মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

৮ বছরে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশিত : ৭ জুন ২০১৫

হাটি হাটি পা পা করে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় অষ্টম বর্ষে পদার্পণ করেছে। গত ৫ জুন ছিল এ এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা দিবস। বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য সাজে সেজেছিল ক্যাম্পাস। এ উপলক্ষে শিক্ষার্থী ছাড়াও শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী, অভিভাবক আর অতিথিদের পদচারণায় মুখরিত ছিল ক্যাম্পাস।

ইতিহাসের পাতা থেকে

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী চিন্তা, আধুনিক বিজ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ার পরিকল্পনা, বিজ্ঞানমুখী শিক্ষাব্যবস্থা বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর উন্নত বিশ্বের পর্যায়ে সমতা অর্জনের পদক্ষেপের ফসল এই বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্দেশ্য হলো সারাদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি, জ্ঞান চর্চা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে যথাযথ গুরুত্ব প্রদানসহ পঠন-পাঠন ও গবেষণার সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি ও সম্প্রসারণ করা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ২০০১ সালের ১৫ জুলাই মহান জাতীয় সংসদে ‘পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্প’ বিল পাস হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকে জ্ঞান অর্জনের তীর্থভূমিতে পরিণত হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের উপযুক্ত কর্মী তৈরি করছে নবীন এই বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কারণে পাবনা তথা উত্তরবঙ্গ শিক্ষার নগরীতে পরিণত হয়েছে।

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্প বিল পাস হওয়ার পর নানা বাধা বিপত্তি পেরিয়ে ২০০৮ সালে পাবনা শহর থেকে তিন কিলোমিটার পূর্বে ৩০ একর জমির ওপর বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয়। ২০০৯ সালের ৫ জুন আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। প্রশাসন ভবন, ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান ভবন, একাডেমিক ভবন, লাইব্রেরি ভবন, ভিসি লাউঞ্জ, ক্যাফেটরিয়া, মসজিদ, ডরমেটরি, মেইনগেট, পাওয়ার স্টেশনসহ সব অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হয়েছে। চালু হয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছাত্র হল ও শেখ হাসিনা ছাত্রী হল। স্বাধীনতা চত্বর ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত বাঙালীর সব আন্দোলন সংগ্রাম ও গৌরব অর্জন তুলে ধরেছে।

যে বিষয় পড়ানো হয়

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং এ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদ, বিজ্ঞান অনুষদ, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ, মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ এ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদের অধীনের ইলেক্ট্রিক্যাল ও ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার সায়েন্স এ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেক্ট্রনিক এ্যান্ড টেলিকমিউনিকশন ইঞ্জিনিয়ারিং, ইনফরমেশন এ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, আর্কিটেকচার, গণিত, পদার্থ বিজ্ঞান, ফামের্সি, ব্যবসায় প্রশাসন, অর্থনীতি, বাংলা এবং ভূগোল, পরিবেশ ও নগর পরিকল্পনা বিভাগের প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। রয়েছে একটি আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট। এর বাইরে চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকে রসায়ন বিভাগ চালু করা হবে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং, বিএসসি, বি ফার্ম, বি আর্ক, বিএসএস, বিএ (অনার্স), বিবিএ, এমএসসি, এমএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং, ইএমবিএ, এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রী চালু আছে। এছাড়া সান্ধ্যকালীন এমবিএসহ রয়েছে বিভিন্ন সার্টিফিকেট কোর্স।

সুযোগ-সুবিধা

শুরু থেকেই এখানে মানসম্মত শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করে চলেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম সেমিস্টার পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়। আট সেমিস্টারের সময়সীমায় প্রতিবছর দুটি সেমিস্টার। ফলে মাত্র চার বছরেই এখান থেকে শিক্ষার্থীরা শিক্ষাজীবন শেষ করতে পারছে। ইতিমধ্যে দুটি ব্যাচ শিক্ষাজীবন শেষ করে চলে গেছে। একদিনের জন্যও নেই সেশনজট।

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান ভবন শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান চর্চার উর্বর ক্ষেত্র। চালু হয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ও শেখ হাসিনা ছাত্রী হল। লাইব্রেরিতে ই-বুক ও ই-জার্নালের সুবিধা ছাড়াও যুগোপযোগী ১৬ হাজার বই আছে। এখানকার আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব ও বিজ্ঞানাগার সর্বশেষ প্রযুক্তি সরঞ্জাম সমৃদ্ধ।

বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান

আনন্দঘন পরিবেশে সকাল ৯টায় আনন্দ শোভাযাত্রা ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে স্বাধীনতা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। বৃক্ষরোপণ, রসায়ন বিভাগের শুভ উদ্বোধন শেষে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদ্যাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের মাননীয় ডেপুটি স্পিকার এ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া এমপি, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও যুক্তরাজ্যের সাবেক হাই কমিশনার প্রফেসর ড. এম সাইদুর রহমান খান, পাবনা-৫ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স, বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের চ্যার্জ দা এ্যাফেয়ার্স তাকেশি মাতসুনাগা, পাবনা জেলা পরিষদের সম্মানিত প্রশাসক এম. সাইদুল হক চুন্নু। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আল-নকীব চৌধুরী।

নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশের সরকারী-বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম অনলাইন নিউজ পোর্টাল চালু করল। ৫ জুন বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের শুভদিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতরের উদ্যোগে চালু করা হলো চটঝঞ ঘঊডঝ পোর্টাল। এতে থাকবে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কথা। তাদের কৃতিত্ব, উদ্ভাবন, আবিষ্কার, তাদের পড়ালেখার কথা। সারাবিশ্বের কাছে তুলে ধরা হবে শিক্ষার্থীদের। শিক্ষার্থীদের সহ-শিক্ষার কৃতিত্ব থাকবে। থাকবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষকদের কথা। তাদের গবেষণার কথা, আবিষ্কারের কথা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের খবর। থাকবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিবাচক সব খবর, অনুষ্ঠান, সেমিনার, কর্মসূচীর খবর।

ফারুক হোসেন চৌধুরী

প্রকাশিত : ৭ জুন ২০১৫

০৭/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: