কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

নতুন বিনিয়োগ ও শিল্পায়নে ঘোষিত বাজেট সহায়ক ॥ চেম্বার ইন্ডাস্ট্রিজ

প্রকাশিত : ৬ জুন ২০১৫, ০১:১০ এ. এম.

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দেশের নতুন বিনিয়োগ এবং শিল্পায়নে ঘোষিত বাজেট সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছে ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ। শুক্রবার বাজেট প্রতিক্রিয়ায় সংগঠনটি এমন দাবি করে। ঘোষিত বাজেটকে ‘সম্মুখযাত্রার বাজেট’ বলছে বাংলাদেশের ওয়ার্র্কার্স পার্টি। তবে বেকার যুবশ্রেণীর কর্মসংস্থানে যথেষ্ট বরাদ্দ না থাকায় হতাশা প্রকাশ করছে বাংলাদেশ যুব মৈত্রী।

বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ বাজেট প্রতিক্রিয়ায় বলছে, দেশে শিল্পায়ন সহায়তায় বাজেটে বিশেষ উদ্যোগের কথা বলা হচ্ছে। এতে দেশের শিল্পায়ন এবং বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে। পাবলিক ট্রেডেড ব্যাংক এবং বীমার ওপর কর কমানোকে স্বাগত জানিয়েছে সংগঠনটি। শিশু বাজেট ছিটমহলবাসীদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ, সরকারী চাকরিজীবীদের জন্য বিশেষ ব্যাংক স্থাপনের প্রশংসা করছে তারা।

বাজেট সম্পর্কে ওয়ার্কার্স পার্টির প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়, বিদ্যমান অনুকূল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রস্তাবিত বাজেটের অর্থসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অসম্ভব নয়, তবে সর্বক্ষেত্রে করারোপ ও করের পরিধি বৃদ্ধির বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে জনজীবনে আরেকটু স্বস্তি আনার উদ্যোগ নেয়াটাও জরুরী। এটা সত্য যে, সাম্রাজ্যবাদী অর্থলগ্নীকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর খপ্পর থেকে বেরিয়ে এসে নিজস্ব অর্থায়নে উন্নয়ন নিশ্চিত করা জরুরী, তবে করের বোঝা চাপিয়ে যেন সাধারণ জনগণকে ভারাক্রান্ত করা না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখাটাও জরুরী। এক্ষেত্রে করের আওতার অনেকগুলো ক্ষেত্র সংশোধন ও ব্যয়ের ক্ষেত্রেও কিছু কিছু ক্ষেত্রের অগ্রাধিকার পুনর্বিবেচনা করাটাও প্রয়োজন। প্রস্তাবিত বাজেটে বেশ কিছু খাতে অহেতুক করারোপ করে সাধারণ মানুষকে অস্বস্তির মধ্যে ফেলা হলেও আগের বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় সম্পদের বৈষম্য কমানোর লক্ষ্যে সম্পদ কর আরোপের কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এর ফলে বিদ্যমান সম্পদ বৈষম্য কমবে না।

ওয়ার্কার্স পার্টির বিবৃতিতে বলা হয়, প্রস্তাবিত বাজেটে স্থানীয় শিল্পখাতে প্রণোদনা দেয়া হলেও একশটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ঘোষণা কেবল বিদেশীদের বিনিয়োগকেই সুরক্ষা দেবে। সেখানে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সুরক্ষার সুস্পষ্ট কোন দিকনির্দেশনা করা হয়নি। একই সঙ্গে কৃষকের ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দেয়া হলেও ঠিক কি ব্যবস্থা নেয়া হবে তা নির্দিষ্ট করা হয়নি। অতীতের অভিজ্ঞতায় আমরা দেখছি, দেশের কৃষকরা দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করলেও তারা নিজেরা ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত। ক্রমাগত বঞ্চনার শিকার হয়ে কৃষিপেশা থেকে কৃষকরা সরে আসতে শুরু করলে কার্যত বাংলাদেশের অর্থনীতি ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাবেÑ এই সত্যও বিবেচনায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের জন্য মজুরি কাঠামো ঘোষণার কোন দিকনির্দেশ প্রস্তাবিত বাজেটে নেই। প্রস্তাবিত বাজেটে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্য ঘোষণা করা হলেও, ঠিক কোন উপায়ে কর্মসংস্থান বাড়ানো হবে, তা সুনির্দিষ্ট করা হয়নি। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ঘোষণা করা উচিত।

বাজেটের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় ওয়ার্কার্স পার্টির নেতৃবৃন্দ শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তি খাতে বাজেট কমানো হতাশাজনক বলে উল্লেখ করে অবিলম্বে এসব খাতে বাজেট বৃদ্ধিও দাবি জানান।

বাংলাদেশ যুব মৈত্রী বলছে যুবশ্রেণীর কর্মসংস্থানে যথেষ্ট বরাদ্দ না থাকায় আমরা হতাশ। বাজেটে দেশের কৃষক এবং কৃষি বাঁচানোর জন্য কোন উদ্যোগ নেই। এসব বিষয়ে সরকারকে মন দিতে আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রকাশিত : ৬ জুন ২০১৫, ০১:১০ এ. এম.

০৬/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: