মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ১৭.২ °C
 
২০ জানুয়ারী ২০১৭, ৭ মাঘ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

রাখাইন নারীদের এখন দিনমজুরি করতে হয় না

প্রকাশিত : ৬ জুন ২০১৫

পঞ্চাশোর্ধ আদিবাসী রাখাইন নারী মায়েচিং। যৌবনকাল কেটেছে সীমাহীন কষ্টের মধ্যে। অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ পর্যন্ত করতে হয়েছে। সন্তান, নাতি-নাতনি নিয়ে এখন আটজনের সংসার। অনাবিল সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য না থাকলেও ধূসর সেই দিনগুলো পেরিয়ে এসেছেন। কেটে গেছে কল্পনাতীত কষ্টের দিনগুলো। স্বামী থনচিং এবং সন্তানের ভাড়াটে হোন্ডা চালানো আয় দিয়ে চলছে সংসারের চাকা। উপার্জনের এ পথটুকুই মায়েচিংয়ের জীবিকার পথকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। জমি-জিরেত বলতে গেলে কিছুই নেই। তারপরও দমেননি প্রতিকূল পরিবেশের কাছে। তবে নিজেদের একটি হোন্ডা থাকলে আয়ের পথে আলোর গতি পেতেন বলে তার মন্তব্য।

রাখাইন নারী মাচিং জানালেন, দুই ছেলে, স্বামী, নাতি-নাতনি নিয়ে ছয়জনের সংসার। সন্তানরা যখন ছোট ছিল তখন খালে-বিলে কিংবা নদীতে কাঁকড়া-কুইচ্যা ধরতেন। তা বিক্রি করে সংসারের চাকা ঠেলার চেষ্টা করতেন। কখনও ঘুরত ওই চাকা, আবার কখনও থমকে যেত। সেই অবর্ণনীয় কষ্টের দিনগুলো এখন মাচিংয়ের কাছে অতীত। ঘাটতেও চান না। ছেলে জোসান হোন্ডা মেরামতের ওয়ার্কসপ দিয়েছে। এ জন্য এক পড়শীর কাছ থেকে মাচিং ২৫ হাজার টাকা কর্জ করেছেন। গুনতে হয়েছে ৫৫ হাজার টাকা। জীবনের চাকায় গতি এসেছে। তবে চলনসই নয়। একটি সংস্থার কাছে পাওয়া ঘরের আংশিক উপকরণ নিয়ে বিপাকে রয়েছেন তিনি। বাকি চালসহ পাটাতন দিতে পারছেন না। বর্ষায় কী করবেন তা ভেবে অস্থির এ মানুষটি। এভাবেই আদিবাসী এ নারীর সামনে এগিয়ে চলা। পেছনের, প্রায় একযুগ আগে এদের জীবিকার চাকা ঘুরত না। দু’বেলা দু’মুঠো খাবার জোটাতে পারতেন না। এখন তা অনেকটা কেটে গেছে। মাঠে কৃষি কাজ করতে হয় না। রাখাইন পল্লীসংলগ্ন কুয়াকাটাগামী বিকল্প সড়কের পাশে এসব নারীদের স্বামী ক্ষুদে দোকান করেছেন। নিজেদের মতো পরিকল্পনা করে চলছেন সামনের দিকে। এ রাখাইন পল্লীর নাম হাড়িপাড়া। এখানকার আরেক নারীর নাম লাউচিং। চারজনের সংসার কখনও চলছে, আবার থমকে যাচ্ছে। অর্থাৎ টানাপোড়েন লেগেই আছে।

Ñমেজবাহউদ্দিন মাননু

কলাপাড়া থেকে

প্রকাশিত : ৬ জুন ২০১৫

০৬/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: