হালকা কুয়াশা, তাপমাত্রা ১৮.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

গুচ্ছ কবিতা মোহাম্মদ রফিক

প্রকাশিত : ৫ জুন ২০১৫
  • মাগো, মা

মাগো, তবে কাদের বাড়ির খুদে

ভরে উঠল ভাঙাথালা

কান্নায়, চিৎকারে

মাগো, তবে কাদের ঘরের ত্যানা

আমাকে জড়িয়ে নিল

রক্তহিম সরোবরে

মাগো, তবে কাদের গ্যাঁজালো পান্তা-

পেটের ভিতরে ঢুঁড়ছে

বেদম হাত পা

মাগো, মা কাদের সোহাগে ঘেন্নায়

ভিড়মি খেতে খেতে যেন

ফুল ফুটছে তারা ডাকছে

শরীরের কন্দরে কন্দরে ক্ষত ফাটছে

যেন মসলা পিষে পিষে কেউ

মাগো, ধুয়ে ফেলছে পাটা।

মা

মাগো আমার মা

তোমার আঁচলখানি

উড়ে গেছে

সাত-সমুদ্র পারে

তুমি এখন

শুয়ে আছে বুকের গহ্বরে

মাটির পাঁজর

কথা বলে

আর্দ্র কণ্ঠস্বরে

বাবা তোরা কেমন আছিস

ভাত খেয়েছিস তো!

মাগো আমার মা

তোমার ঘুমের মধ্যে

পরী খেলা করে

উড়ন্ত ডানায়

তারা সবাই

তৃণগুচ্ছ স্বরে

দখিন হাওয়ায়

বলে তীব্রস্নেহে

দেখে শুনে চলিস বাবা

পা ফেলবি সাবধানে

তোমার ফের ঘুম ভাঙবে কবে

আশঙ্কা

প্রাণখুলে কথা বলছো, বলো

শুধু জেনে রাখো

তোমার পিছনে ঘাপটি মেরে

অদৃশ্য ঘাতক অপেক্ষায়

সুযোগ পেলেই

বিচ্ছিন্ন মস্তক, কথা, বাক্য, শব্দ লুটাবে ধুলোয়!

শীত

শীত, শীত

দু’হাঁটুতে সিঁধিয়েছে মৃত্যুভীতি

মনে লয়

আসন্ন বিলয়

সর্বমানুষের

দ্যাখ,

ন্যাড়া কঞ্চিতে ধরেছে ফুল

পূর্ণিমার।

দৃশ্যান্তর

বড়শি গেঁথে মাছ; মাছ, বড়শি বাঁ বগলে

একাকী বালক ফিরে চলল ঘর

শ্রাবণসন্ধ্যার মুখোমুখি;

পিছে পড়ে রইল মাঠ, নিস্তব্ধ পুকুর,

গ্রাম-গ্রামান্তরে বয়ে-যাওয়া পথ,

বিরল জন্মের আমন্ত্রণ!

কাহিনি

শেষ-বিদায়ের বেলা

বলেছিলে মৃদু হেসে, যাই

দেখা হবে পুনরায় কোনো-এক

ক্রান্তিকালে, দুই চোখ বেয়ে

চিকচিক করেছিল জলরেখা,

তোমার হাসির ধ্বনি মিলিয়ে গিয়েছে

কালক্রমে সমুদু-পর্বতে,

শুধুমাত্র জলরেখা বেঁচে আছে বালিয়াড়ি ছুঁয়ে!

চাওয়া-পাওয়া

কেউ তো মরে নি আজও, মানুষ মরে না;

একদিন যারা হয়েছিল

অগ্নিদগ্ধ ঘর পইঠা, রক্তের ফোয়ারা

ছিন্নভিন্ন মানুষের লাশ, কুকুরের

মুখে হাড়, দুর্গন্ধে পচনে ফেঁস গেছে

জলাঙ্গির মাতামুহুরির স্রোত;

তারা ফের জেগে ওঠে কাদা ভেঙে

মাটি ফুঁড়ে, বলে, চাই বাঁচার মহিমা

এই শেষ অঙ্গীকার রেখে যাই

তোমাদের কাছে!

প্রকাশিত : ৫ জুন ২০১৫

০৫/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: