আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বাকৃবির কৃষি জাদুঘর

প্রকাশিত : ৭ জুন ২০১৫

কৃষিই মানব সভ্যতার সূচনা ও বিবর্তনের ধারায় ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সভ্যতার ক্রমবিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কৃষি উপকরণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ পদ্ধতির আধুনিকায়ন ও উদ্ভাবনে পাল্টে গেছে কৃষির ঐতিহ্য ও কৃষ্টি। কৃষি সভ্যতার সূচনা ও বিবর্তনের এই ইতিহাস-ঐতিহ্যখচিত কৃষি উপকরণ ও প্রযুক্তিসমূহ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জন্য কালের গর্ভে হারিয়ে যাওয়া ওই সব কৃষি ঐতিহ্য ও উপকরণ সংরক্ষণের সর্বপ্রথম উদ্যোগ গ্রহণ করে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)। এ প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই ২০০২ সালে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গড়ে ওঠে দেশের একমাত্র কৃষিভিত্তিক জাদুঘর।

২০০২ সালের ১০ মার্চ দেশের প্রথম এই কৃষিভিত্তিক জাদুঘরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়। ২০০৭ সালের ৩০ জুন বাকৃবির সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. মোঃ মোশাররফ হোসাইন মিঞা এর উদ্বোধন করেন। এরপর থেকে জাদুঘরটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। ৬৩৫০ বর্গফুট আয়তনের আট বাহুবিশিষ্ট দ্বিতল ভবনের প্রথম ধাপে একতলার নির্মাণকাজের জন্য ব্যয় হয় প্রায় ৪৪ লাখ টাকা।

২০০৭ সালে চালু হওয়া এই জাদুঘরে এখনও চলছে কৃষিসম্পর্কিত ঐতিহ্যের সংরক্ষণকাজ। সীমিত পরিসরে হলেও এ জাদুঘরটিতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে আবহমান গ্রামবাংলার কৃষিজ সংস্কৃতিতে ব্যবহৃত কৃষিকাজের নিদর্শন, বিশেষ করেÑ বাঁশ ও বেতের তৈরি টুকরি, ওচা, মাথাল, বাঁশের তৈরি বাঁকসহ ঝুড়ি, বাঁশের তৈরি টুরং, কুরুম, তেরা, খালই, গরুর ঠোয়া, বিভিন্ন ধরনের হুক্কা, বাঁশের তৈরি চালুন, কুলা, ডুলি, লাঙ্গল, জোয়াল, মই, কোদাল, দা, নিড়ানি, কাস্তে, কাঠের তৈরি ঢেঁকি, পলো, চেং, বাইর, উড়ি, সানকি, বিজয়পুরের চীনা মাটি, এঁটেল মাটি, দোআঁশ মাটিসহ বিভিন্ন ধরনের মাটি, জীবাণু সারসহ বিভিন্ন ধরনের সার, বাকৃবি, পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ও বিভিন্ন কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত বিভিন্ন জাতের ধান, পাট, ডাল, ছোলা, সরিষা, টমেটো, বাদামসহ বিভিন্ন ধরনের শস্যবীজ, বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির বিভিন্ন ধরনের মাছ, অপরাপর অনুষদভিত্তিক বিভিন্ন কৃষি উপকরণ, সয়েল টেস্টিং কিট, ইনসেক্ট কালেক্টিং বক্স, বিবর্তনের ধারায় যান্ত্রিক কৃষিকাজের মডেল, পাহাড়ি চাষাবাদ পদ্ধতিসহ কৃষিকাজের বিভিন্ন মডেল। রয়েছে অজগর সাপ, জাতিসাপসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর কঙ্কাল, মাটির তৈরি বাঘসহ গ্রাম বাংলার কৃষকদের ব্যবহৃত এবং বিলুপ্তপ্রায় বিভিন্ন কৃষি উপকরণ।

জাদুঘরটির বিশেষ আকর্ষণÑ দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের মাঝে ব্যবহৃত প্রথম মাইক্রো কম্পিউটার। বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহের মাঝে বাকৃবিই সর্বপ্রথম মাইক্রো কম্পিউটার ব্যবহারের মাধ্যমে কম্পিউটার জগতে প্রবেশ করে। ১৯৮০ সালে সর্বপ্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি প্রকৌশল ও কারিগরি অনুষদের শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার প্রোগ্রামিং কোর্স অধ্যয়নের জন্য এটি ব্যবহৃত হয়। ১৯৮১ সালে বাকৃবির প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষা বিষয়ক তথ্যাদি প্রক্রিয়াকাজে সর্বপ্রথম এটি ব্যবহৃত হয়। মাইক্রো কম্পিউটারটির সঙ্গে ব্যবহৃত প্রিন্টারটিও এখানে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এছাড়াও দেশে কৃষিশিক্ষায় সর্বপ্রথম ব্যবহৃত বিভিন্ন মডেলের কয়েকটি ক্যালকুলেটরও এখানে স্থান পেয়েছে।

মোঃ আব্দুর রহমান

প্রকাশিত : ৭ জুন ২০১৫

০৭/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: