মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

অধিকার আদায়ে সংগ্রামে কল্পনা তির্কী

প্রকাশিত : ৬ জুন ২০১৫

পথে পথে শতবাধা পেরিয়ে আদিবাসী নারীদের অধিকার রক্ষায় নিরলস কাজ করে চলেছেন রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সংগ্রামী নারী কল্পনা তির্কী। আদিবাসী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, অধিকার, নারীর ক্ষমতায়ন, নারী শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ, নারী শিক্ষা, আদিবাসীদের সংস্কৃতি রক্ষা ও তাদের সুষ্ঠু বিচারের জন্য নিরলসভাবে আন্দোলন করে যাচ্ছেন তিনি। তার লক্ষ্যই অনগ্রসর নারীদের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করা। কল্পনা তির্কীর ভাষায় ‘আদিবাসীদের অধিকার আদায় লাগুন স্বপনা দেখাথো’Ñ অর্থাৎ আদিবাসীদের অধিকার আদায়ই আমার একমাত্র স্বপ্ন।

কল্পনা তির্কীর বয়স ৪৯। রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার গোগ্রাম ইউনিয়নের গোগ্রাম পূজাতলা গ্রামের দরিদ্র আদিবাসী ‘ওঁরাও’ সম্প্রদায়ের পরিবারে জন্ম তাঁর। ছোটবেলা থেকেই অভাবের সংসারে অর্ধাহারে ও অনাহারে বড় হয়েছেন। চার ভাইবোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। পিতা মৃত মতিলাল সরদার, মাতা মেনকা রানী। ছোট বেলা থেকেই তিনি ছিলেন অদম্য সাহসী। মাসি দুলারী রানী, কাকা মাদারী সরদার ও কাকি রিতা রানী দেবীর অনুপ্রেরণায় কল্পনা ছোট বেলা থেকেই প্রতিবাদী হয়ে ওঠেন। বিশেষ করে নিজেদের অধিকার রক্ষার প্রশ্নে। কোন প্রকার অন্যায় সহ্য করতে পারতেন না।

নানা প্রতিকূলতার মধ্য স্কুলে পড়ালেখার সময়ে তিনি শ্রেণী কক্ষের ক্যাপ্টেন নির্বাচিত হতেন। তবে অভাবের কারণে বেশিদূর লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারেননি। কল্পনা তির্কী জানান, এসএসসি পরীক্ষা শেষে তাকে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয়। স্বামী অরুন কুমার লাকড়া কৃষি দিনমজুর। তাঁর স্বামী জানান, বিয়ে করলেও নেতৃত্ব থেকে তিনি পিছু হটেননি কখনও। বিশেষ করে বরেন্দ্রর আদিবাসী সাঁওতাল ও পিছিয়ে পড়া ওঁরাওদের অধিকার নিয়ে কাজ করেন।

Ñমামুন-অর-রশিদ

রাজশাহী থেকে

প্রকাশিত : ৬ জুন ২০১৫

০৬/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: