কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

লিচু কাকা

প্রকাশিত : ৬ জুন ২০১৫
  • মুহাম্মাদ আমানুল্লাহ

কলেজ ক্যা¤পাসের গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আমাদের স্টাফ কোয়ার্টার। বাউন্ডারির ভেতরে এক সারি লিচু গাছ। সাত-আটটি গাছের মধ্যে কোণার গাছ দুটোতে ফল ধরেছে একটু বেশি। লিচুর ভারে গাছগুলো মেঘের মতো নুয়ে পড়েছে।

আমি অন্তর- মডেল স্কুলে ক্লাস ফাইভে পড়ি। আব্বু সরকারী কলেজের অফিস সহকার- আমরা স্টাফ কোয়ার্টারেই থাকি। আমি আর আদিত্য পিঠেপিঠি দুই ভাই। আমাদের কোন বোন নেই। পাশের বাসায় মিলিরা থাকে- ওরা চার বোন। মিলি, লাকি, হ্যাপি ও সুখি; ওরাই যেন আমাদের বোন। আকবর কাকা মিলিদের বাবা। তাঁকে আমরা কাকা নামেই ডাকি। শুনেছি কাকার ছেলে ছিল রুপম। মাত্র বারো বছর বয়সে গাছ থেকে পড়ে মারা যায়।

কাকার যেদিন নাইট ডিউটি থাকেÑ সকালে তাঁর চোখ জোড়া ফুলে লাল হয়ে ওঠে। তখন তাঁকে দেখলে আমাদের ভয় লাগত। গোল গোল চোখ দু’টো পাকা লিচুর মতো দেখায়। তবে এখন আর ভয় লাগে না। তার অবশ্য একটা কারণ আছে।

এখন এইচএসসি পরীক্ষা চলছে। স্কুলে পরীক্ষা থাকলে ক্লাস সোয়া ৯টায় ছুটি হয়ে যায়। তারপর পুরোদিন ছুটি। একটু গলা বাড়ালেই বাসা থেকে স্কুল ঘরটি চোখে পড়ে। দশ মিনিটের পথ। পুরো ক্যাম্পাসে নানা রকম বনজ ও ফলদ গাছ। ক্যাম্পাসে কয়েক সারি নারকেল গাছ দাঁড়িয়ে আছে এবং ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অসংখ্য আম, কাঁঠাল, জাম, লিচু, পেঁপে ও পেয়ারা গাছ।

প্রতিদিনের মতো বাড়ি ফেরার সময় কাকা সেদিনও আমাকে এক থোকা লিচু ব্যাগে পুরে দেয়। প্রত্যেকদিন সে বাসায় ফেরার পথে আম, জাম, লিচু বা কিছু না কিছু আমাদের দেয়। কাকা কখনও পাকা পাকা ফলগুলো পেড়ে নিত, কখনও রাতের ঝরে পড়া আম ও লিচু আমাদের জন্য জমা করত। সে আমাদের অনেক প্রিয়; তাকে অনেকে আম কাকা, জাম কাকা, লিচু কাকা নানান নামে ডাকে। আজ তিন দিন ধরে তিনি নেই। আমরা দুই ভাই নিজেদের কথাবার্তায় তাকে লিচু কাকা বলি।

লিচু কাকার অনেক নামÑ ঘুড়ি কাকা, লাটিম কাকা; এ রকম কত নাম তার। ও-ই এই তল্লাটের একমাত্র ঘুড়ি নির্মাতা, একমাত্র লাটিম নির্মাতাÑতার বানানো ঘুড়ি সবার হাতে হাতে; ঘুড়িগুলো নানা আকৃতিরÑ ফড়িঙ ঘুড়ি, পাখি ঘুড়ি, মাছ ঘুড়ি, কুকুর ঘুড়ি, বাঘ ঘুড়ি, সিংহ ঘুড়ি। যে যে রকম চায় সে বানিয়ে দিত মুফতেÑ চোখের সামনে। তার ঘুড়ির কত বাহারি নাম! এক কথায় তাঁর লাটিমেরও জুড়ি নেই।

সকালে এক পশলা বৃষ্টি নামে। বিকেল ৩টার দিকে কাকা লিচু গাছ থেকে পড়ে গেল। ওরা এক সঙ্গে দু’জন গাছে ওঠেÑ দু’জনই পড়ে যায়। তারা এখন হাসাপাতালে। বৃষ্টির পানি শুকোবার আগে গাছে ওঠার জন্যই এমন হয়েছে। লিচু পাড়ার সময় বাঁশের কঞ্চি দিয়ে টান মারতে গিয়ে পিচ্ছিল গাছের সঙ্গে কাকা আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেনি। তার পড়ে যাবার দৃশ্য দেখতে গিয়ে হাশেমও পড়ে যায় নিমিষে। একরাত একদিন পর সে বাসায় ফিরেছেÑ কাকা এখনও ফিরেনি।

২.

আমরা সবে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে ফিরলাম। আব্বু তো আমাদের হাসপাতালে নিতে চায়নি। আমাদের জোড়াজুড়ি আর কাকার সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের গভীরতার কথা ভেবে শেষ পর্যন্ত আমাদের নিয়ে যায়।

গত তিন দিন ধরে বাইরের রক্ত দিয়েই তাঁকে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে। পেছনে ঘাড় ও মাথার অংশটি বেশ ফুলে আছে। সেদিন তিনি সরাসরি লিচু গাছ থেকে দেয়ালের ওপর পড়ে যান। মাথাটি দেয়ালে সাঁটা পেরেকে ফুঁড়ে চামড়া ছিঁড়ে যায়; প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়Ñ রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে ডাক্তারদের হিমশিম খেতে হয়। এখন অপারেশন জরুরী। আমরা দোয়া করছি যেন লিচুকাকা সুস্থ হয়ে ওঠেন।

৩.

তিন সপ্তাহ পর কাকা সকালে খাকি ড্রেস পরে কোয়ার্টারের গেটে দাঁড়িয়ে। আমাকে পেছন থেকে ডাক দিয়ে অনেকগুলো জাম ধরিয়ে দিলেন। আমি খুশিতে কাকাকে জড়িয়ে ধরলাম।

ভাবনায় বাবা দিবস

বন্ধুরা, তোমরা নিশ্চয়ই জানো, জুন মাসের তৃতীয় রবিবার বাবা দিবস। বাবাকে কিভাবে শুভেচ্ছা জানাবে তা নিশ্চয়ই তোমরা ভেবে রেখেছ। তোমাদের ভাবনায় যা আছে তা লিখে পাঠিয়ে দাওÑঝিলিমিলির ঠিকানায়। লেখা পাঠানোর শেষ সময় ১২ জুন, ২০১৫। সঙ্গে তোমার নাম, পাসপোর্ট সাইজের এক কপি ছবি, স্কুলের নাম, শ্রেণী, বাসার ঠিকানা, ফোন নম্বর পাঠাতে ভুল করবে না যেন! খামের ওপর লিখবেÑ

প্রকাশিত : ৬ জুন ২০১৫

০৬/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: