মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

৪০ লাখ কর্মীর ডাটা হ্যাকড

প্রকাশিত : ৬ জুন ২০১৫
  • ফেডারেল অফিসের কম্পিউটার সিস্টেমে সাইবার হামলা চালিয়েছে চীন ॥ যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ

চীনা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে হ্যাকাররা লাখ লাখ মার্কিন সরকারী কর্র্মীর ডাটা হ্যাক করে দেখেছেন বা চুরি করেছেন। মার্কিন কর্মকর্তারা বৃহস্পতিবার এ কথা জানান। অফিস অব পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট (ওপিএম) প্রায় ৪০ লাখ বর্তমান ও সাবেক ফেডারেলকর্মী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে। কর্মকর্তারা বলেন, প্রতিটি ফেডারেল এজেন্সির কর্মীদের ডাটা হ্যাকিংয়ের শিকারে পরিণত হয়ে থাকতে পারে। ওয়াশিংটনের চীনা দূতাবাস চট করে কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর বিরুদ্ধে সতর্ক করে দিয়েছে। দূতাবাসের মুখপাত্র ঝু হাইকোয়ান বলেন, ‘এসব অভিযোগ দায়িত্বজ্ঞানহীন ও ক্ষতিকারক।’ খবর বিবিসি ও ওয়াশিংটন পোস্ট অনলাইনের।

চীনা হ্যাকাররা ডিসেম্বর মাসে ওপিএমের কম্পিউটার সিস্টেমের ওপর হ্যাকিং চালিয়েছিলেন। এটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফেডারেলকর্মীদের ডাটা আড়াল থেকে দেখা বা চুরি করার সবচেয়ে বড় ঘটনা। এ নিয়ে এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে চীন একই সংস্থার কম্পিউটার সিস্টেমে দ্বিতীয়বারের মতো অনুপ্রবেশ করল। এটি সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিদেশী হ্যাকারদের মার্কিন সরকারের নেটওয়ার্কে অনুপ্রবেশ করার দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। গত বছর রাশিয়া সাইবার গুপ্তচরবৃত্তি চালাতে গিয়ে হোয়াইট হাউস ও পররাষ্ট্র দফতরের ই-মেইলগুলোতে অনুপ্রবেশ করেছিল।

নতুন নতুন হাতিয়ার ব্যবহার করে ওপিএম ঐ অনুপ্রবেশের ঘটনা এপ্রিল মাসে উদ্ঘাটন করে। সংস্থাটির কর্মকর্তারা এ কথা জানান। ঐ হ্যাকিংয়ের পেছনে কাদের হাত ছিল তা নিয়ে কর্মকর্তারা কথা বলতে চাননি।

অন্যান্য মার্কিন কর্মকর্তা চলমান তদন্তের উদ্ধৃতি দিয়ে হ্যাকারদের রাষ্ট্র নিযুক্ত বলে চিহ্নিত করেন।

প্রাইভেট সিকিউরিটি ফার্ম আইসাইট পার্টনার্স বলেছে, ফার্মটির স্বাস্থ্য বীমা কোম্পানি এ্যানথেমে যে সাইবার গুপ্তচর গ্রুপটি হ্যাকিং চালিয়েছিল, সেই গ্রুপটিই ওপিএমের কম্পিউটার সিস্টেমে অনুপ্রবেশ করে। এফবিআইয়ের সন্দেহ, ফেব্রুয়ারিতে উদ্ঘাটিত এ্যানথেমে অনুপ্রবেশও চীনা হ্যাকারদের কাজ। তদন্তের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা এ কথা জানান।

ওপিএমের কম্পিউটার সিস্টেমে অনুপ্রবেশ করে হ্যাকাররা কর্মীদের সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড নম্বর, পদের দায়দায়িত্ব, দক্ষতার রেটিং এবং প্রশিক্ষণ বিষয়ক তথ্য জানার সুযোগ পেয়েছিলেন। সংস্থার কর্মকর্তারা এ কথা জানান। কোন্ কোন্ ডাটা চুরি করা হয়েছিল বা হ্যাকাররা কোন্ কোন্ ডাটা কেবল দেখার সুযোগ পেয়েছিলেন, তা কর্মকর্তারা নিশ্চিতভাবে বলতে পারেননি। ওপিএম ফেডারেল সরকারের মানবসম্পদ বিভাগ হিসেবে কাজ করে। এটি ফেডারেল সরকারের সব কর্মীর রেকর্ডপত্র সংকলন করে থাকে।

সিনেট গোয়েন্দা কমিটির সদস্য সুসান কলিনস বলেন, হ্যাকাররা চীনে অবস্থান করেছিলেন বলে মনে করা হয়। আইনস্টাইন নামে পরিচিত এক নতুন সাইবার সিকিউরিটি সিস্টেমকে কাজে লাগিয়ে ওপিএম ২০১৫-এর এপ্রিলে ঐ সাইবার অনুপ্রবেশ উদ্ঘাটন করে। এফবিআই ঐ ঘটনার তদন্ত করছে বলে জানায়।

সাইবার সিকিউরিটি ফার্ম এক্সিডিয়ামের চীফ স্ট্যাটেজি অফিসার কেন এমন সতর্ক করে দেন যে, চুরি করা ডাটা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানার সুযোগ রয়েছে এমন ফেডারেলকর্মীদের প্রতারণা করতে বা ভয় দেখাতে কাজে লাগানো হতে পারে।

চীন এক বিশাল নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে থাকে। সম্প্রতি এক শ্বেতপত্রে বেজিং পিপলস লিবারেশন আর্মির ভেতর এক সাইবার ফোর্স গঠন ত্বরান্বিত করবে বলে জানায়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশের কম্পিউটার সিস্টেমকে লক্ষ্য করে যেসব সাইবার হামলা চালিয়ে থাকে, চীন তাদের অন্যতম। যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক মাসগুলোকে সাইবার হামলা নিয়ে ক্রমশ কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে এসেছে। ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি ও ইউএস সাইবার কমান্ডের প্রধান এ্যাডমিরাল মাইকেল রজার্স বলেন, প্রচলিত অস্ত্র নিয়ে ভবিষ্যতে সাইবার হামলার জবাব দেয়া হতে পারে।

প্রকাশিত : ৬ জুন ২০১৫

০৬/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

বিদেশের খবর



ব্রেকিং নিউজ: