কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

বাজেট শেয়ারবাজারবান্ধব

প্রকাশিত : ৭ জুন ২০১৫
  • পুঁজিবাজার বিশ্লেষকদের অভিমত

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের অনেক চাওয়া পূরণ হয়েছে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে। তাই এবারের বাজেটকে শেয়ারবাজারবান্ধব বলছেন পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা। তাঁরা বলছেন, তালিকাভুক্ত ব্যাংক, বীমা ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্পোরেট করহার ৪২ দশমিক ৫ থেকে ৪০ শতাংশে নামিয়ে আনার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। কর্পোরেট করহার কমে এলে ব্যাংকের কর-পরবর্তী মুনাফার ওপর এর প্রভাব পড়বে। এতে লভ্যাংশও বাড়তে পারে। সব মিলিয়ে আগামী অর্থবছরের বাজেট শেয়ারবাজার সম্প্রসারণে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা।

বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এ্যাসোসিয়েশন চেয়ারম্যান ও সিডিবিএল’র প্রেসিডেন্ট শেখ কবীর হোসেন বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে যেসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে শেয়ারবাজার গতিশীল হবে, এতে কোন সন্দেহ নেই। ব্যাংক, বীমা ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের করহার কমিয়ে আনা হয়েছে। তবে বীমা খাতের জন্য বিআইএ’র পক্ষ থেকে বেশকিছু প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছিল, প্রস্তাবিত বাজেটে যার প্রতিফলন নেই। যদিও শেয়ারবাজারের উন্নয়নে ব্যাংকের পাশাপাশি বীমা কোম্পানিগুলোও বিরাট ভূমিকা রেখে চলেছে। তাই শেয়ারবাজারসহ সামগ্রিক অর্থনীতির স্বার্থে এ খাতের জন্য সরকারের তরফ থেকে কিছু প্রণোদনা জরুরী। ডিএসই’র সাবেক সভাপতি শাকিল রিজভী বলেন, শুধু শেয়ারবাজার নয়, সার্বিকভাবেই ব্যবসাবান্ধব হয়েছে এবারের বাজেট। বেশি সংখ্যক কোম্পানি যাতে বাজারে আসতে পারে, সেদিকে নজর দিয়েছে সরকার। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিশ্বের অন্যান্য দেশে শিল্পায়ন শেয়ারবাজারনির্ভর হলেও আমাদের দেশে তা ব্যাংকনির্ভর। তবে এ অবস্থা পরিবর্তনের জন্য সরকারের আন্তরিকতার প্রতিফলন ঘটেছে এবারের বাজেটে। বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর জন্য বাজেটে বিশেষ কোন প্রণোদনা না থাকাকে অস্বাভাবিক মনে করছেন না তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক অর্থনীতিবিদ ও শেয়ারবাজার বিশেষজ্ঞ আবু আহমেদ বলেন, বাজেটে শেয়ারবাজারকে অগ্রাধিকার দিয়ে অর্থমন্ত্রী বেশকিছু ইতিবাচক প্রস্তাব করেছেন, যা শেয়ারবাজারের প্রতি সাধারণ বিনিয়োগকারীর আস্থা ফিরিয়ে আনবে। এছাড়া কর্পোরেট কর কমায় তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর নিট মুনাফার পাশাপাশি তাদের লভ্যাংশও বাড়তে পারে। তবে বর্তমানে বাজারের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ভাল মৌলভিত্তিসম্পন্ন শেয়ার। এজন্য বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে প্রণোদনা দিতে হবে, যা এবারের বাজেটে একদম অনুপস্থিত। তিনি বলেন, এবারের বাজেট প্রস্তাবে সব সিগারেট প্রস্তুতকারী কোম্পানির করহার সমান করা হয়েছে। এটি উচিত হয়নি। তালিকাভুক্তিতে বাড়তি কোন সুবিধা না থাকলে শেয়ারবাজারে আসতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে অতালিকাভুক্ত তামাক কোম্পানিগুলো। এছাড়া মোবাইল কোম্পানিগুলোর জন্যও বাজেটে বিশেষ কোন প্রণোদনা নেই। এছাড়া আইপিওর মাধ্যমে ন্যূনতম ২০ শতাংশ শেয়ার ছাড়লে কোম্পানির সংশ্লিষ্ট বছরের প্রযোজ্য আয়করের ওপর যে ১০ শতাংশ কর রেয়াত সুবিধা দেয়া হয়েছে, তা কয়েক বছরের জন্য দেয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

প্রকাশিত : ৭ জুন ২০১৫

০৭/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: