রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

শ্রেয়ার সুরলহরীতে মাতোয়ারা ঢাকার শ্রোতা

প্রকাশিত : ৬ জুন ২০১৫, ০১:১৪ এ. এম.
শ্রেয়ার সুরলহরীতে মাতোয়ারা ঢাকার শ্রোতা

মনোয়ার হোসেন ॥ সুরের নেই কোন সীমারেখা। সে কথাই যেন স্মরণ করিয়ে দিলেন শ্রেয়া ঘোষাল। বলিউডের বিখ্যাত এই প্লেব্যাক গায়িকা জয় করে নিলেন ঢাকার শ্রোতার হৃদয়। অনন্য কণ্ঠমাধুরীতে একই সঙ্গে মাতালেন ও মোহাবিষ্ট করলেন রাজধানীর সঙ্গীতানুরাগীদের। সুরের খেলায় ছড়িয়ে দিলেন আচ্ছন্নতার অনাবিল আবেশ। গানের সূত্র ধরে এ দেশের গানপ্রেমীদের সঙ্গে বাড়িয়ে নিলেন আপন সংযোগ। শুক্রবার জ্যৈষ্ঠের রাতে অনুষ্ঠিত হলো ‘শ্রেয়া ঘোষাল নাইট’ শিরোনামের কনসার্ট। বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারের নবরাত্রি হলে হাজারও শ্রোতা সরাসরি শুনলেন শ্রেয়ার সঙ্গীত। সঙ্গীতানুষ্ঠানটিতে শ্রেয়া ছাড়াও গান শোনান হৃষিকেশ প্রমোদ রণদে। দর্শনীর বিনিময়ে মনমাতানো এ সঙ্গীতাসরের আয়োজন করে বে এন্টারটেইনমেন্ট।

সন্ধ্যা থেকেই শ্রেয়ার সুরেলা শব্দধ্বনিতে সিক্ত হতে জড়ো হয়েছিল সঙ্গীতপিপাসুরা। প্রতীক্ষার সেই প্রহর শেষ হয় রাত আটটায়। মঞ্চে আসেন বলিউডের ফিল্মি মিউজিকে আলোড়ন তোলা সুশ্রী এই প্লে-ব্যাক সিঙ্গার। অনবদ্য কণ্ঠের মধুর শব্দধ্বনি তুলে গাইলেন ‘শুনরাহাহে না তু’। ততক্ষণে শ্রোতার হৃদয়তন্ত্রী বিস্তৃত হয়েছে শ্রেয়ার সুরভরা মায়াজাল। এরপর যেন বয়ে গেল শুধুই মুগ্ধতার অপার অনুভূতি। বুঝিয়ে দিলেন কী করে তিনি মাত্র ২৬ বছর বয়সে ভারতীয় জাতীয় চলচ্চিত্রে চারবার জয় করেছেন সেরা গায়িকার পুরস্কার।

জন্মসূত্রে বাঙালী এই কণ্ঠশিল্পী প্রথম গান শেষে কথা দিয়ে শ্রোতার সঙ্গে ঘটান আপন সংযোগ। এ দেশে তার সঙ্গীতানুরাগীদের প্রতি মুগ্ধতা প্রকাশ করে বাংলা-হিন্দি ও ইংরেজীর মিশেলে বলেন, অনেক বছর পর আবার ঢাকায় ফিরে এলাম। মাঝে কেটে গেছে পাঁচটি বছর। এ দেশের শ্রোতারা গান শুনতে ভালবাসে। আপনাদের জন্য আবারও গান নিয়ে এসেছি। এরপর কথা শেষে হয় সুর-তাল আর লয়ের খেলা। দ্বিতীয় পরিবেশনায় গেয়ে শোনান ‘তেরা সাজন আয়োরে’। এরপর কথা দিয়ে শুরু করেন তৃতীয় গানের পরিবেশনা। উপস্থিত সঙ্গীতপ্রেমীদের মাঝে উদ্দীপনা ছড়িয়ে দিয়ে বলেন, আপনারা সবাই আমার সঙ্গে একই সুরে গাইবেন। এরপর শ্রোতাদের মাতিয়ে গাইলেন ‘আগার তু মিল যায়ে তো জামানা ছোড় দেঙ্গে হাম’। কথার ফাঁকে শিল্পী একে একে গেয়ে শোনান ‘তেরে ন্যায়না’, ‘যাদু হে নেশা হে মাদ হোশিয়া তুজকো ভুলায়ে আব যাউও কাহা’। এরপর হৃষিকেশ প্রমোদ রণদের সঙ্গে যুগলকণ্ঠে ঝড় তুলেন ‘মানবা লাগে ও মানবা লাগে’ জনপ্রিয় গানে। এ সময় দর্শকশ্রোতারাও তুমুল উচ্ছ্বাসে গলা মেলায়। গানশেষে মেলে অভূতপূর্ব করতালি ও হর্ষধ্বনি। এরপর আবার যুগল কণ্ঠের উন্মাদনা। এবার তারা গেয়ে শোনান দুলহানিয়া ছবির গান ‘হামটি শরমা কি দুলহানিয়া’। পরের গানের শিরোনাম ছিল ‘ম্যাঁয় কারু ইন্তেজার’। এবার নতুন ছবি ‘পিকু’ থেকে গেয়ে মাতালেন দর্শকহৃদয়। গাইলেন ‘ধীরে চল না হ্যায় মুশকিল’ শিরোনামের হৃদয়ছোঁয়া গান।

বাঙালী মেয়ে শ্রেয়া মাঝে মাঝে কথা বলছিলেন বাংলায়। বাংলা, হিন্দি, ইংরেজির মিশেলে কথা বলছিলেন তিনি। এবার গাইলেন বাংলা গান। মনমাতানো সুরে গাইলেন ‘ও আকাশ ও পলাশ রাশি রাশি’ গানটি। পরেই আবার হিন্দি সুরে গাইলেন ‘প্রিয়া ওরে প্রিয়া’। গাইতে গাইতে শুদ্ধ বাংলায় বললেন, ‘কারো তাড়া নেই তো? গান চলবেই, কী বলেন?’ তখন দর্শকশ্রোতারা জানায়Ñ হ্যাঁ, চলুক সুরের খেলা।

আবারও গাইলেন বাংলা গান। শোনালেন ‘আমি ভুলে যাই কাকে চাইতাম’। এভাবে কখনও বাংলা, কখনও হিন্দি গানে মাতোয়ারা করে রাখেন এই শিল্পী। হৃষিকেশকে আবারও সঙ্গী করে এবার গাইলেন ‘এত্তিসি হাসি এত্তিসি খুশি’। এরপর একক কণ্ঠে পরিবেশন করেন চড়া তালের গান ‘ইয়ে ইশকে হ্যায়’। আর শিল্পীর সুরের সঙ্গে সম্মিলন ঘটিয়ে তখন নড়ছিল শ্রোতার ঠোঁট। রামলীলা ছবির গান গেয়ে আরও একধাপ সুুর চড়িয়ে মাতোয়ারা করলেন অনুরাগীদের। গাইলেন ‘ঢোল বাজে ঢোল’। আর কণ্ঠটি থেমে যেতেই উচ্চকিত হলো মোহাবিষ্ট শ্রোতার তুমুল করতালি। এভাবেই সুরের আবেশে অনেক গান গেয়ে রাজধানীর সঙ্গীতানুরাগীর অন্তরে অপার আনন্দ ছড়িয়ে দেন এই সুকণ্ঠী গায়িকা। আয়োজনের কিছু আনুষ্ঠানিকতার মাঝে খানিকটা বিরতি দিয়ে আবার মঞ্চে আসেন শ্রেয়া। নতুন উদ্যোমে গেয়ে শোনান ‘জুবি জুবি’। এভাবেই প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে সমান্তরালভাবে শ্রোতাদের আচ্ছন্ন করে রাখেন শ্রেয়া। সঙ্গীতানুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মুনমুন।

প্রকাশিত : ৬ জুন ২০১৫, ০১:১৪ এ. এম.

০৬/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: