আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বিশ্ব এ্যাক্রেডিটেশন দিবস

প্রকাশিত : ৭ জুন ২০১৫

বর্তমান মুক্তবাজার অর্থনীতিতে বাজার সংরক্ষণের জন্য বিশ্বের অনেক দেশই তাদের দেশে অন্য দেশের পণ্য ও সেবা প্রবেশে কিছু অশুল্ক বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতাা তৈরি করে থাকে। এর অধিকাংশই পণ্যের মান সনদ, পরীক্ষণ ফলাফল এবং পরীক্ষণ কার্যক্রমসংশ্লিষ্ট কারিগরি ব্যক্তির যোগ্যতা এবং পরীক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মান ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এ্যাক্রেডিটেশন এ কারিগরি বাধা দূূরীকরণে সর্বজনস্বীকৃত ও গ্রহণযোগ্য অন্যতম হাতিয়ার। এ্যাক্রেডিটেশন হলো কোন নিরপেক্ষ কর্তৃপক্ষ দ্বারা সাযুজ্য নিরূপণকারী প্রতিষ্ঠান যেমন পরীক্ষাগার, সনদ প্রদানকারী সংস্থা, পরিদর্শন সংস্থা ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের কাজের সক্ষমতা ও দক্ষতা যাচাইপূূর্বক প্রত্যয়ন করা। এ প্রত্যয়ন ক্ষেত্রভিত্তিক বিশেষজ্ঞ টিমের মাধ্যেমে আন্তর্জাতিক মান এবং গাইড লাইনস, জাতীয় রেগুলেশনস এবং জাতীয় এ্যাক্রেডিটেশন সংস্থায় শর্তানুসারে করা হয়ে থাকে। আন্তর্জাতিক এ্যাক্রেডিটেশন শীর্র্ষক সংস্থা হলো ইন্টারন্যাশনাল ল্যাবরেটরি এ্যাক্রেডিটেশন কোঅপারেশন। এটি বিভিন্ন দেশের জাতীয় এ্যাক্রেডিটেশন সংস্থাগুলোকে সমন্বয় করে। ব্যবসায় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কারিগরি বাধা দূর করার মাধ্যমে রফতানি বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং পণ্য ও সেবায় দেশীয় ও বিদেশী ভোক্তাদের আস্থা অর্জনে সহায়তা করে জাতীয় এ্যাক্রেডিটেশন সংস্থাগুলো। প্রতিবছর ৯ জুন বিশ্ব এ্যাক্রেডিটেশন দিবস পালন করা হয়। বাংলাদেশেও এ দিবসটি বেশ উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে পালন করা হয়। মূলত বাংলাদেশ এ্যাক্রেডিটেশন বোর্ডের উদ্যোগে এ দেশে এ দিবসটি পালন করা হয়। এবারের থিম হলো ‘স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা সরবরাহে সহায়তা’। বর্তমান যুগে স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ দিকটিকে গুরুত্ব দিয়েই এবারে এ দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

দিনকে দিন বাংলাদেশ এ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড (বিএবি) দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ইতোমধ্যে এ সংস্থাটি এর কাজের মধ্যে দিয়ে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করে দেশের জন্য সুখবরই নিয়ে এসেছিল এ বছরের জানুয়ারি মাসে। হংকংয়ে অনুষ্ঠিত এশিয়া প্যাসেফিক ল্যাবরেটরি এ্যাক্রেডিটেশন কোঅপারেশনের ৩৪তম মিউচুয়াল রিকগনিশন এ্যারেঞ্জমেন্টের সভায় এর সদস্যদের নিরঙ্কুশ ভোটে বাংলাদেশের এই সংস্থাটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করে। এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ৩৬টি দেশের জাতীয় এ্যাক্রেডিটেশন সংস্থার প্রতিনিধিগণ এ সভায় বিএবি’র আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিতে সমর্থন প্রদান করেন। বিএবি’র এ সাফল্যের পেছনে এ্যাক্রেডিটেশন বোর্ডের মান ব্যবস্থাপনা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশী ও বিদেশী পরামর্শকদের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ, এ্যাক্রেডিটেশন পদ্ধতি ও শর্র্তসমূহ প্রণয়য়ন, বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন, এ্যাক্রেডিটেশন কার্যক্রমে গতিশীলতা আণয়ন এবং ডিজিটাল পদ্ধতির প্রবর্তন।

এর ফলে এ্যাক্রেডিটেশন প্রক্রিয়া সহজ হয়েছে এবং সেসঙ্গে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হচ্ছে। এই সংস্থাটি বিভিন্ন ভাবে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে সহায়তা করছে। যেমন জাতীয় এ্যাক্রেডিটেশন সংস্থা প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে কারিগরি ব্যক্তির সক্ষমতা উন্নয়ন, এ্যাক্রেডিটেশন সংস্থা প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যেমে কারিগরি ব্যক্তির সক্ষমতা উন্নয়ন, এ্যাক্রেডিটেশন সনদ প্রদানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সাধারণ ও কারিগরি মান ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন। এ সকল মান উন্নয়নের ফলে দেশে একটি বিশ্বাসযোগ্য মান ব্যবস্থাপনা অবকাঠামো গড়ে উঠছে যা জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা, ভোক্তা অধিকার, পরিবেশ সংরক্ষণ, মানসম্পন্ন পণ্য ও সেবা সরবরাহের মতো জাতীয় ইস্যুতে সরাসরি ভূমিকা পালন করছে। সবচেয়ে বড় কথা, বাংলাদেশ এ্যাক্রেডিটেশন বোর্ডের কার্যক্রম চালুু হওয়ার পর দেশের রফতানি বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও উন্নত গুণগত মানের পণ্যের উৎপাদন ও সেবার সরবরাহের পথ সুগম হয়েছে। এই সংস্থাটিকে আরও শক্তিশালী করা হলে দেশের রফতানি বাণিজ্য আরও গতিশীলতা সৃষ্টি হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

অর্থনীতি ডেস্ক

প্রকাশিত : ৭ জুন ২০১৫

০৭/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: