয় এবং সম্ভব নয় কোন রাজনৈতিক পরিবর্তন। তিনি বলেন, লুটেরা ও সন্ত্রাসীরা অস্ত্রসহ রাস্তায় অবস্থান করলে নির্বাচন অনুষ্ঠান অসম্ভব।

ইউক্রেনীয় শান্তি প্রক্রিয়ায় আরও একটি প্রতিবন্ধক হচ্ছে, ইউরোপে নিরাপত্তা ও সহযোগিতা সংস্থার পক্ষে শান্তি চুক্তিতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন যে সুইস কূটনীতিক হিদি তাগশিয়াভিনি তিনি পদত্যাগ করছেন বলে শনিবার জানিয়েছেন। তার এ বিদায়ের তাৎক্ষণিক কারণ জানা যায়নি এবং এটাও স্পষ্ট নয়, তার উত্তরসূরি হিসেবে কে আসছেন।

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের পরিস্থিতির ওপর সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পুতিনের সবচেয়ে উচ্ছ্বসিত বিবৃতিগুলোর অন্যতম হচ্ছে ক্রেমলিনের ওয়েবসাইটে শনিবার প্রকাশিত এ সাক্ষাতকারের বিবৃতি। তিনি তার দীর্ঘ দিনের মতামত পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, ইউক্রেনের লড়াইরত অঞ্চলে সুসংহত রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসন মেনে নেয়া উচিত। এ অস্বীকৃত প্রজাতন্ত্রের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিতের জন্য শাসনতান্ত্রিক সংস্কারের প্রয়োজন। কিন্তু কিয়েভ কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে স্বায়ত্তশাসন হিসেবে অভিহিত করতে ইচ্ছুক নয়। তারা বিকেন্দ্রীকরণের মতো পৃথক ধারণার ওপর অগ্রাধিকার দেয়।

প্রকাশিত : ৮ জুন ২০১৫

০৮/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

বিদেশের খবর



ব্রেকিং নিউজ: